মাহে রমজান

সানশাইন ডেস্ক : মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তার অশেষ নিয়ামতের মাস ‘মাহে রমজান’ দান করেছেন। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর নিয়ামতে সিক্ত। এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে, যা আল্লাহর ঘোষণায় হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম মর্যাদাপূর্ণ রাত ‘লাইলাতুল কদর’।
কদরের মহিমান্বি^ত এই রাতে আল্লাহ মানুষকে সত্য পথ দেখানোর জন্য পথ নির্দেশক, হক ও বাতিলের পৃথককরণের জন্য স্পষ্ট প্রমাণাদি রূপে নাজিল করেছেন পবিত্র কোরআন। বরকতপূর্ণ রমজানের নিয়ামতরাজি এখানেই শেষ নয়, রমজানের পুরোটা মাস আমাদের ওপর রোজার জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত তার কালামে পাকে বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে এই মাসটি প্রত্যক্ষ করবে সে অবশ্যই এ মাসে রোজা পালন করবে’। মাহে রমজানের শ্রেষ্ঠত্ব এবং বরকতপূর্ণ মর্যাদা এখানেই। এ মাস পবিত্র কোরআন নাজিলের মাস। এ মাস হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম কদরের রাতকে ধারণ করে আছে। সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ দান এ মাস। পবিত্র রমজানের ইবাদত আল্লাহর কাছে মকবুল ইবাদতরূপে গণ্য। আল্লাহর দরবারে এ মাসের ইবাদতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে রমজানের রোজা হলো বান্দার আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের সেতুবন্ধন স্বরূপ।
হাদিস শরীফে এসেছে, ‘রোজা আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার ঢাল বিশেষ।’ এই আগুন আল্লাহর মহাক্রোধের আগুন দোজখ নামক ভয়াবহ নিকৃষ্ঠতম যন্ত্রণার আগুন। রোজাদারদের রোজা ভয়াল এই আগুনের বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করে। হাদিস শরীফে আরো এসেছে, ‘রমজান মাসে বেহেশতের যাবতীয় কপাট খুলে দেওয়া হয়, দোজখের দরজাগুলো বন্ধ রাখা হয় এবং শয়তানকে শেকল দিয়ে গলায় বেড়ি পরিয়ে বন্দি করে রাখা হয়।’ তাই রমজান জান্নাত প্রত্যাশিত মুমিন বান্দাদেরই মাস। অভিশপ্ত শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্ত খোদাভীরু পরহেজগার বান্দাদের জন্যই মাহে রমজান। মুনাফিক ও মুমিনের মধ্যে পৃথক রেখা টেনে দেয় এই মাস। মহান আল্লাহ বলেছেন, আলিফ লাম মিম, ‘লোকেরা কী ধারণা পোষণ করে যে, ঈমান এনেছি বললেই তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হবে আর তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না? নিশ্চয়ই তাদের পূর্ববর্তীদের পরীক্ষা করেছি।’


প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৪ | সময়: ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ