সর্বশেষ সংবাদ :

রাবিতে পোষ্য কোটায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল দাবি

রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথমবর্ষে পোষ্য কোটায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলসহ ৩ দফা দাবি জানানো হয়েছে। রোববার (১৩ নভেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলো হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান পোষ্য কোটা বাতিল করা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলসহ এই চক্রের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা।
মানববন্ধনে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুল্লাহ মুহিবের সঞ্চালনায় রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, রাবিতে গ্রাম থেকে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা মেধার বলে প্রতিযোগিতা মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু এখন দেখছি সেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে ফেল করা শিক্ষার্থীদের বৈষ্যমের শিকার করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক, কর্মচারীদের অযোগ্য সন্তানরা ফেল করেও ভর্তি হয়ে রাবির সুনাম খর্ব করছে। আমরা সে সকল অযোগ্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল চাই।
তিনি আরও বলেন, এবছর ভর্তি জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। যারা এই জালিয়াতি চক্র রয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। যদি ফেল করা শিক্ষার্থী ও জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে আমরা ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।
নাগরিক ছাত্র ঐক্যের সভাপতি মেহেদী হাসান মুন্না বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংস করার পোষ্য কোটা এখানে রাখা হয়েছে। বিশ^বিদ্যালয়ের পরিবারতান্ত্রিক, স্বজনপ্রীতি ও স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোই এর জন্য দায়ী। এতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি গোয়ালঘরে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়ার তথ্য প্রকাশ হওয়ার পরেও কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করেনি প্রশাসন। আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, ফেলকৃত শিক্ষার্থী এবং ভর্তি জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল করতে হবে। অন্যথায় যারা যোগ্যতা দিয়ে ভর্তি হয়েছে তাদের সাথে ফেল করা শিক্ষার্থীদের আমরা ক্লাস করতে দিবো না।
মানবন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাব্বত হোসেন মিলন, রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সদস্য সচিব আমানুল্লাহ খান আমান এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে পুণরায় গ্রন্থাগারের সামনে এসে শেষ হয়। এসময় বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।


প্রকাশিত: নভেম্বর ১৪, ২০২২ | সময়: ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ