সর্বশেষ সংবাদ :

দেশি’ কোচে বেশি আস্থা আফ্রিকার

স্পোর্টস ডেস্ক: চেনা কিছু দৃশ্য দেখা যাবে না এবার। আফ্রিকার দেশগুলোর ডাগআউটে থাকবে না কোনো ইউরোপিয়ান কিংবা লাতিন আমেরিকার কোচ। কাতার বিশ্বকাপে ক্যামেরুন, ঘানা, মরক্কো, সেনেগাল ও তিউনিসিয়া-এই পাঁচ দলের দায়িত্বে আছেন আফ্রিকান কোচ। দেশি কোচেই এবার বেশি আস্থা রাখছে মহাদেশটির দলগুলো।
অতীতে বিশ্বকাপে খেলা আফ্রিকার দলগুলোর দায়িত্বে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার কোচদের আধিপত্য ছিল একচ্ছত্র। কিন্তু এবার নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দেশি কোচদের প্রতি কর্মকর্তাদের মনোভাব বদলে যাওয়ার ইঙ্গিতও এটি। ২০১০ বিশ্বকাপে খেলা আফ্রিকার ছয় দলের মধ্যে পাঁচ দলের দায়িত্বে ছিলেন ভিন মহাদেশের কোচ। একমাত্র ব্যতীক্রম ছিল আলজেরিয়া, ঘরের ছেলের হাত ধরে নিজ মহাদেশের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল তারা। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আফ্রিকার পাঁচ দলের কোচই ছিলেন ইউরোপিয়ান।
যুগের পর যুগ ধরে অন্য মহাদেশের কোচদের প্রতি আস্থা রাখার বিষয়টি আফ্রিকার দেশগুলোর কাছে স্বাভাবিক নিয়ম ছিল যেন। এমনকি, সেটা শুধু জাতীয় দলের বেলায় নয়, ক্লাব পর্যায়েও। সেই প্রবণতা নিয়ে এখন জোরালভাবে প্রশ্ন উঠছে। সেনেগালের কোচ আলিউ সিসেও বলছেন তেমনটাই। তার হাত ধরে দেশটি টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলবে এবার। প্রথাগত ধ্যান-ধারণার পরিবর্তনে স্থানীয়দের শীর্ষ পর্যায়ে কাজের সুযোগ বাড়ছে বলেও মনে করেন সিসে।
“আফ্রিকা মহাদেশের কোচদের মানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটছে।” এই পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগতে শুরু করে চার বছর আগে; ২০১৮ বিশ্বকাপের পর থেকে। রাশিয়ার ওই আসরে আফ্রিকার দলগুলোর মধ্যে দুটি দেশের ভার ছিল ওই মহাদেশের কোচের কাঁধে, সিসে ছিলেন তার মধ্যে একজন। বাকি তিন দলের দায়িত্ব ছিল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও জার্মানির কোচের হাতে।
সম্প্রতি এই পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেন সিসে। যেখানে তিনি তুলে ধরেন স্থানীয় কোচদের মূল্যায়ন করার প্রয়োজনীয়তার দিকটি। “আমাদের স্বপ্ন আফ্রিকান বিশেষজ্ঞরা মূল্যায়ন পাক, সবার বুঝতে হবে আফ্রিকায়ও খুব ভালো মানের কোচ আছে।”
স্থানীয় কোচদের সে চাওয়া পূরণ হতে শুরু করেছে। আফ্রিকান নেশন্স কাপের গত দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দুই আফ্রিকান কোচের দল। আফ্রিকার ক্লাবগুলো নিয়ে হওয়া সিএএফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গত সাত আসরে শিরোপা জেতা দলগুলোর দায়িত্বেও ছিলেন আফ্রিকান। ওয়েদাদ কাসাব্লাংকার কোচ হয়ে গত মে মাসে সিএএফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেন ওয়ালিদ রেগ্রাগুই। দুই মাস আগে মরক্কো তাদের এই সাবেক ডিফেন্ডারের হাতেই তুলে দিয়েছে দলের হাল।
ক্যামেরুনের দায়িত্বে থাকবেন রিগোবার্ট সং, দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতার ঋদ্ধ তিনি। একইভাবে ঘরের ছেলে জালেল কাদরিকে তিউনিশিয়া এবং অটো আডোকে বেছে নিয়েছে ঘানা। আফ্রিকার ফুটবলে এক দশকেরও বেশি সময় কাজ করা বেলজিয়াম কোচ টম সেইনফিট মনে করেন, আফ্রিকার ফুটবল বুঝতে পারা কোচরাই তাদের দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
“(ইউরোপের কোচদের প্রসঙ্গে) এই লোকগুলোর অতীত সাফল্য থাকতে পারে এবং তারা ইউরোপে ভালো কোচ হতে পারেন, কিন্তু আফ্রিকার ফুটবলের জন্য সঠিক সময়ে সঠিক কোচ খুবই প্রয়োজন।” “এমন কেউ যে আফ্রিকান ফুটবল ও সেখানকার সংস্কৃতি বোঝে, আফ্রিকার দলে কাজ করার সুবিধা-অসুবিধাগুলো বোঝে এবং খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চটা বের করে আনতে পারবে, তাদেরকে প্রয়োজন।” সিসে, জালেলরা তা কতটুকু পারবেন, এবারের বিশ্বকাপে তা দেখার কৌতুহলও থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।


প্রকাশিত: নভেম্বর ১০, ২০২২ | সময়: ৬:১১ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ