সর্বশেষ সংবাদ :

সংযোগ কাটতে বাঁধার জেরে বিদ্যুৎহীন বাগমারায় গাঙ্গোপাড়া বাজার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের গাঙ্গাপাড়া বাজার আলোকায়নের বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করতে বাধা দেয়ার জেরে মামলার আসামি হয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় লোকজন। গত সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির-১ লোকজন বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করতে গেলে স্থানীয়রা তাদের বাধা দেয়।
ওই ঘটনার পর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সহকারী হিসাব রক্ষক মাসুম রানা বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্ল্যেখ করে অজ্ঞাত ২৮ জনের নামের থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। শুধু মামলা দায়েরই নাই, ওই মামলায় যারা আসামী রয়েছেন তাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মিটারও খুলে নিয়ে গেছে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন। ফলে তারা অন্ধকারে রয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজনের এমন কর্মকান্ডে হতভাগ হয়েছেন এলাকার সচেতন মানুষ।
বাগমারা থানায় দায়ের করা মামলা ও এলাকার লোকজন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে গাঙ্গোপাড়া বাজার আলোকিত করণের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। সে সময় নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ-১ এর ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ পল্লী বিদ্যুতের উবর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বাজার আলিকিত করতে চারটি লাইট ও তাতে বিদ্যুত সংযোগ দেয়। তখন থেকে অদ্যবদি ওই বাজারে আলোকিত হয়ে আসছে পল্লীবিদ্যুৎ বিভাগের দেয়া বিদ্যুৎ সংযোগে। দীর্ঘ নয় বছর পর সেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আসে তারা। যেহেতু স্থানীয় এমপি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা এই সংযোগ দিয়ে গেছেন সে বিষয়টি তুলে ধরে স্থানীয় লোকজন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাধা দেয়।
বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় যারা জড়িত ছিলেন না তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশী হয়রানী করা হচ্ছে। শুধু মামলা দিয়ে নয় বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ থাকার পরেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর লোকজন জোর পূর্বক বেশ কিছু গ্রাহকের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করে মিটার খুলে নিয়ে গেছে। এমনকি বাজার সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান ঘটনার সময় না থাকলেও তাকেও মামলা আসামী করা হয়েছে এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির মিটার খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের পরিবার এখন অন্ধকারের মধ্যে বসবাস করছে। অবিলম্বে এ বিষয়টি দেখার জন্য স্থানীয় সাংসদসহ বিদ্যুৎ বিভাগ ও সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন শহীদুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার মিনারুল ইসলাম বলেন, অবৈধ সংযোগ বিছিন্ন করতে গেলে এলাকার লোকজন আমাদের লোকজনকে মারধর করে। যার কারণে ১৩ জনের নামে থানায় একটি মামলা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিছিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ আইনে বলা আছে যারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকবে তাদের বাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই সকল ব্যক্তিদের বাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিছিন্ন করা হয়েছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত না থাকলে তদন্তের পর মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।


প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৩ | সময়: ৪:০০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ