অফিসে ঢুকতে পারলেন না ফখরুল, বললেন ‘সমাবেশ হবে’

সানশাইন ডেস্ক: পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরদিন বিএনপি কার্যালয়ে যেতে না পেরে ক্ষুব্ধ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ ‘নস্যাৎ’ করতেই সরকারের এ ‘চক্রান্ত’। তারপরও ১০ তারিখ সমাবেশ ‘হবে’ জানিয়ে ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “সমাবেশ যেন সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণভাবে হতে পারে, তার জন্য আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি । এর দায়-দায়িত্ব থাকবে সরকারে।”
অবশ্য বিএনপি শনিবার কোথায় সমাবেশ করবে, তা স্পষ্ট করেননি দলের মহাসচিব ফখরুল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, “এটা জানিয়েছি। আবার জানাব।” বুধবার বিকালে সংঘর্ষে প্রাণহানি এবং ব্যাপক ধর-পাকড়ের পর রাতেই বিএনপি কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে দুই মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে ফিরে দলীয় কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হন দলের মহাসচিব ফখরুল।
সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তার গাড়ি নাইটিঙ্গেল মোড়ে এলে পুলিশ কর্মকর্তারা ব্যারিকেডে আটকে দেয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এবং মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ সময় মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার তাদের বলেন, “ক্রাইম সিনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি অফিসে কারো প্রবেশাধিকার নেই।”
এরপর সেখানে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “আমি বিএনপি মহাসচিব। আমাকে আমার পার্টি অফিসে যেতে দেওয়া হল না এবং তারা যে কথাগুলো বলছে এটা সর্বৈব মিথ্যা। আমাদের ওখানে কোনো বিস্ফোরক ছিল না। নাথিং ওয়াজ দেয়ার। তারা (পুলিশ) নিজেরা এসব করেছে, আপনারা (গণমাধ্যম) তা দেখেছেন।”
বিএনপি নয়াপল্টনের রাস্তাতেই ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ করতে চায়। পুলিশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দিলেও তাতে তারা রাজি নয়। বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, পছন্দসই বিকল্প না দিলে নয়া পল্টনেই তারা ১০ তারিখের সমাবেশ করবেন। অন্যদিকে পুলিশ ও সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছিল, রাস্তায় কাউকে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
এর মধ্যেই বিএনপি কর্মীরা বুধবার তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়ে পুলিশ বিএনপিকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় এক বিএনপি সমর্থক নিহত হন। সংঘর্ষের পর বিএনপির কার্যালয়ে ঢুকে তল্লাশি চালিয়ে তিনশর মত নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। ভেতরে হাতবোমা পাওয়ার কথাও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, “এটা সম্পূর্ণভাবে চক্রান্ত ও পরিকল্পনার প্লট, বিএনপিকে ম্যালাইন করার জন্য, আমাদের ১০ তারিখের যে সমাবেশ, তাকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্যে এটা সরকারের হীন পরিকল্পনা-চক্রান্ত। “গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য, মানুষের অধিকারকে ধ্বংস করবার জন্য, আমাদের রাজনৈতিক অধিকারকে হরণ করবার জন্যৃ. রাজনৈতিক দল হিসেবে আমার নিজের অফিসে যদি যেতে না পারি, তাহলে কী করে একজন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী কাজ করবে?”
ফখরুল ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “একটা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সাংবিধানিক অধিকার হচ্ছে যে, সে তার স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। এখন একজন মহাসচিব, সে যদি তার অফিসেই যেতে না পারে, তাহলে এটা সম্ভব না। এখানে গণতন্ত্র তো দূরের কথাৃ আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
অবিলম্বে বিএনপি অফিস খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে দলের মহাসচিব বলেন, “আমাদের অফিসে যাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য দাবি জানাচ্ছি। যাদেরকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদেরকে মুক্তি দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি এবং যে নিহত হয়েছে, শহীদ হয়েছে, তার তদন্ত করে তাকে বিনাকারণে যে হত্যা করা হয়েছে, সেটার প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
ব্যারিকেডে আটকে দেওয়ার পর মির্জা ফখরুল গাড়ি থেকে নেমে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেন, “আমি আমার পার্টি অফিসে যেতে চাই।” এ সময় তাকে স্যার সম্বোধন করে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, “গতকাল বিকাল বেলা ও রাতে যেভাবে আমাদের পুলিশ সদস্যদের ওপর বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে, পরবর্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেছি। যে পরিমাণ ককটেল বোমা উদ্ধার করা হয়েছেৃ এটা আমরা ক্রাইম সিন হিসেবে বিবেচনা করছি। ক্রাইস সিন হিসেবে আমাদের সিআইডি, বম ডিসপোজাল টিমের সদস্যরা সেখানে কাজ করছে। এই মুহূর্তে কেউ সেখানে যেতে পারবে না।”
বিএনপি মহাসচিব আবারো প্রশ্ন করেন-“আমি আমার অফিসে যেতে পারব কিনা?” যুগ্ম কমিশনার বলেন, “ক্রাইম সিনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখানে কেউ অ্যালাউড না। নো বডি অ্যালাউড টু গো।” ফখরুল তাকে আবার বলেন, “আমি বিএনপির সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে আমার পার্টি অফিসে যেতে পারব কিনা, এটা আপনি বলুন।” জবাবে বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, “আমাদের ক্রাইম সিনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নো বডি ইজ অ্যালাউড টু এন্টার ইন দ্য পার্টি অফিস।”
পরে বিএনপি মহাসচিব গাড়িতে উঠে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান সংঘর্ষের সময় নিহত মকবুল হোসেনের মরদেহ দেখতে এবং তার পরিবারকে সমবেদনা দেন। এ সময়ে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম তার সঙ্গে ছিলেন। বিএনপি নেতাদের দাবি, নিহত মকবুল ছিলেন পল্লবীর ৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।


প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৯, ২০২২ | সময়: ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর