বিদ্যুৎবিল পরিশোধের ভূয়া রশিদ দিয়ে ডিবিবিএল এজেন্ট শাহিন আত্মগোপনে

কেশরহাট প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি বাজারের ডাচ্ বাংলা ব্যাংক এজেন্ট (ডিবিবিএল) আউটলেটে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে পালিয়েছেন এজেন্টটির মালিক শাহিন আলম। পাশাপাশি আউটলেটে কর্মরত ম্যানেজার খোরশেদ আলমকে উল্টো মামলায় ফাঁসিয়েছেন। এর আগেও চড়া সুদের কারবারিতে শাহিন আলম বিভিন্নজনকে একাধিক মামলায় ফাঁসানোর বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
ম্যানেজার খোরশেদ আলম পুলিশের হাতে আটক হয়ে বর্তমানে কারাবাস রয়েছেন। ঘটনা সংশ্লিষ্ট আউটলেটের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করেছেন শাহিন আলম। যা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।
শুক্রবার সরেজমিনে জানা গেছে, আউটলেটে তালাবদ্ধ থাকলেও পাশেই মেসার্স সরকার ফার্মেসী খোলা রয়েছে। ফার্মেসীর মালিক ও শাহিন আলমের দুলাভাই আরজেদ সরকার সানশাইনকে যেসব তথ্য দিয়েছেন তাতেও ব্যাপক গড়মিল পাওয়া যায়। যার অডিও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। আরজেদ সরকার প্রথমে তার শ্যালক শাহিন আলম এর অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরলেও পরবর্তীতে ম্যানেজার খোরশেদ আলম এর উপর দায় চাপান। তিনি বলেন, গ্রাহকদের সম্পুর্ণ টাকা ম্যানেজার খোরশেদ আলম আত্মসাৎ করেছেন।
অপরদিকে, গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গ্রাহকরা আউটলেটে মালিক শাহিন আলম ও ম্যানেজার খোরশেদ আলমের সামনে টাকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু শাহিন আলমকে বাঁচাতে প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছেন দুলাভাই আরজেদ সরকার।
এছাড়াও সরকারি দলের সংরক্ষিত আসনের একজন মহিলা সংসদ সদস্য শাহিন আলমকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তিনি থানা পুলিশকেও এব্যাপারে চাপ প্রয়োগ করছেন বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে।
পালাতক শাহিন আলমের খোঁজে তার আরেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসিমল্লাহ এন্টারপ্রাইজ এ গিয়েও দোকানটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পাশের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডিবিবিএল এজেন্ট শাখায় গ্রাহকদের আন্দোলন শুরুর দিন থেকে সেই দোকানটিও তালাবদ্ধ রয়েছে। মামলাবাজ প্রতারক শাহিন আলমকে খুঁজে না পেলেও তার সুদে কারবারির ও মামলাবাজির কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ইলামত গ্রামের বিশিষ্ট পান ব্যাবসায়ী ইসলাম উদ্দিন ও তার ছেলে সেলিম পারভেজের বিরুদ্ধে ৮৬ লক্ষ টাকার মামলা চাপিয়েছেন শাহিন আলম। এছাড়াও ধুরইল পূর্বপাড়া গ্রামের আনছের আলীর ছেলে সোহেল রানার বিরুদ্ধেও ২০ লক্ষ টাকার মামলা চাপান তিনি।
ধুপাঘাটা গ্রামের আয়েজ উদ্দিন, মোস্তফা, ছবিউলসহ অনেককেই তিনি বিভিন্নভাবে ফাঁসিয়েছেন। শাহিন আলমের দুলাভাই আরজেদ সরকার জানান, শাখাটিতে অন্তত কয়েক হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলের টাকা জমা না করে ভুয়া রশিদ দেয়া হয়েছে। একারনে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দিয়েছে বিদ্যুৎ অফিস।এরফলে ব্যাপক ভোগান্তিতে রয়েছে গ্রাহকরা।
ডিবিবিএল এজেন্ট রাজশাহী ডিভিশনের রিজিওনাল ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে সানশাইন প্রতিবেদককে বলেন, গ্রাহকদের সাথে প্রতারণায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাজশাহী অফিস থেকে একটি তদন্ত টিম ঘটস্থলে তদন্তে গিয়েছিল। তারা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করেছেন। ফাইনাল রিপোর্ট তৈরি করে জমা দিবেন। এরপরে আমাদের হেড অফিস থেকেও তদন্ত করা হবে। প্রতারিত গ্রাহকদের অর্থ এজেন্ট মাধ্যমে অবশ্যই ফেরত দেয়া হবে।
আপাতত আউটলেটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সেখানে প্রতারিত গ্রাহকদের সুবিধার্থে নোটিস টাঙানো হবে, যেন প্রতারিত গ্রাহকরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।


প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৩ | সময়: ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ