সর্বশেষ সংবাদ :

রাত পোহালেই রাজশাহী সিটিতে ভোট : জনপ্রিয়তার সিন্ধুতে লিটন বিন্দুতে অন্যরা

স্টাফ রিপোর্টার: রাত পোহালেই ভোট। ইতোমধ্যেই নগরবাসীর কাছে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে আছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সমস্য ও রাজশাহী মহানগরীর সাবেক সফল মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বিগত সময়ে রাজশাহী মহানগরজুড়ে লাগাতার উন্নয়ন কর্মযোজ্ঞ নগরবাসীর কাছে তাকে এতো জনপ্রিয় করে তুলেছে। তাই তো ভোটের ঠিক আগ মুহুর্তে অন্য প্রতিযোগিদের তুলনায় মেয়র প্রার্থী লিটনের জনপ্রিয়তা দৃষ্টিসীমার দুর পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। সব জায়গায় সাধারণ ভোটারদের মুখে মুখে আলোচনায় মেয়র প্রার্থী লিটন।
নির্বাচন নিজে নগরীর সব জায়গায় এখন আলোচনা। চায়ের স্টল থেকে শুরু করে বাড়ির ডায়নিং টেবিলেও চলছে ভোটের আলোচনা। আলোচনায় কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে নানান হিসাব-নিকাশ থাকলেও মেয়র প্রার্থী নিয়ে তা মোটেও নেই। কোন কাউন্সিলর ভালো বা কে মন্দ। কাকে ভোট দিলে পাশে পাওয়া যাবে, কাকে বিপদে পাশে পাওয়া যাবে। এমন হিসাব-নিকাশ নিয়ে নগরবাসীরা ব্যস্ত। চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। কিন্তু মেয়র প্রার্থী নিয়ে নেই কোন আলোচনা। নগরবাসীর মধ্যে নেই কোন বিশ্লেষন। মেয়র প্রার্থী লিটনের পক্ষে গণজোয়ার উঠেছে।
সাধারণ ভোটারদের অনেকের মত, মেয়র প্রার্থী হিসেবে মেয়র প্রার্থী লিটনের বিপরীতে কোন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি ছিল না শুরু থেকেই। সেই সঙ্গে নগরজুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন নৌকার প্রার্থী হিসেবে লিটনকে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে মেয়র লিটনের পারিবারিক ঐতিহ্য, নিজস্ব ইমেজ তো আছেই।
নির্বাচনে আরো একটি ফ্যাক্ট হিসেবে কাজ করছে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও মেয়র প্রার্থী লিটনের পত্নি শাহীন আাক্তার রেনী। রাজশাহী মহানগরীতে নারী ও প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। রাজশাহী মহানগরীর নারীদের কাছে শাহীন আক্তার রেনীর ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছেন। নির্বাচন প্রাচারণায় মেয়র লিটনের পক্ষে নারী ভোটারদের মন জয় করতে তার ভূমিকাও ছিল বেশ। এবার নির্বাচনে নারী ভোটারের সংখ্যাই বেশি।
এসবের পাশাপাশি মেয়র প্রার্থী লিটনের পক্ষে রাজশাহী মহানগরীর নেতাকর্মী থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও নিরলসভাবে মাঠে ছিলেন প্রচারণার শুরু থেকে। কর্মীদের এমন কঠোর পরিশ্রমও নৌকা প্রতিক নিয়ে মেয়র লিটন অনেকখানি এগিয়ে গেছেন।
নগরবাসীর কাছে মেয়র প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি কারণ হচ্ছে বিগত সময়ে উন্নয়ন।
রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ সিস্টেম, গ্যাস পাইপলাইন সংযোগ, আলোকায়ন, উচ্চ বহুতল ভবন নির্মাণ, নদীর ধারের উন্নয়ন, পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র করা থেকে শুরু করে যে সকল অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছেন এবং রাজশাহী সিটিকে দেশে বা বিদেশে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মেয়র প্রার্থী লিটন। যার কারণেই নির্বাচনে লিটনের কোনো বিকল্প দেখছেন না নগরবাসী।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তথ্য বলছে, দ্বিতীয় মেয়াদে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে। এখনো চলমান রয়েছে উন্নয়ন। এর মধ্যে এক হাজার ২০০ কোটি টাকার কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি আরও অনেক কাজ চলমান।
রাসিকের তথ্য অনুযায়ি, গত পাঁচ বছরে নগরীর বিমান চত্বর থেকে বিহাস পর্যন্ত নতুন চার লেন সড়ক, তালাইমারি থেকে আলুপট্টি পর্যন্ত চার লেন সড়ক, বিলসিমলা রেলক্রসিং মোড় থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত চার লেন সড়ক, ভদ্রা রেলক্রসিং থেকে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল পর্যন্ত চার লেন সড়ক, বিলসিমলা থেকে সিটি হাট পর্যন্ত চার লেন সড়ক করা হয়েছে।
নগরীর বুধপাড়া এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণ, সপুরা থেকে পোস্টাল একাডেমি পর্যন্ত সড়ক, সাগরপাড়া বটতলা মোড় থেকে রুয়েটের সীমানা প্রাচীর, উপশহর মালোপাড়া-রাণীবাজার সড়ক, মণিচত্বর থেকে জাদুঘর মোড় সড়ক, বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কসংলগ্ন সড়কসহ পদ্মাপাড়জুড়ে যোগাযোগ ও সৌন্দর্যবর্ধনে প্রচুর কাজ হয়েছে।
রাসিকের তথ্য বলছে, সাবেক মেয়র লিটনের প্রচেষ্টায় নগরীতে বিকেএসপি আঞ্চলিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। হাইটেক পার্ক গড়ে উঠেছে। শিল্পনগরী-২ ও আধুনিক নভোথিয়েটারের কাজও শেষের দিকে।
আগামীর পরিকল্পনাগুলো বেশ টেকসই মেয়র প্রার্থী লিটনের। চামড়া শিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে। রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক নৌবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভারতের মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান ও মায়া থেকে রাজশাহী পাবনা ঈশ্বরদী হয়ে আরিচা পর্যন্ত নৌ-রুট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতি গতিশীল ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, মহানগরীর উন্নয়নের চাকা গতিশীল রাখতে লিটনের বিকল্প নেই। বিচক্ষণ রাজশাহীবাসী বুঝে গেছে। তাই তো লিটনের পক্ষে গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজশাহী মহানগরীর সাধুর মোড় এলাকার মিলন জানান, বিগত সময়ে মেয়র প্রার্থী লিটন অনেক উন্নয়নের কাজ করেছেন। এতো উন্নয়ন নগরবাসী বিগত কোন মেয়রের সময়েই দেখেননি। তাই মেয়র হিসেবে আমরা এবারও তাকেই দেখতে চাই।
নগরীর উপশহর এলাকার সরিফুল ইসলাম জানান, রাজশাহী উন্নয়নে মেয়র হিসেবে লিটনের কোন বিকল্প নেই। মানুষ এটা বুঝে গেছে। তাই উন্নয়নের স্বার্থে মানুষ লিটনের পক্ষে।


প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৩ | সময়: ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ