রাজশাহী সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার জনাকীর্ণ আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্তজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালত এলাকাতেও বাড়তি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পলাতক জঙ্গিরা যাতে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালাতে না পারে সে লক্ষ্যে স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় পুলিশ, র্যা ব ও বিজিবিসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। সন্দেহভাজন অপরিচিতদের দেখলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।
এদিকে গত ২২ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অধীন বিভিন্ন সংস্থার আঞ্চলিক প্রধানদের কাছে এ সংক্রান্ত জরুরি চিঠিও এসেছে। পলাতক জঙ্গিরা যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, তার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষকেও দণ্ডপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন জঙ্গিদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছেন।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রতকুমার বালা জানান, রাজশাহীতে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী মামলার আসামিদের আদালতে ও হাসপাতালে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে আগে থেকেই তৎপর থাকে কারা কর্তৃপক্ষ। এর পরও কারাগারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। চিহ্নিত আসামি ও কয়েদিদের বিষয়ে পুলিশের বাড়তি ফোর্স ও নজরদারি রয়েছে। ঢাকার ঘটনার পর সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকার ঘটনার পর জঙ্গি ও সন্ত্রাসী মামলার আসামি এই কয়েক দিনে রাজশাহী কারাগার থেকে কোর্টে আনা-নেওয়া হয়নি। তবে যখন প্রয়োজন পড়লে আগের থেকে বাড়তি নজরদারি থাকবে। তবে এখন অন্যান্য সাধারণ আসামিদের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্টদের সজাগ থাকতে বলা হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে।
এদিকে রাজশাহীর সীমান্তে বাড়তি সতর্কতামূলক তৎপরতা বাড়িয়েছে বিজিবি। বিজিবি সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সীমান্তে নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া জঙ্গি মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের গতিবিধিতেও নজরদারি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে সজাগ আছেন। তার থানাধীন জামিনপ্রাপ্ত জহুরুল ইসলাম (৪২) নামে একজন জঙ্গি আছেন। তার গতিবিধিতেও নজরদারি আছে। আশপাশে যেসব জঙ্গি আছে, তাদের ও তাদের পরিবারের ওপরও অব্যাহত নজরদারি করছে পুলিশ।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার রফিকুল আলম (মিডিয়া) জানান, আদালতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের আগের চেয়ে বেশি তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। ঢাকার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তির কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া সর্বত্রই তারা নজরদারি বাড়িয়েছেন। নগরীর প্রতিটি প্রবেশপথে ও চেকপোস্টেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে র‌্যাব ৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার জানান, র্যা ব এ বিষয়ে রাজশাহীতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়েছে। রাজশাহীতে পালাতক কোনো জঙ্গি যেন অবস্থান না নিতে পারে এই বিষয়ে তারা সচেষ্ট আছেন। আর সাধারণত কোনো গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গিকে রাজশাহীতে আনা হলে পুলিশের পক্ষ তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়। সে সময় তারা পুলিশের পাশাপাশি কাজ করে থাকেন। আর ঢাকায় উদ্ভূত ঘটনা কেন্দ্র করে তারা সজাগ আছেন।
রাজশাহী বিজিবির কর্মকর্তা মেজর জেনারেল সাখাওয়াত আহমেদ জানান, ওই ঘটনার পর পরই রাজশাহীর সীমন্তে বিষয়টি সম্পর্কে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। অপরিচিত সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই যেন বিজিবিকে জানানো হয় এ বিষয়ে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের বলা হয়েছে।


প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২২ | সময়: ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ