মাংস রপ্তানিতে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সানশাইন ডেস্ক: দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে পশুর মাংস রপ্তানি করতে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “পৃথিবীর অনেক দেশ হালাল মাংস নিতে চায়, সেই সুযোগটা আমাদের নিতে হবে। আর সেই সুযোগটা নিতে হলে আমাদের প্রাণিসম্পদ, পশুপাখি সেগুলোকে কীভাবে লালন পালন করছি, জবাই করা হচ্ছে, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে করা হচ্ছে কিনা, বিদেশে রপ্তানি করতে গেলে তাদের কতগুলো নিয়ম আছে, সেগুলো আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।”
তাহলেই দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে মাংস রপ্তানি করা যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, “সেই সুযোগ আমাদের আছে, অনেক দেশ থেকে অনুরোধও পাচ্ছি।” বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন সরকারপ্রধান।
স্বাস্থ্যসম্মতভাবে হাঁস-মুরগি-পশু পালন এবং উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণে আরও যত্নবান হওয়ার তাগিদ দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে, তখন লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ কারো কাছে হাত পেতে চলবে না। উৎপাদন বাড়াতে সে সময় থেকেই কাজ শুরু করে সরকার।
“পার্লামেন্টে যেদিন আমি ঘোষণা দিলাম যে বাংলাদেশ আজ থেকে খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণ, সেই দিন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বিরোধী দলের চেয়ারে বসা, সেদিন সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান চেয়ার থেকে উঠে বলল, খাদ্যে সয়ংসম্পর্ণ হওয়া ভালো না, তাহলে সাহায্য পাওয়া যাবে না। তাদের চিন্তা ভাবনাটা ছিল, আমরা প্রতিনিয়ত অন্যের দিকে হাত পেতে থাকব, আর ভিক্ষা করে খাবার এনে খাব।
“যেখানে জাতির পিতা বলে গেছেন, আমাদের মাটি আছে সোনার মাটি, আমরা ফসল ফলাব। ২৬ লক্ষ মেট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে গেছি, সেখানে ২০০৯ সালে খাদ্য ঘাটতি ২৬ রক্ষ্য মেট্রিক টনের চেয়ে বেশি হয়েছে। এরপর আবার দায়িত্ব নিয়ে দেশকে এই অবস্থায় পৌছেছি।” বাংলাদেশ যে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে, সে কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের গণমানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
“আমাদের প্রথম লক্ষ্য হল খাদ্য নিরাপত্তা দেওয়া, দ্বিতীয় পুষ্টির নিশ্চয়তা দেওয়া। এখন আমরা সেই পদক্ষেপই হাতে নিয়েছি।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার চাইছে দেশের উন্নয়নে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসুক। “আমি বেসরকারি খাতকে উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে চাই, কর্মসংস্থান বাড়ুক এটাই চাই। শুধু পাস করে একটা চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করুক।”
উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “প্রথমবার সরকারে এসে যারা নতুন উদ্যোক্তা তাদের বিনা জামনতে ঋণ দেওয়া শুরু করি, কর্মসংস্থান ব্যাংক করি, এর মাধ্যমে ঋণ দেওয়া শুরু করি। যুব সমাজকে উৎসাহিত করি এবং তাদের আধুনিক প্রযুক্তি শেখার ব্যবস্থা দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছিলাম এবং পুষ্টির জন্য মাস, মাংস, দুধ, ডিম উৎপদনে ব্যাপকভাবে পদক্ষেপ নিই।”
দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনের যে পরিস্থিতি, তাতে স্বস্তি প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, “৯০ ভাগ পেঁয়াজ আমাদের আনতে হত ভারত থেকে, সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিলাম ভারতের উপর। ভোজ্য তেল আনতে হত বিদেশ থেকে। তবে ভালো খবর হল, আমাদের গবেষণার মধ্য দিয়ে সর্ষের উন্নত জাত নিয়ে আসা হয়েছে। সর্ষের উৎপাদন ভালো হচ্ছে, সেই সাথে সাথে চালের কুড়া এবং তুষ থেকে যে তেলাটা হয়, সেটাও উৎপাদন হচ্ছে, তিলের তেল হচ্ছে।
“আর পেঁয়াজ নিয়ে যখন এত ঝামেলা, আমি বললাম পেঁয়াজ আমরা উৎপাদন করতে পারব না কেন। আজকে ৪০ ভাগ পেয়াজ আমরা নিজেরা উৎপাদন করতে পারি। কাজেই এটার উপর গবেষণাও চলছে, আমরা কারও কাছে মুখাপেক্ষী হয়ে থাকব না। আমাদের কিন্তু চলতে হবে। ইতোমধ্যে দেশের মানুষ সবকিছু পাচ্ছে কিনা সেটা হলে বিষয়।” বক্তব্য শেষে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী ২০২৪ এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২৪ | সময়: ৫:০৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ