পৌর নির্বাচন : বাঘায় আ’লীগের সম্মেলনে হামলাকারি সেই আক্কাস আবারও মনোনয়ন চান!

স্টাফ রিপোর্টার: একাধিক বিতর্কিত কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত ও চলতি বছরের ২১ মার্চ উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনে হামলাকারি সেই আক্কাস আলী আবারও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনায় মাঠে নেমেছেন। আগামী ২৯ ডিসেম্বর রাজশাহীর বাঘা পৌরসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে তফসিল ঘোষনার তৃতীয় দিন একটি মোটর সাইকেল শোডাউন করেন তিনি। মেয়র পদে নৌকার মাঝি হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এই শোডাউন করেছেন বলে উল্লেখ করেন তার কর্মী-সমর্থকগণ। তবে তাঁকে কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মী।
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে বহুল আলোচিত বিবস্ত্র মামলার আসামী ও আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কালো পতাকা দেখিয়ে দলীয় পদ হারিয়ে ছিলেন আক্কাস আলী। পরবর্তী সময় ২০০০ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাকে আবারও দলে ফিরিয়ে নেয়া হয়। মাঝ খানে তিনি একটি নির্বাচনে পাঁচ বছরের জন্য বাঘা পৌর মেয়র এর দায়িত্ব পেলেও পৌর সভাকে বর্ধিত করাসহ সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা সমস্যায় আদালতে মামলা হওয়ায় প্রায় ১২ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্ণীতির অভিযোগ উঠে। যে কারণে পরবর্তী নির্বাচনে তিনি বিএনপি’র প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাকের কাছে পরাজিত হন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আব্দুর রাজ্জাক দু’দকে আয়কর, এডিপি অর্থ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করে বিল উত্তোলন-সহ নানা অভিযোগ প্রায় ৮ কোটি টাকার আত্নসাৎ এর অভিযোগ করেছেন।
বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য মাসুদ রানা তিলু ও সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নছিম উদ্দিন জানান, আক্কাস আলী ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী রায়হানুল হক রায়হান এর বিরুদ্ধে কুলা প্রতিক নিয়ে ভোট করে বিএনপির প্রার্থী কবির হোসেনকে বিজয়ী করে আনন্দ উল্লাস করেন। এরপর ২০১৪ সালে তিনি একই ভাবে আ’লীগ দলীয় প্রার্থী আলহাজ শাহরিয়ার আলমের পক্ষে কাজ না করে বিদ্রোহী প্রার্থী রায়হানুল হক রায়হান এর পক্ষে ভোট চান। সর্বশেষ তিনি ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদের সাথে হাত মেলান। তবে হলফ নামায় ত্রুটি এবং একাধিক মামলা থাকায় সেইবার আবু সাইদ চাঁদের মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হয়।
বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহেদ সাদিক কবির ও বাঘা পৌর সভার প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান পিন্টু আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, চলতি বছরের ২১ মার্চ সকাল ১১ টায় উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন-সহ রঙ্গিন বেলুন এবং কবুতর উড়িয়ে আমন্ত্রিত অতিথিরা মঞ্চে এসে আসন গ্রহন করেন।
এরপর কোরআন তেলোয়াত ও গীতা পাঠ শেষে নেতাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। অত:পর শুরু হয় আলোচনা সভা। এ সময় জেলা আ’লীগের সদস্য ও বাঘা পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্কাছ আলী ও তার সমর্থকরা মঞ্চের সামনে আক্কাছ ভাই বলে শ্লোগান দিতে থাকেন। এতে করে মঞ্চের সামনে শৃংখলার অবনতি ঘটে। এ সময় আক্কাস আলীকে থামতে বলেন কেন্দ্রীয় আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। তখন আক্কাস আলী তাকে আঙ্গুল উচিয়ে বলেন, তুই কে ? মঞ্চ থেকে নেমে আয়, এই বলে মঞ্চে চেয়ার ছুড়ে মারেন এবং সম্মেলনে হামলা চালাই। এ ঘটনায় পুলিশসহ প্রায় ২০ জন আহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়লে তারা সভামঞ্চ এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। এরপর আবারও শুরু হয় সম্মেলনের কার্যক্রম। এ সময় কেন্দ্রীয় আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন মাইকে আক্কাস আলীকে সাময়িক ভাবে বহিস্কার ঘোষণা করেন।
তাঁরা আরো জানান, ঐদিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির সভাপতিত্বে সম্মেলন মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। মঞ্চে ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস.এম.কামাল হোসেন, সাবেক সাংসদ বেগম আখতার জাহান, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ রাজশাহী জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার, রাজশাহী জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াদুদ দারা, সহ সভাপতি আমানুল হাসান দুদু, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দীন লাভলু, রাজশাহী মহানগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার প্রমুখ।
বাঘা থানা পুলিশের একটি মুখপাত্র জানান, সাবেক পৌর মেয়র আক্কাছ আলী ১৯৯৬ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কালো পতাকা দেখিয়ে ছিলেন এটি সত্য। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিগত সময়ে বহুল আলোচিত বিবস্ত্র মামলাসহ একাধিক নারী নির্যাতন, সরকারী কাজে বাধা প্রদান, মদ্যপান, আদালতের নাজিরকে মারপিট, ধর্ষণ, বলৎকার, জমি দখল, শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরনীতে মঞ্চে মাতলামি, সরকারি কাজে দুর্ণীতি ও হোটেল ভাংচুরসহ ২২ টি মামলা এবং ২৫ টি জিডি রয়েছে। তাঁর নামে সর্বশেষ মামলা হয় গত ২১ মার্চ উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনে হামলা ও ভাংচুর বিষয়ে।


প্রকাশিত: নভেম্বর ১৩, ২০২২ | সময়: ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর