সর্বশেষ সংবাদ :

বড়াইগ্রামে বোরো ধানের দরপতনে চাষীরা হতাশ

অহিদুল হক, বড়াইগ্রাম: চলনবিল অধ্যুষিত বড়াইগ্রামে ভরা মৌসুমে হাটবাজারে নতুন বোরো ধানের আশানুরুপ দাম না পাচ্ছেন না ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা। যারা নিজের জমিতে ধান চাষ করেছেন তাদের লোকসান না হলেও লিজ ও বর্গাচাষীদের বিঘা প্রতি ৫-৭ হাজার টাকা করে লোকসান যাচ্ছে। লাভের পরিবর্তে লোকসান হওয়ায় চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষীরা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬ হাজার ১৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৯০ ভাগ জমির ধান কাটা ও মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলার লক্ষ্মীকোল, রয়না ভরট ও মৌখাড়াসহ কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা গেছে যে, এলাকাভেদে ব্রী-২৮ ধান ১০০০-১১০০ টাকা, ব্রী-২৯ ধান ১১০০-১২০০ টাকা, ব্রী-৯০ ধান ১২০০-১৩০০, ব্রী-৩৬ ধান ১২২০-৩০০ টাকা, মিনিকেট ১০৫০-১১০০ টাকা দরে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে। অথচ কিছুদিন আগেও প্রকারভেদে প্রতিমণ ধান বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায়। উপজেলার মামুদপুর গ্রামের কৃষক আবু রায়হান বলেন, বিভিন্ন জাতের যেসব বোরো ধান কাটা হয়েছে, তার গড় ফলন হয়েছে বিঘা প্রতি ১৮-২২ মণ। ফলন যা পেয়েছি তা খারাপ না। কিন্তু হাটবাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়ে কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছি না।
বাজিতপুর গ্রামের কৃষক হাসানুল বান্না উজ্জল বলেন, এবার প্রতি বিঘা জমির চাষ খরচ দেড় হাজার, সার ও কীটনাশক খরচ দুই হাজার, সেচ খরচ (সিকি ভাগ হিসাবে) ৫ হাজার, চারার দাম দুই হাজার এবং রোপন, নিড়ানী, ধান কাটা ও মাড়াই বাবদ শ্রমিক খরচ পড়েছে ৯০০০-৯৫০০ টাকা। এতে প্রতি বিঘায় কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। যারা বর্গা বা লিজ নিয়ে ধান চাষ করেছেন তাদের বিঘা প্রতি আরো ৮-১০ হাজার টাকা বাড়তি খরচ পড়েছে।
তিনি আরো জানান, এবার তিনি মোট ৪ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় গড়ে ধান পেয়েছেন ২০ মণ। যার বর্তমান বাজার মূল্য ২৩ হাজার টাকা। অথচ বিঘা প্রতি তার উৎপাদন খরচ হয়েছে ২২ হাজার টাকা।
রয়না গ্রামের কৃষক আবু বকর মন্ডল জানান, যেসব কৃষকেরা নিজের জমিতে ধান চাষ করেছেন বর্তমান দামে তাদের লোকসান না হলেও লাভও হচ্ছে না। তবে বর্গা বা লিজ চাষীদের প্রতি বিঘায় কমপক্ষে ৫-৭ হাজার টাকা লোকসান যাচ্ছে।
জালশুকা গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম পূর্নি জানান, সার ও বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার কৃষকের উৎপাদণ খরচ বেড়ে গেছে। কিন্তু ধানের দাম বাড়েনি, বরং কমেছে। শ্রমিক খরচ, সেচ ও জমির লিজ মানিসহ বিভিন্ন ব্যয় মেটাতে ধান ওঠার পরপরই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা ধান বিক্রি করেন। কিন্তু বর্তমানে দাম কমে যাওয়ায় ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
বনপাড়া বাজারের ধান ব্যবসায়ী শ্রী বিমল চন্দ্র বলেন, সচরাচর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ধান কিনে বিভিন্ন অঞ্চলের বড় বড় মহাজনের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু এখন মহাজনরা ধান না কেনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ধান তেমন একটা কিনছেন না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, এবার ধানের ফলন ভাল হয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতে ধানের দাম একটু কমবেশি হয়। সরকারি খাদ্য গুদামে ধান কেনা শুরু হওয়ায় কৃষকেরা ধানের ভাল দাম পাবেন বলে আশা করছি।


প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২৩ | সময়: ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ