ছেলের কিডনি বিক্রি না করায় মাকে নির্যাতনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে ছেলের কিডনি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় এক নারীকে তাঁর স্বামী বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিল্পী বেগম নামের এই নারী শনিবার দুপুরে নগরীর রেলগেট এলাকায় তাঁর ভাইয়ের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন। আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে বোয়ালিয়া থানায় তিনি একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
এই নারীর স্বামীর নাম রওশন আলী খান (৬২)। তাঁর চতুর্থ স্ত্রী শিল্পী বেগম। রওশন আলী নগরীর দাসপুকুর এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি নগরীর জাহাজঘাট এলাকায় বসবাস করেন। ঈদের আগে শিল্পী বেগমকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে তিনি নগরীর পাঁচানিমাঠ এলাকায় মায়ের বাড়িতে থাকছেন। এই বাড়িতে গিয়েও শুক্রবার সন্ধ্যায় রওশন আলী খান তাকে মারধর করেছেন বলে শিল্পী বেগম অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিল্পী আরো বেগম বলেন, ১১ বছর আগে রওশনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। রওশন আকুপাঙ্কচার চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তিনি এই চিকিৎসা দিতে গিয়ে এক শিল্পপতির দুটি কিডনিই নষ্ট করে দিয়েছেন। এখন ঐ শিল্পপতি তাকে কিডনি জোগাড় করে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। টাকার লোভ দেখাচ্ছেন। এ জন্য রওশন তাঁর স্ত্রীর আগের পক্ষের সন্তান অন্তর আলীর (২৪) একটি কিডনি দিতে চাচ্ছেন। এতে রাজি না হওয়ায় নির্যাতন করছেন। সম্প্রতি তার মায়ের দেওয়া সব স্বর্ণালঙ্কার খুলে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন তার স্বামী।
শিল্পী দাবি করেন, আকুপাঙ্কচার প্রশিক্ষণের জাল সনদ নিয়ে নগরীর বর্নালী মোড়ে চেম্বার খুলে আকুপাঙ্কচার চিকিৎসা দেন রওশন আলী খান। তার অপচিকিৎসায় অনেকেই শারীরীক নানা সমস্যায় পড়েন। এ কারণে ঐ শিল্পপতির কিডনি নষ্ট হয়েছে। এখন ঐ শিল্পপতির জন্য কিডনি না দিলে শিল্পীকে সংসারে নেবেন না বলে রওশন জানিয়ে দিয়েছেন। ছেলের কিডনি না দেওয়ার কারণে শিল্পীর সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। এ জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে স্বামী রওশন আলী খানকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি থানায় ছিলেন না। অভিযোগটি এখনও তিনি দেখেনি। দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ বর্মকর্তা।
এদিকে শিল্পী বেগমের তোলা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রওশন আলী খান। তিনি বলেন, ‘কিডনি বিক্রি করার চেষ্টার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তারা মা ও ছেলে নেশাগ্রস্ত। ফার্মেসী থেকে নেশা করার ওষুধ কিনে খায়। অনেক টাকা বাকি করেছে। ওষুধের দোকানদার বাড়ি পর্যন্ত টাকা চাইতে আসে। আমার মানসম্মান যাচ্ছে। তাই শাসন করা হয়েছে।’ জাল সনদে আকুপাঙ্কচার চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলোর তো সরকারী কোন মেডিকেল কলেজ শিক্ষা দেয় না। একটা সংস্থা প্রশিক্ষণ দেয়, তারপর সনদ দেয়। আমার সেটাই আছে। কেউ সেটা জাল বললে এখন যাচাই করে দেখতে হবে।’


প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৩ | সময়: ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ