স্বামী-সন্তানদের প্রিয়,তাই শখের বসে বড়ি তৈরী করেন মর্জিনা

নুরুজ্জামান,বাঘা : বহু যুগ-যুগ ধরে আমাদের গ্রাম বাংলায় সু-স্বাধু খাদ্য হিসাবে তৈরী হয়ে আসছে মাষকলাই ও পাকা চালকুমড়া (পুঁড়) দিয়ে তৈরী ডালের বড়ি। প্রতি শীত মৌসুম এলেই এই বড়ি তৈরীর ধুম পড়ে যায় গ্রামের অধিকাংশ বাড়ীতে। গৃহিনীরা হয়ে ওঠেন সচ্ছল।অনেকেই এটাকে বাড়তি আয়ের উৎস হিসাবে বেঁছে নেন। কিন্তু বাঘার মর্জিনা এটাকে বাড়তি আয়ের উৎস হিসাবে নেননি। তিনি সংসারের প্রয়োজন এবং স্বামী সন্তানদের প্রিয় হওয়ায় শখের বসে এই বড়ি তৈরী করে থাকেন।

মর্জিনার বাড়ি বাঘা উপজেলার মিলিক বাঘা গ্রামে। তিনি পেশায় একাধারে একজন গৃহিনী, শিক্ষক,সাথে শিল্পীও। আর স্বামী একজন সরকারী চাকুরীজীবী। পরিবারের সদস্য বলতে দুই মেয়ে। সেই সুবোদে স্বচ্ছল তার পরিবার। তাঁর সাথে একান্ত আলাপ চারিতায় বলেন, মানুষ শখের বসে কতো কিছুইতো করে। আমার শখ ডালের বড়ি বানানোর। কারন এই বড়ি আমার স্বামী ও সন্তানদের খুব প্রিয়। তিনি আরো বলেন, বাজারে বিক্রি করা ডালের বড়ি আমার কাছে একেবারে নিম্নমানের মনে হয়। তাই প্রতি শীত মৌসুমে নিজ হাতে ঘরের ছাদে বসে এ কাজটি করে থাকি। এই বড়ি বানাতে তাকে সহায়তা করছেন তার খালা ও মেয়ে। তবে প্রথম অবস্থায় শিখেছেন মায়ের কাছে ।

কিভাবে ডালের বড়ি বানান ? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডালের বড়ি বানানোর প্রধান উপাদান খোসা ছাড়ানো মাষকলাই। এর সঙ্গে লাগে পাকা চাল কুমড়া(পুঁড়)। এই মাষকলাই প্রায় ১২ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। এরপর ভেজানো কলাই ঢেঁকি অথবা জাঁতাতে ফাঁকি করে পেস্ট তৈরী করতে হয়। পরে পেস্ট বড় পাত্র বা মাটির চারায় ফেনিয়ে-ফেনিয়ে পুঁড়ের সঙ্গে মিশিয়ে ঢেউটিন কিংবা বাঁশ দিয়ে তৈরী চিকন বাতার উপরে সারিবদ্ধ ভাবে ছোট-ছোট করে সাজাতে হয়। এরপর বড়ি গুলো কমপক্ষে দু’দিন রোদে শুকানোর পর সেগুলো তুলে সংরক্ষন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে শুকানোর কমতি থাকলে স্বাদ নষ্ট হবার আশঙ্কা থাকে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মর্জিনার স্বামী আব্দুল মজিদ বলেন, তার স্ত্রী একাধারে একজন শিক্ষক, একজন শিল্পী ও দক্ষ গৃহিনী। তিনি মর্জিনার সকল কাজে সব সময় উৎসাহ দেন। তার মতে, মর্জিনার হাতের তৈরী ডালের বড়ি অত্যান্ত সু-স্বাদু। এই বড়ি যে একবার খাবে সে আবারও খেতে চাইবে এবং মনে রাখবে।

প্রসঙ্গত শধু মর্জিনা নয়, প্রতি শীত মৌসুমে বাঘা-সহ অত্র অঞ্চলের অনেকে ডালের বড়ি তৈরী করে হাটে-বাজারে বিক্রী করে আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হন। এ যেন সংসারের বাড়তি আয়ের এক বড় উৎস ।


প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৩ | সময়: ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ | সানশাইন

আরও খবর