চলতি বছর রাজশাহী বিভাগে পানিতে ডুবে ৯৬ জনের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিভাগে ২০২২ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ৯৬ জন, রাজশাহী জেলায় ১২ জন। গত বছর (২০২১ সালে) রাজশাহী বিভাগে ১৬৭ জন ও রাজশাহী জেলায় ১৪ জন। তবে বাস্তব চিত্র এর চেয়েও কয়েকগুণ বলে রাজশাহী মহানগরীতে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন।
মিডিয়া নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘সমষ্টি’ এর মিডিয়া মনিটরিং রিপোর্ট অনুযায়ী পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বুধবার এসেডো এবং গণসাক্ষরতা অভিযান এর যৌথ আয়োজনে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ বিষয়ক বিভাগীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশে শিশু মারা যাওয়ার নানা কারনের মধ্যে পানিতে ডুবে শিশু মারা যাবার ঘটনা নতুন কিছু না। দেশের বিভিন্ন জায়গার মতো রাজশাহী বিভাগেও প্রতি বছর পানিতে ডুবে শিশু মারা যায়।
কর্মশালায় কমিউনিটি, শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধি, মিডিয়া, যুব প্রতিনিধি, ভুক্তভোগী অভিভাবক এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ প্রায় ৬০ জন অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা ছয়টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ, করণীয় এবং কার কি দায়িত্ব তা লিখে অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্, এনডিসি। তিনি বলেন, ‘শুধু পুকুর ডোবায় নয়, গামলায় বালতিতে থাকা অল্প পানিতে শিশুরা মারা যাচ্ছে শুধুমাত্র অসচেতনতার কারণে যেটা খুবই দুঃখজনক। পানিতে ডুবে মারা গেছে শুনলেই আমাদের মাথায় সাঁতারের কথা আসে কিন্তু ৬ বছরের আগে তো শিশুদের সাঁতার শেখারই সুযোগ নেই। মায়েরাও এখন কর্মজীবী তাই সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে এ মৃত্যু প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে যাবে।’
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ আরো বলেন, ‘পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে আমরা দেখছি ঘুরতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা পানিতে ডুবে অকালে মারা যাচ্ছে। মিডিয়াও দূর্ঘটনায় ৫ জন বিভৎসভাবে মৃত্যুবরণ করলে গুরুত্ব দিয়ে ছাপায় কিন্তু পানিতে ডুবে ২৫ জন মারা গেলেও গুরুত্ব দিয়ে ছাপায় না। তাদেরকে এগিয়ে আসতে বেশি বেশি বিষয়টাকে সামনে আনতে হবে যাতে সবাই গুরুত্ব দেয়। রাজশাহী বিভাগে কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত করণীয় সুপারিশগুলো আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।’
কর্মশালা উপলক্ষ্যে সমাপনী আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. আসাবুল হক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, গণসাক্ষরতা অভিযান এর উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, রাজশাহী জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর এর কমিউনিকেশন ম্যানেজার সারোয়ার-ই আলম। কর্মশালায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এসেডো এর নির্বাহী পরিচালক রবিউল আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণসাক্ষরতা অভিযান এর প্রোগ্রাম অফিসার সিজুল ইসলাম।


প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২২ | সময়: ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর