তানোরে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দল গোছাচ্ছে বিভক্ত বিএনপি

তানোর প্রতিনিধি :
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজশাহীর তানোরে তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছাচ্ছে বিভক্ত বিএনপি। মূলত একাধিক নাশকতা মামলার আসামী প্রয়াত মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ভাগ্নে ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন অনুসারী সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বেই আবারও সক্রিয় উঠছে দলটির ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীরা।

 

 

অপরদিকে, অবশরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ও বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক সামরিক সচিব শরিফ উদ্দিন অনুসারী তানোর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি এমএ মালেকের নেতৃত্বে ফের ঘুরে দাড়িয়েছে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠন নেতৃবৃন্দ।

 

 

 

দলীয় সূত্রমতে, তানোরে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অতীতের সকল ভেদাভেদ ভুলে সংগঠিত হওয়ায় বিএনপির অবস্থান এলাকায় ক্রমেই সু-সংহত হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন, জাতীয় সংসদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর তানোরে তেমন ছিল না বিএনপির কার্যক্রম। কিন্তু তত্ত্ববধায়ক সরকার অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিএনপির আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে তানোরে বিএনপি পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে। এছাড়াও প্রশাসন ম্যানেজ করে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রায় দিন পৃথক সভা সমাবেশ ও মিছিল মিটিং করছেন বিভক্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা।

 

 

 

 

 

এদের মধ্যে নেতৃত্বে রয়েছেন, তানোর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক খাঁন, একাধিক নাশকতা মামলার আসামী সাবেক মেয়র মিজান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদের আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, তানোর বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এমএ মালেক, তানোর পৌর সে”ছাসেবক দলের আহবায়ক মাহবুর মোল্লা, মুন্ডুমালা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মোজাম্মেল হক, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ কবির, তানোর পৌর বিএনপির সভাপতি একরাম মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জুল হোসেন তোফা, বিএনপি নেতা ঠিকাদার ইয়াসিন আলী ও আতিকুর রহমান লিটন ছাড়াও তানোর পৌরসভার জিওল-চাঁদপুর মহল্লার বাসিন্দা বিএনপি নেতা আলতাব হোসেন, হাবিবুর রহমান, মিনারুল ইসলাম, ও রবিউল ইসলাম রুবেল গত শুক্রবার বৃষ্টির মধ্যেও কয়েকশ মটরসাইকেল শোডাউনে শ্লোগানে মেয়র মিজানকে নওহাটা বিমানবন্দর থেকে তানোরে লিফ দিয়ে নিয়ে আসেন।

 

 

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও তানোর বিএনপির কর্ণধর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান ছাড়াও বেশ কয়েকজন বিএনপির নেতাকে সম্প্রতি ২৭ জুলাই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির এক বাসভবন থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। ১০ দিন ঢাকার কেরানীগঞ্জে কারাভোগ করে গত ৬ আগস্ট রোববার ঢাকার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন মিজান। পরদিন সোমবার জেল থেকে বের হন তিনি। পরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রক্ষা করে গত শুক্রবারে ঢাকা থেকে বিমানে রাজশাহীর নওহাটা বিমান মন্দরে আসেন। সেখান থেকে বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল বহরে মিজানকে গোল্লাপাড়া বাজারস্থ বরেন্দ্র ভবন দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে আসেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

 

 

 

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই শুক্রবারে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ যোগ দেবার জন্য মিজানসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ঢাকার ধানমন্ডির এক বাসায় উঠেন। সেখানে রাতে ডিবি পুলিশের অভিযানে মিজানসহ অন্যদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়। পরে কেরানিগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে কয়েকশ নেতাকর্মীর মটরসাইকেল শোডাউন দেন।

 

 

এবিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এমএ মালেক বলেন, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরাজমান মানঅভিমান ও ঐক্যর প্রশ্নে বরফ গলছে। নতুন নেতৃত্বে ফের ঘুরে দাড়িয়েছে বিএনপি। কেন্দ্রেরে নির্দেশ মতে আমাদের কর্মসূচি অব্যহত রয়েছে। এব্যাপারে মিজানুর রহমান মিজান বলেন, তত্ত্ববধায়ক সরকার অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিএনপির আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে তানোরে বিএনপি পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে। আন্দোলন-কর্মসূচী অব্যহত রয়েছে।

সানশাইন/সোহরাব


প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৩ | সময়: ৪:২৬ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine