সর্বশেষ সংবাদ :

আদিবাসীর টাকা হাতিয়ে উপহারের বাড়ী দিচ্ছে না চেয়ারম্যান

আব্দুল বাতেন : মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্পের আওতায় দেশের গৃহ ও ভূমিহীণ এবং যার জমি আছে ঘর নেই এমন পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিনা পয়সায় পাকা ঘর নির্মাণ করে উপহার প্রদান করছেন। ইতোমধ্যে বহু পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে বাড়ী প্রদান করাও হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এমন মহতি উদ্যোগ যখন প্রশংসিত হচ্ছে তখন কিছু অসাধু ব্যক্তি বাড়ী দেওয়ার নাম করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে এই অসাধু চক্র। এমনি ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নে।
প্রধানমন্ত্রীর বাড়ী দেওয়ার নাম করে আদিবাসীদের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছে রিশিকুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম টুলুর বিরুদ্ধে। দুই বছর আগে টাকা নিলেও এখন পর্যন্ত মেলেনি সেই কাঙ্খিত বাড়ী। দিনের পর দিন টাকা ফেরত চেয়ে চেয়ারম্যানের নিকট ঘুরলেও টাকা ফেরত তো দূরের কথা কোন পাত্তাই দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন আদিবাসী মনির মুরমু।
রিশিকুল ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ঝিকড়াপাড়া আমতুর্লি গ্রামের বাসিন্দা মুনির মুরমু অভিযোগ করেন, প্রায় ২ বছর আগে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম টুলু আমাদের কে পাকা ছাঁদপেটা বাড়ী দিবে বলে তিন দিনের মধ্যে টাকা দিলে বলেন। আমরা গরীব মানুষ ঘরে টাকা জমা থাকেনা। চেয়ারম্যানের তড়িঘড়ি সময় বেঁধে দেওয়ায় বাধ্য হয়ে আমার পোষা একটি গরু ছিলো তা বাজার মূল্যর চেয়ে কম দামে বিক্রি করে ২২ হাজার টাকা দেয়েছি। এই টাকাটি রিশিকুল ইউপি চেয়ারম্যান নিজে আমার কাছ থেকে নিয়েছেন।
মুনির মুরমুর বৌ মা অনিতা টুডু বলেন, গেলো ইউপি নির্বাচনের সময় সে ভোট চাইতে আসলে ওই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললে নির্বাচন পার হলে তা দেখবে বলে থামিয়ে রাখেন। এর পর কয়েকবার যোগাযোগ করলেও কোন পাত্তা দেননি বলে জানান।
প্রধানমন্ত্রীর বাড়ী নিতে কোন টাকা পয়সা লাগে না এটা আপনাদের জন্য উপহার কেনো টাকা দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মুনির মুরমু বলেন, আমি গরীব মানুষ এতো কিছু জানিনা বুঝিও না। চেয়ারম্যান মাত্র তিন দিন সময় দিয়ে বলেন, তাড়াতাড়ী টাকা দেন নইলে বাড়ী ছুটে যাবে। যে আগে টাকা দিবে সে বাড়ী পাবে। এই কথা বললে আমরা না কিছু বুঝেই টাকা দিয়ে দিই তবে এখন পর্যন্ত কোন বাড়ীর পাননি বলে জানান তিনি।
তবে মুনির মুরমু বলেন, আমরা আদিবাসী মানুষ, ভালোমন্দ বুঝতে তেমন পারিনা। আমারে ঠকিয়ে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম টুলু প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া বাড়ী টাকা নিয়ে অনেককে দিচ্ছে আর আমাদের টাকা নিয়েও বাড়ী দিচ্ছে না এর জন্য তিনি বিচার চান।
এই অভিযোগের বিষয়ে রিশিকুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম টুলুর সাথে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে, অভিযোগকারী মুনির মুরমুকে না চেনার ভান করেন । এক পর্যায়ে সন্ধ্যার পর কথা বলবেন বলে ফোনটি কেটে দেন।


প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৩ | সময়: ৫:১০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ