রাবিতে জন্ডিস প্রতিরোধে আলোচনা ও সচেতনতামূলক র‌্যালি

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ফার্মেসী বিভাগের আয়োজনে জন্ডিস প্রতিরোধে আলোচনা ও সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া একাডেমিক ভবনে অবস্থিত প্রকৌশল অনুষদের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা শেষে এই র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এসময় আশেপাশে থাকা বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে জন্ডিস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করা হয়।
র‌্যালির পূর্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর। অনুষ্ঠানে ফার্মেসী বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আজিজ আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ বলেন, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এক বছরে আমার কর্মজীবনে রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি লোক জন্ডিস আক্রান্ত হয়েছে। আমাদের দেশে জন্ডিসের চিকিৎসার বিষয়ে কিছু মিথ আছে। আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে দূরে আছে এমন মানুষ ছাড়াও শিক্ষিত মানুষের মধ্যে ও শহুরে শিক্ষক মানুষের মধ্যেও এই মিথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এ ধরনের মিথ অনুযায়ী চিকিৎসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব মিথ পরিহার করা একান্ত প্রয়োজন। লক্ষ্য করা যাচ্ছে বর্তমানে হেপাটাইটিস এ ভাইরাস মহামারীর ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এখনই আমাদের এই ঝুঁকির বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে।
তিনি বলেন, হেপাটাইটিস এ বা জন্ডিস সংক্রমণের অন্যতম কারণ হচ্ছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না ও রান্না করা খাবারে জীবাণুর সংক্রমণ, খাবার পানির মাধ্যমেও এই সংক্রমণ ঘটে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে ভালোভাবে হাত ধোয়া, বাসনপত্র পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, মানসম্মত পরিবেশে খাবার রান্না ও তা খাওয়া, বিশুদ্ধ পানি পান করা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ইত্যাদি। জন্ডিস সাধারণ তিন চার সপ্তাহেই ভালো হয়। তবে সব জন্ডিসই এভাবে ভালো হয় না। এজন্য প্রয়োজন আরো উন্নততর চিকিৎসা। বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলোতে জন্ডিসের চিকিৎসা ও হেপাটাইটিস এ রোগীদের ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মহামারি না হলেও জন্ডিসের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে যে বিশুদ্ধ পানির অভাব ও পানিতে দুষণ থাকার কারণে জন্ডিসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জন্ডিসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। ইতিমধ্যেই সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জন্ডিস শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় এটা রাজশাহীর সমস্যা। এসময় তিনি বর্তমান সময়ে জন্ডিসের প্রাদুর্ভাবের সঠিক কারণ নির্ণয় ও তা রোধে প্রয়োজনীয় গবেষণার জন্য ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম, উপ-উপচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক হুমায়ুন কবীরসহ ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক মামুনুর রশিদ ও অধ্যাপক ড. শাহনাজ পারভীন।
এসময় ফার্মেসী ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ, ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদ, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে, ইনসেপ্টা ফার্মাসিটিক্যালস লি. এর সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার-ভ্যাকসিন মাসুদ রানা ভূইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৪ | সময়: ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ