ওএমএসের চালের জন্য খোলা আকাশের নিচে রাতভর অপেক্ষা

গোমস্তাপুর প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ওএমএসের চাল পেতে শীতের রাতে খোলা আকাশের নীচে সারা রাত দুঃস্থদের মানবেতর অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় খোলাবাজারে বর্তমানে দেশে খাদ্যপণ্য বিক্রি বা ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রতিজন ৩০ টাকা কেজির দরে ৫কেজি করে চাউল পাবে। কিন্তু এ চাউল সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় সল্প আয়ের মানুষকে। আগে চাল পেতে তাদের রাতভর অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ভূক্তভোগী এক মহিলা জানান, আমার পরিবারে পাঁচ জন সদস্য। স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করে। আয় উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বলতে আমার স্বামী ছাড়া আর কেউ নেই। অভাবের সংসারে সারা বছর চাল কিনে খেতে হয়। বাজারে চাউলের দাম ৬০ টাকা আর স্বামীর দৈনিক আয় ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা। সামান্য এ আয় দিয়ে বাজারে চাল কিনে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে ঘুরে কোন চাউল না পাওয়ায় আজকে বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি জেগে পরের দিন চাউল পাব বলে আশা করেন তিনি । ডিলারদের দাবি, স্থানীয় খাদ্য বিভাগ চাউলের দৈনিক বরাদ্দ কম দেওয়ার কারণে অনেকে চাউল পাচ্ছে না। এত কনকনে শীতের রাতে ঠান্ডায় অনেকেই রাতভর অপেক্ষা করতে হচ্ছে । ডিলাররা তাদের বরাদ্দ আগের মত প্রতিদিন ২ টন করার দাবি জানিয়েছে। বর্তমানে তাদের প্রতিদিন ১ টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
গোমস্তাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তারেক-উজ-জামান জানান, রহনপুর পৌর এলাকার ৪জন ডিলার নিয়োগ দেয়া আছে। এক টন করে ৪জন ডিলারের জন্য ৪টন চাল দৈনিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। রহনপুর পৌর এলাকার কলেজ মোড়ে ডিলার গোলাম রাব্বানী জানান, ৫কেজি চাউলের জন্য ভূক্তভোগীদের সারারাত অপেক্ষায় থাকার বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। চালের বরাদ্দ পূর্বের ন্যায় করতে আমরা সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি।


প্রকাশিত: নভেম্বর ১১, ২০২২ | সময়: ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ