ভর্তিতে পোষ্য কোটার যৌক্তিকতা নিয়ে রাবিতে গণসংলাপ

রাবি প্রতিনিধি;

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটার যৌক্তিকতা ও অযৌক্তিকতা নিয়ে গণসংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ^বিদ্যালয়ের ড. মু. শহীদুল্লাহ একাডেমিক ভবনের সামনে এ গণসংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশন এ সংলাপের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন মিলন। সংলাপে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা, শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট নাগরিক তাদের মতামত তুলে ধরেন।

সংলাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদ বলেছেন পোষ্য কোটার সিস্টেমটাকে রাখার মধ্য দিয়ে একটা সুবিধাভোগী গোষ্ঠী গড়ে ওঠে। এই সুবিধা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাই পরবর্তীতে নানান অনৈতিক উপায়ে শিক্ষকের আসনে বসে। এতে যেমন পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিম্নগামী হচ্ছে তেমনি মেধাবী শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা বাতিল এখন সময়ের দাবি।

সংলাপে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা নিজেদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। তাদের নীতি-নৈতিকতা দিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। কিন্তু তারা এই স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে সকল ধরণের অনৈতিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। তারা পোষ্য কোটার সুবিধা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ‘অযোগ্য’ সন্তানদের ভর্তি করাচ্ছেন। পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে এরাই প্রথমে ডিপার্টমেন্টে ফার্স্ট, ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক এবং সবশেষে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক হবেন। অবিলম্বে এই কোটা বাতিল করা হোক।’

বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক মাহবুব সিদ্দীকী বলেন, যারা পোষ্য কোটা চালু করেছে তারা কি স্বাভাবিক মানুষ? তারা কি এদেশের জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ? এটা আজব একটা ব্যাপার। যেখানে কোটাই থাকতে পারে না, সেখানে আবার পোষ্য কোটা? তার মানে অনৈতিক কাজ করার সুযোগ নেওয়ার জন্যই কিছু গোষ্ঠী এসব করেছে। যারা এটি করেছে তারা সৎ ও সজ্জন মানুষ নয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক জামাল কাদেরী বলেন, কোটা একটা অন্যায়, অন্যায্য ব্যবস্থা। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরেও কোটার প্রশ্নটা খুবই বিস্ময়কর। আমাদের দেশ উন্নত হয়েছে, উন্নয়নের মহাসড়কে আছে তারপরও কেন কোটা থাকবে? তাও যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করছেন, তাদের ক্ষেত্রে। আমরা এমন দেশ চাইনি, যেখানে নিয়ম করে অযোগ্যদের সুযোগ দেওয়া হয়। আমাদের সকলকে একত্রিত হয়ে এই কাঠামোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সংগঠক রাবেয়া মুহিবের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রাবি শাখা নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মেহেদী হাসান মুন্না, রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সদস্য সচিব আমানুল্লাহ খান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক রিদম শাহরিয়ার, ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী দ্বীপ, বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান প্রমুখ।

 

সানশাইন/তারেক


প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২২ | সময়: ৪:৫১ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine