এক টাকায় চিকিৎসাসেবা দেন ডা. সুমাইয়া 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

চিকিৎসাসেবা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও ডাক্তারের কথা শুনলেই অনেকের বুকে ছ্যাঁত করে ওঠে। খরচের চিন্তায় রোগের কথা গোপন রেখে পিছিয়ে আসেন নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষেরা। এতে বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মৃত্যুর কোলেও ঢলে পড়েন অনেকে। এমন অসহায়, দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষসহ সব শ্রেণির রোগীদের কাছ থেকে মাত্র এক টাকা ফি নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেয়ার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ডা. সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল। বাবার স্বপ্ন পূরণে মাত্র এক টাকা ফি নিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা শুরু করায় দিচ্ছেন ডা. সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল। বাবার স্বপ্ন পূরণে তার ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে রাজশাহী শহরে বেশ সাড়া পড়েছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে রোগীদের চাপ। তাই শিগগিরই তার বড় দুই ডাক্তার বোনও মহতি এই উদ্যোগে যোগ দেবেন বলে জানান তিনি।

 

 

জানা যায়, রাজশাহী ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ২০১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল বর্তমানে নগরীর মেডিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স নামে একটি ক্লিনিকে কর্মরত আছেন। তার বাড়ি রাজশাহীর সাহেব বাজার মনিচত্বর এলাকায়। তিন তলা সেই বাড়ির নিচ তলায় বাবার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান শিবগঞ্জ সুইটসের পাশেই একটি ছোট ওষুধের দোকানে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন তিনি। তার বাবার নাম মোজাম্মেল হক। তিনি পেশায় শিক্ষক। এছাড়া তার বড় বোন ডেন্টিস্ট, মেজো বোন এমবিবিএস ডাক্তার ও ভাই ইঞ্জিনিয়ার।  সম্প্রতি রাজশাহীতে মাত্র এক টাকা ফি নিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার তথ্যসম্বলিত একটি লিফলেট নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন ডা. সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল। বিষয়টি রাজশাহীতে বেশ সাড়া ফেলে। এর প্রেক্ষিতে তার ওই ছোট চেম্বারে শুরু হয়েছে রোগীদের চাপ। সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডা. সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেলের চেম্বারের সামনে রোগীদের লম্বা লাইন। চেম্বারের ভেতর একজন একজন করে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল। চিকিৎসা শেষে ডাক্তারের টেবিলের উপর রাখা মাটির ব্যাংকে ফি হিসেবে এক টাকা করে ফেলছেন রোগীরা।

 

 

 

নগরীতে ঘুরে ঘুরে বাদাম বিক্রি করেন সাদ্দাম হোসেন। এক টাকায় চিকিৎসাসেবা পেয়ে উ”ছ¡সিত এই কিশোর বলেন, রাজশাহীতে গত কয়েকদিনের ঘনকুয়াশা ও কনকনে শীতে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায় ডাক্তার দেখানোর সামর্থ আমার নাই। তাই নিজে নিজেই নাপা খাচ্ছিলাম। মাত্র ১ টাকায় ডাক্তার দেখানো যায় জানতে পেরে আজ এই ম্যাডামের কাছে এসেছিলাম। কখনও ভাবতে পারিনি মাত্র ১ টাকায় এত সময় নিয়ে সুন্দরভাবে চিকিৎসাসেবা দেবে। রেবেকা বেগম নামে নগরীর এক বাসিন্দা এখানে চিকিৎসা শেষে বলেন, লোকমুখে শুনে আজকে এখানে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। মাত্র ১ টাকা ফি হলেও ম্যাডামের চিকিৎসাসেবা খুব ভালো। অনেক সময় বেশি টাকা দিয়েও ডাক্তারের কাছে সেভাবে সেবা পাওয়া যায় না। কিন্তু তিনি অনেক সময় নিয়ে বেশ ভালোভাবেই দেখেছেন। চিকিৎসা নিতে আসা রাজশাহী সিটি কলেজের শিক্ষার্থী কাউসার বিন রিফাত ও মারবুব মুরর্শেদ মিশু বলেন, ফেসবুক পোস্টে ভাইরাল হওয়া লিফলেট দেখে সকালে ডাক্তার দেখাতে আসি। আমরা শিক্ষার্থীরা কম টাকায় ভালো সেবা প্রত্যাশা করি। এখানে এসে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তারা আরও বলেন, ডাক্তারের কাছে গেলেই ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা ফি দিতে হয়। আবার ওষুধ কিনতে গেলে সব মিলিয়ে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হয়। কিš‘ এখানে এসে মাত্র এক টাকায় চিকিৎসা নিলাম। তিনি সারাজীবন এই মহৎ উদ্যোগ চালিয়ে যাবেন বলে আশা করি।

 

 

 

সার্বিক বিষয়ে ডা. সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল বলেন, বাবার স্বপ্ন ছিল ফ্রি চিকিৎসা দিয়ে মানুষের পাশে যেন দাঁড়াই। তবে অসহায়দের জন্য আমার একটি চ্যারেটি ফান্ড আছে। সেখানে ফ্রি ব্লাড ক্যাম্পেনিং, ফ্রি বই-খাতা দিয়ে পড়াশুনা করানোসহ নানা স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। চিকিৎসা ফি এক টাকা নিয়ে তা ওই চ্যারেটি ফান্ডে দিতে চাই। এই টাকাও মূলত মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের কাজেই ব্যয় হবে। তিনি আরও বলেন, মাত্র দুইদিনেই মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। তাই আমার এই সেবা অব্যাহত থাকবে। বড় দুই বোন গর্ভবতী থাকায় বর্তমানে এখানে বসতে পারছেন না। শিগগিরই তারাও এই এক টাকায় রোগী দেখায় অংশ নেবেন।

 

 

 

 

সানশাইন/টিএ


প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৩ | সময়: ৮:৪৭ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine