বাঘায় নির্বাচনী প্রচারণায় এগিয়ে পিন্টু , কোনঠাসা হয়ে পড়ছে আক্কাছ !

নুরুজ্জামান,বাঘা : দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে, ততই নির্বাচনী প্রচারণায় সরব হয়ে উঠছে বাঘা পৌর এলাকা। তবে গত পৌর নির্বাচনে একাধিক কারণে পরাজয় বরণকারী প্রার্থী ও আ’লীগ নেতা আক্কাছ আলী এবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে অনেকটায় কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় ভোটাররা। তাঁর সাথে দলের কোন পদধারী নেতাদের এখন পর্যন্ত লক্ষ্য করা যায়নি। এ দিক থেকে দিন যতই বাড়ছে, নির্বানী প্রচারনার মাঠে ততটায় জনপ্রিয়তা হয়ে উঠছেন আ’লীগ দলীয় প্রার্থী ও নৌকার মাঝি শাহিনুর রহমান পিন্টু।

আগামী ১২ ডিসেম্বর বাঘা পৌর সভায় চতুর্থ বারের ন্যায় অনুষ্ঠিত হবে পৌর নির্বাচন। এই নির্বাচনে আ’লীগের দলীয় প্রার্থী ও উদিয়মান তরুন নেতা শাহিনুর রহমান পিন্টুর নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে একই দলের সাবেক মেয়র আক্কাছ আলী বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রচারণায় নেমেছেন বলে জানিয়েছেন ক্ষোদ সরকার দলীয় আওয়ামী নেতা-কর্মীরা। তবে প্রতীক না পেয়ে সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট করতে নামায় এবার অনেক টায় প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষোদ আক্কাছ পন্থী কয়েকজন নেতা-কর্মী।

তাঁরা একান্ত স্বাক্ষাত কারে এ প্রতিবেদককে জানান , গত নির্বাচনে দলীয় কোন্দল, পৌর করের নামে ভ্যান চালকদের কাছে অর্থ আদায়, প্রতীপক্ষ জামাত-বিএনপিকে ফাঁসানোর জন্য দলীয় কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, মদ্যপান করে মাদক নিরাময় কেদ্রে ভর্তি হওয়ার তথ্য ফাঁস হয়ে যায় নারীদের ভোট না পাওয়া, সীমানা বৃদ্ধির কারনে নিজ এলাকায় ভোট বেড়ে যাওয়ায় প্রার্থীর ফুর-ফুরে মনোভাব, ইত্যাদি কারনে তাঁকে পরাজিত হতে হয়। আর এবার দলীয় প্রতীক না পাওয়ার কারণে তার কাছ থেকে সরতে শুরু করেছেন তাঁর একাধিক কর্মী-সমর্থক। শুধু তাই নয়, তাঁর পক্ষে যারা ভোট চাইবেন তাদের অনেকেই এবার নিজের সার্থে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়ে প্রচারনায় নেমেছে। এ সকল নানা কারনে এবার আক্কাছ আলী অনেকটা বিপাকে এবং কোনঠাসা হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তার কয়েকেজন আস্থা ভাজন।

এদিকে প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার প্রথম দিন রাজশাহী জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক-সহ-প্রায় হাফ ডজন নেতা বাঘায় এসে প্রায় তিন হাজার লোকবল নিয়ে উপজেলার প্রধান-প্রধান সড়কে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচার মিচিল করায় পিন্টুর জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। বক্তব্য পরবর্তী সমাবেশে সেদিন মিছিলে অংশ গ্রহন করেন রাজশাহী জেলা আ’লীগের বিল্পবী সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা, সহ সভাপতি আমানুল হাসান দুদু ,আমজাদ হোসেন নবাব ও জাকিরুল ইসলাম সান্টু, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এড: লায়েব উদ্দিন লাভলু, সাংগঠনিক সম্পাদক আলফুর রহমান ও এড: আব্দুস সামাদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রোকনুজআজামান রিন্টু এবং বাঘা উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল ও উপজেলা মহিলা আ’লীগ-সহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ।

সেদিনের সামাবেশে আব্দুল ওয়াদুদ দারা বলেন, আমার জীবন দশায় অনেক দেশ ঘুরেছি । তবে শেখ হাসিনার মতো দক্ষ নেত্রী আমি পৃথিবীতে দেখিনি। তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততোদিন পথ হারাবে না বাংলাদেশ। এই দেশ এগিয়ে যাবে দীপ্তপায়ে। তিনি যাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন তার বাইরে যাওয়ার আধিকার কারো নেই। যারা যাবেন তারা সহ পথ ভোষ্ট ঐ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে শাহিনুর রহমান পিন্টু সম্প্রতি বাজুবাঘা এলাকায় একটি উঠান বৈঠকে আক্কাছ আলীকে একজন মাতাল এবং লুটেরাজ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, যে ব্যাক্তি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকে, মঞ্চে মদ্যপান করে টলতে-টলতে শিক্ষার্থীর গায়ের উপর পড়ে যায়, এবং সরকারি কর্মকর্তাকে মারপিট করে আপনারা দয়া করে তাকে ভোট দিবেন না। এলাকার উন্নয়ন পেতে হলে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। কারণ নৌকা উন্নয়নের প্রতীক, নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক, নৌকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতীক।

শাহিনুর রহমান আরো বলেন, আপনারা ইতোমধ্যে অনেকেই অবগত হয়েছেন গত ১২ বছর বাঘা পৌরসভার দায়িত্ব পালন কালে আক্কাছ আল কতটা সম্পদের মালিক হয়েছেন। যারা জানেন না, তারা শুনে রাখেন । তিনি ঢাকায় ২ কোটি টাকা দিয়ে দু’টি ফ্যাট ক্রয় সহ শশুর এলাকায় অনেক জায়গা জমি ক্রয় এবং নিজের পৈত্রীক ভিটাতে আধা-পাকা বাড়ী ভেঙ্গে দ্বিতীয়তলা আলিশান বাড়ি বানিয়েছেন। তার নামে বাংলাদেশ দূর্ণীতি দমন কমিমন দু’দকে ১০ কোটি টাকা অর্থ আত্নসাত ও বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা লুটপাটের অভিযোগ করেছেন পৌরসভার বর্তমান মেয়র আব্দুর রাজ্জাক।

শাহিনুর রহমান তাঁর উন্নয়ন দৃশ্যমান উল্লেখ করে বলেন, আপনরা যদি আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেন তাহলে আমি আমার সম্মানী ভাতার সমুদ্বয় অর্থ শিক্ষা খাতে ব্যায় করবো। আমি প্রতিবছর দু’জন ধর্মপ্রান গরিব মুসল্লীকে হজে পাঠাবো,বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান করবো। আমি আপনাদের ভালোবাসায় একজন সেবক হতে চাই। আমি এই পৌরসভাকে একটি মডেল পৌর সভায় রুপ দিতে চাই। আমার কাছে গত ৫ টি বছর কেউ কোন দাবি নিয়ে গেলে আমি কাউকে খালি হাতে ফেরাইনি। আমি পৌর মেয়র হওয়ার জন্য এবার দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়ে সম্মানীত করেছেন। আমি আপনাদের ভালোবাসায় এ সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে চাই।


প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৩, ২০২২ | সময়: ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ | সানশাইন

আরও খবর