আওয়ামী লীগ লুটেরার দলে পরিণত হয়েছে : মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত বিএনপির মহাসমাবেশে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বতর্মান আওয়ামী লীগ সরকার গত ১১ বছরে ১৯ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। গত ১০ বছরে বিদ্যুৎ খাত থেকে ৮৬ হাজার কোটি টাকা সরিয়েছে। ১০ টাকা কেজি করে চাল,ঘরে ঘরে চাকরি দিবে বেকারদের অথচ ত্রিশ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে চাকরি দেয় তাদের দলের নেতাকর্মিদের, কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পায় না ধানের। আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় দুঃস্বপ্ন দেখছে এই বুঝি তাদের গদি গেলো। যেটাকে আমরা বলি ‘চোরের মন পুলিশ পুলিশ’। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। আওয়ামী লীগ নেতারা এখন লুটেরা দলে পরিণত হয়েছে।

স্টেজে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা উপজেলার নেতৃবৃন্দ  –  সানশাইন

 

 

 

আওয়ামী লীগ এখন লুটেরার দলে পরিণত হয়েছে। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা গুলো বলেন। তিনি আরো বলেন,আমাদের আন্দোলন বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করা কিংবা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার আন্দোলন নয়। আমাদের আন্দোলন জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন। জনগণের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এখান থেকে সবাই পরিত্রাণ চাই আমরা।

 

 

আগামী নির্বাচনকে নিয়ে মির্জা ফখরুল তার বক্তব্য বলেন আওয়ামী লীগ যতোই বলুক তাদের অধীনে নির্বাচন হবে আমরা তাদের বলে দিতে চাই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতেই হবে। যতো অসামঞ্জস্য আছে সব দূর করতে হবে। গত ১৪ বছর ধরে নির্যাতিত হচ্ছি আমরা সেই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এই মাদ্রাসা মাঠে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কতোবার এসেছে আজ তিনি এখানে নেই। আমাদের দায়িত্ব তাকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।

 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা সরকার জনগণের পক্ষে থাকা আপনাদের কর্তব্য। আমরা এখানে মঞ্চে যারা বসে আছি অধিকাংশই বীর মুক্তিযোদ্ধা। ধানের শীষে আজ রক্ত জমেছে। এই রক্ত পরিষ্কার করতে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। আমরা আন্দোলন শুরু করেছি শেখ হাসিনা পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তরুণদের দুর্বার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটবে।

 

 

মহাসমাবেশের প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেনদেশ আজ ভালো নেই। করোনার সময়ে নতুন কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ১২ হাজার। অথচ গরীব হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি সাধারন মানুষ। সুইস ব্যাংক,দুবাইতে গুলশান তিন নামে একটি এলাকা তৈরি হয়েছে । কারা করছে খোঁজ নিয়ে দেখেন আপনারা। ফরিদপুরের এক পাতি নেতা যদি দুই হাজার কোটি টাকা পাচার করতে পারে তাহলে আপনারা ভাবুন কেন্দ্রীয় নেতা এমপি মন্ত্রীরা কতো টাকা মালিক হয়েছে।

 

রাসিকের সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু বলেন,১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ পেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঘোষনায় যেভাবে লাঠি অস্ত্র কাঁধে তুলে নিয়েছিলো বাঙালিরা,১৯৯০ সালে স্বৈরাচার সরকারের সময় বিপ্লব করে মুক্তি এসেছিলো। এখন সময় এসছে মাতৃভূমি বাংলাদেশকে বাঁচাতে তত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে আবারো নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগনকে মুক্ত করা।

 

সমাবেশ শুরুর পর সমন্বয়ক হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির রাজশাহীর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। বক্তব্যের শুরুতে তিনি নেতাকর্মীদের হলুদ ক্যাপ হাতে নিয়ে উঁচু করে ধরতে বলেন এবং নাড়াতে বলেন। এরপর তিনি সরকারকে হলুদ কার্ড দেখানোর ঘোষণা দেন।

 

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, সমাবেশের আগে বলেছিলাম, রাজশাহীর গণসমাবেশে সরকারকে হলুদ কার্ড দেখানো হবে। আজ হলুদ কার্ড দেখালাম, ইনশাল্লাহ ঢাকার সমাবেশে সরকারকে লাল কার্ড দেখানো হবে। যতই বাঁধা আসুক ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশে আমরা সরকারকে লাল কার্ড দেখাতে চাই। এসময় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শীত উপেক্ষা করে গত তিনদিন যাবৎ আপনারা সমাবেশ স্থলে অবস্থান করছেন। এজন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই।

 

দুলু বলেন, গত ১ ডিসেম্বর থেকে মিছিল আর বিক্ষোভে পরিপূর্ণ ছিল এই মাদরাসা ময়দান। সরকার বিএনপির সমাবেশ ঘিরে তিন দিনের পরিবহন ধর্মঘট দিয়েছে। বিএনপি নেতা কর্মীদের ওপর মামলা-হামলা করেই কেবল ক্ষান্ত হয়নি, সমাবেশের বক্তব্য যাতে গণমাধ্যমে দেখানো না যায় সেজন্য ইন্টারনেট সংযোগ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

 

রাজশাহীর এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন খেলা হবে। আমি তাকে বলতে চাই, খেলা হবে। তাকে জিজ্ঞেস করতে চাই, কোন মাঠে খেলা হবে। পুলিশ-র‌্যাব রেখে আসেন, সমান মাঠে খেলা হবে। ঘোষণা দেন, আমরা প্রস্তুত আছি।

 

সমাবেশে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিনা রহমান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, জ্বালানি তেল, চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের গুলিতে দলীয় নেতাকর্মী হত্যা, হামলা এবং মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে এই বিভাগীয় গণসমাবেশ আয়োজন করেছে বিএনপি। রাজশাহীতে এটাই বিএনপির সর্বশেষ বিভাগীয় গণসমাবেশ। এর আগে ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে বিএনপির সর্বশেষ বিভাগীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈসা।

উল্লেখ্য,বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে গত তিন দিন ধরে মাদ্রাসা মাঠের পাশে ইদগাহ ময়দানে অব¯’ান করেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মিরা। শনিবার দুপুরের আগ থেকেই ছোট ছোট মিছিলে মাদ্রাসা মাঠের ভিতরে আসতে থাকে দলীয় নেতা কর্মিরা। বিকেলের দিকে প্রায় ভরে যায় মাদ্রাসা মাঠ। সমাবেশ চলাকালীন দলীয় নেতাকর্মিদের মাঝে ধস্তাধস্তিরও ঘটনা ঘটে। এসময় বারবার স্টেজ থেকে নেতাকর্মিদের শান্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দরা।


প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩, ২০২২ | সময়: ৬:২১ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine

আরও খবর