সর্বশেষ সংবাদ :

চাপ বেড়েছে ট্রেনে : রাজশাহী বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট শুরু, চরম দুর্ভোগে মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় একযোগে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ফলে সড়ক পথে রাজশাহীর আট জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের পরিবহন যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর ধর্মঘটের প্রথম দিনেই অচল হয়ে পড়েছে রাজশাহী। ধর্মঘটের কারণে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রাজশাহী থেকে বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা।
যানবাহন না পেয়ে দূর-দূরান্তে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েও পথে পথে যাত্রীরা নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সকাল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশে মহানগরের শিরোইল, ভদ্রা ও রেলগেট বাস টার্মিনালে আসেন যাত্রীরা। কিন্তু বাস না পেয়ে কেউ বিকল্প যানবাহন কেউবা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। অনেককে আবার রাজশাহী রেল স্টেশনে ভিড় করতে দেখা যাচ্ছে।
এদিকে ধর্মঘটের ফলে চাপ পড়েছে ট্রেনে। তাই বিভিন্ন রুটের ট্রেনের টিকেট এরই মধ্যে হাওয়া গেছে। টিকেট না পেয়ে অনেকে দাঁড়িয়েই রওয়ানা দিচ্ছেন। এছাড়া পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকেই ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রাজশাহীর আন্তঃজেলা রুটের যাত্রীরাও। সিএনজি, হিউম্যান হলার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন বিকল্প যানবাহনে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে যাত্রীরা জরুরি প্রয়োজনে নিজ গন্তব্যে রওয়ানা দিচ্ছেন।
রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে পুর্ব ঘোষণা অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার সড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।
এদিকে রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশ ঘিরেই সরকার কৌশলে এ পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির নেতারা। এটি সাজানো নাটক উল্লেখ করে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, মূলত পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা সরকারকে এই পরিবহন ধর্মঘটের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে চাইছেন। বিএনপির প্রত্যেকটা সমাবেশের আগেই বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় এমন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগীয় পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক বলেন, বিএনপির গণসমাবেশ সামনে রেখে এমন সিদ্ধান্তের বিষয়টি অমূলক। তাদের দাবির মধ্যেও এমন কিছু উল্লেখ নেই। তারা মহাসড়ক থেকে নছিমন, করিমন, ভটভটিসহ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধসহ এই ১১ দফা দাবিতে আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসছেন। বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে এ বিষয়ে চিঠিপত্র দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন আগেও তারা সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবির বিষয়ে কথা বলেছেন। দাবি আদায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এই কর্মসূচি এবারই প্রথম নয়। গত ২৬ নবেম্বর নাটোরে বিভাগীয় পরিবহন নেতারা বসে আলোচনা করেই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাদের দাবি পূরণের কোনো আশ্বাস মেলেনি। তাই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী পরিবহন নেতারা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।


প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০২২ | সময়: ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ