সর্বশেষ সংবাদ :

বাঘায় বৃদ্ধ দম্পতির লাশ উদ্ধার, মৃত্যু নিয়ে রহস্য

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার অমরপুর বিলপাড়া গ্রাম থেকে দম্পতির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরা হলেন, নাজিম উদ্দিন (৭৫) ও আম্বিয়া বেগম (৬৫)। বুধবার সকালে তাদের বাড়ির পাশ থেকেই এলাকাবাসীর খবরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। তাদের মৃত্যৃ নিয়ে রহস্যের সৃস্টি হয়েছে। পরিকল্পিত হত্যাকান্ড নাকি একসঙ্গে আত্মহত্যা এ নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে উদ্ধারের পর লাশ ময়না তদন্তের জন্য রামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের অমরপুর বিলপাড়া গ্রামের নাজিম উদ্দিন (৭৫) ও তার স্ত্রী আম্বেয়া বেগম (৬৫) বসবাস করেন। মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে তারা একসঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। প্রতিদিন তারা সকালে ঘুম থেকে উঠে। কিন্তু বুধবার সকাল ৭ টা পর্যন্ত তাদের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে পাশের বাড়ির নেপাল শেখ নামের এক বৃদ্ধ তার বাড়িতে পান খাওয়ার জন্য প্রবেশ করেন। এরপর তিনি লক্ষ্য করেন আম্বিয়া বেগম বারান্দায় চকির উপর চটের বস্তা গায়ে এবং নাজিম উদ্দিন বারান্দায় চকির নিচে চাদর গায়ে জড়িয়ে শুয়ে আছে। তিনি স্থানীয় লোকজকে ডাকলে প্রতিবেশীরা এসে দেখেন উভয় দুজনই মৃত। পরে লোকজন থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, নাজিম-আম্বিয়া দম্পতির নাতি ইমন হোসেনের স্ত্রী খাদিজা খাতুন সাগরী গত ১৫ নবেম্বর স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদের জের ধরে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনার সাগরীর বাবা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনার পর থেকে ইমন পলাতক রয়েছে। এনিয়ে নাজিম দম্পতি মানসিক ভাবে দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। এ কারনে তারাও আত্মহত্যা করতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
বাঘা থানার উপ-পরিদর্শক দুরুল হুদা বলেন, নাজিম-আম্বি^য়া দম্পতির নাতবৌ আত্মহত্যা করে। এছাড়াও ৩ বছর আগে নাজিম-আম্বিয়ার বড় ছেলেও আত্মহত্যা করে। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে, তারা মানসিক চাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে।
বাঘা থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল করিম জানান, মৃত দম্পতির শরীরে কোন আঘাতে চিহ্ন পাওয়া যায়ন। তাদের মুখে ফ্যানাযুক্ত লালা বের হচ্ছিলো। তবে পাশে বিষের কোন বোতল খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ থেকে মৃত্যু নিয়ে রহস্যজনক বলে হচ্ছে। তিনি বলেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।


প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০২২ | সময়: ৭:২০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ