কেশরহাটে বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর ওয়ারিশদের সম্পত্তি আত্মসাত!

মোহনপুর প্রতিনিধি:
মোহনপুরের কেশরহাট পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড বাকশৈল গ্রামে আপন ভায়ের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশদের সম্পত্তির ভাগ দিচ্ছেনা গার্মেন্টস ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম। স্থানীয় বৈঠকে মিমাংসা হলেও মানতে নারাজ রবিউল। এঘটনায় স্থানীয় ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে রবিউলের দোকানঘরসহ তার ভাবি ও ভাস্তিদের দোকানেও তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদককে চাবি হস্তান্তর করা হয়।

 

 

 

এরপরে আদালতে মামলার প্রেক্ষিতে ১৪৪ ধারি জারির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় ও ভুক্তভুগির পরিবার সূত্রে জানা যায়, রবিউলের বড় ভাই আব্দুর রহিম চার বছর আগে মারা যায়। মৃত্যুর পর আব্দুর রহিমের ওয়ারিশ স্ত্রী ফিরোজা বেগম, বড় মেয়ে পারভিন খাতুন, মেজ মেয়ে শহিদা খাতুন, ছোট মেয়ে বিউটি খাতুন বাবার সম্পতি থেকে বঞ্চিত থাকেন। তারা কেশরহাট বাজারের ৫টি দোকান ঘরের অংশসহ বসতভিটার জমির অংশের ভাগ চাইলে নানা ভাবে টালবাহানা করেন রবিউল। আব্দুর রহিমের স্ত্রী ও মেয়েরা স্থানীয় গর্ণমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সম্পতির ভাগ বুঝিয়া চাওয়ার পর রবিউল তাদের কোন প্রকার পাত্তা না দিয়ে নানান ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে থাকেন।

 

 

 

 

বিষয়টি সমাধান এনে সম্পতির ভাগ বাটোয়ারা করে শান্তিতে বসবাস করতে স্থানীয়ভাবে মিমাংসা হয়। মিমাংসার আগে মেনে নেয়ার জন্য রবিউল আপোষনামায় সাক্ষর করলেও বৈঠক শেষে স্থানীয়দের রায় মানেননা। পরদিন সকালেই তিনি ভাবি ও ভাস্তিদের দোকানঘরের তালা ভেঙ্গে ফের দখলে নেন। পরবর্তীতে উল্টো ভাবি ও ভাস্তিদের নামে থানায় লুটপাটের অভিযোগ করে নিজেই থানা থানা থেকে পালিয়ে যান। এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। যেকোনো মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শংকা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রবিউল ও মৃত রহিম আপন দুইভাই। রহিমের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও তিন মেয়েকে সম্পত্তির ভাগ দিচ্ছেননা রবিউল। এমনকি এ নিয়ে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা হলেও মানছেননা রবিউল ইসলাম। এতে তীব্র নিন্দা জানান ব্যবসায়ীরা।

 

 

 

 

 

স্থানীয়ভাবে মিমাংসার একটি লিখিতপত্র অনুয়ায়ী জানা গেছে, মোট জায়গা ভাগাভাগি বা বন্টন করে লিখিত করা হয়। সেখানে বোর্ডের সর্বসম্মতিক্রমে রবিউলের ভাবি ও ভাস্তিদের অংশ বুঝিয়ে দেয়া হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বিষয়ে রবিউল ইসলাম বলেন, দোকান ঘরের জায়গা আমার নামে ডিড করা আছে। তাছাড়া আমার নামে ডিসিআর করা আছে। আমি এই জায়গার নিয়মিত খাঁজনা প্রদান করে আসছি। আমার ভাবি ও ভাস্তিদের জায়গার প্রয়োজন হলে তাদেরকে বিলের জমির অংশ দেয়া হবে। কিন্তু বাজারের জায়গার অংশ তাদেরকে দেয়া হবেনা। স্থানীয় মিমাংসায় অংশ নেয়া বিচারক মো: রুস্তম আলী প্রামাণিক বলেন, জায়গার অংশ পাবে রবিউলের ভাবি ও ভাস্তিরা। সে অনুযায়ী বোর্ড দিয়ে মিমাংসা করে ভাবি ও ভাস্তিদের অংশের জায়গা বুঝিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু রবিউল মিমাংসা মেনে সাক্ষর করলেও পরদিন সকালেই সে ফের জায়গা দখলে নিয়ে চরম অন্যায় করেছে।

সানশাইন/সোহরাব


প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৩ | সময়: ৯:৪০ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine