রামপালের সৌর বিদ্যুৎ সরকার কিনবে ১১ টাকা ৬৭ পয়সা দরে

সানশাইন ডেস্ক: বাগেরহাটের রামপালে ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দেশের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট ঘণ্টা) বিদ্যুৎ সরকার কিনবে ১১ টাকা ৬৭ পয়সা দরে। বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিদ্যুৎ কেনার এই ট্যারিফ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
ওই সভার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সৌদি আরবের অ্যাকোয়া পাওয়ার কোম্পানি বেসরকারি খাতে বিওও ভিত্তিতে এই সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ওই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে নেবে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং পিইসির মাধ্যমে প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে স্পন্সর কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে সৌদি কোম্পানিকে এই কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, ওই সৌদি কোম্পানির সঙ্গে ২০ বছর মেয়াদে ‘নো ইলেক্ট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে চুক্তি করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সভায়। প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ১১ দশমিক ৬৭ টাকা দরে ২০ বছরে ওই কোম্পানিকে আনুমানিক ১০ হাজার ৭৬১ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছেই এ সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ৪৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে অ্যাকোয়া পাওয়ার কোম্পানি। বাংলাদেশি কোম্পানি কমফিট কম্পোজিট নিট লিমিটেডে এবং ভিয়েলাটেক্স স্পিনিং লিমিটেডও এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে। অতিরিক্ত সচিব জানান, এদিন বৈঠকে ১১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের মোট আটটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় টিসিবির জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৪০ লাখ লিটার রাইস ব্র্যান তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মজুমদার ব্র্যান অয়েল মিলস লিমিটেড ৬৪ কোটি ৬০ লাখ টাকায় ওই তেল সরবরাহ করবে। তাতে প্রতি লিটার রাইস ব্র্যান তেলের দাম পড়বে ১৬১ টাকা ৫০ পয়সা। আগের কেনাকাটায় দাম পড়েছিল ১৬৯ টাকা ২৫ পয়সা। সাঈদ মাহবুব খান জানান, আরেক প্রস্তাবের আওতায় টিসিবির জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৬ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। নাবিল নাবা ফুডস লিমিটেড ৫৭ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ডাল সরবরাহ করবে।
তাতে প্রতি কেজি ডালের দাম পড়বে ৯৫ টাকা ৯ পয়সা। আগের কেনাকাটায় দাম ছিল ৯৪ টাকা ৪৪ পয়সা। অর্থাৎ আগের চেয়ে এবার কিছুটা বেশি দামে মশুর ডাল কেনা হচ্ছে। স্বল্প আয়ের ১ কোটি কার্ডধারী মানুষের কাছে কম মূল্যে বিক্রি করতে টিসিবির জন্য এই তেল ও মসুর ডাল কেনা হচ্ছে বলে জানান অতিরিক্ত সচিব। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডের (টিএসপিসিএল) জন্য ২৫ হাজার মেট্রিক টন রক ফসফেট আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।
সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ঢাকার মেসার্স অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনপুট ওই রক ফসফেট সরবরাহ করবে। তাতে ব্যয় হবে ৮৯ লাখ ৭৫ হাজার ডলার; অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৭ কোটি ৮২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রতি টনের দাম পড়বে ৩৫৯ ডলার। চট্টগ্রামের টিএসপিসিএল এর জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড আমদানির একটি প্রস্তাবও এদিন অনুমোদন পেয়েছে।
ডিএপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক এসিড বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ১০ হাজার টন ফসফরিক এসিড আমদানির জন্য উম্মুক্ত পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। তাতে মাত্র দুটি দর প্রস্তাব জমা পড়ে। দুটি দরপত্রই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতা মেসার্স বেস্ট ইস্টার্নকে ওই ফসফরিক এসিড সরবরাহের কাজটি দেওয়া হয়।
প্রতি টন ফসফরিক এসিডের দাম পড়বে ৫৪০ ডলার। সব মিলিয়ে ব্যয় হবে ৫৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতার থেকে প্রথম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানির একটি প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৩৯৭ দশমিক ৩৩ ডলার। প্রথম লটে ৩০ হাজার টন বাল্ক প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় হবে এক কোটি ১৯ লাখ ১৯ হাজার ৯০০ ডলার; অর্থাৎ, বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩০ কোটি ৫২ লাখ ২৯ হাজার ৫০ টাকা।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, বৈঠকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতার থেকে দ্বিতীয় লটে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির আরেকটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। কাতারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী প্রতি টন ৩৯৯ দশমিক ১৭ মার্কিন ডলার দরে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে এক কোটি ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার বা ১৩১ কোটি ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫০ টাকা।
এছাড়াও বৈঠকে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশের কাছ থেকে তৃতীয় লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। কাফকোর সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি টন ৩৯৩ দশমিক ২৫ ডলার হিসেবে মোট ব্যয় হবে ১ কোটি ১৭ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ ডলার বা ১২৯ কোটি ১৮ লাখ ২৬ হাজার ২৫০ টাকা।


প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৩ | সময়: ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ