১৭৪ বছর পুরনো মাঠে সাকিবদের প্রথম পদচিহ্ন

স্পোর্টস ডেস্ক: সংবাদ সম্মেলন থেকে বের হয়ে বাইরে যাওয়ার পথ খুঁজছিলেন সাকিব আল হাসান। একজন নিরাপত্তাকর্মীকে জিজ্ঞেস করলেন পথ। একটু দাঁড়িয়ে স্বগতোক্তির মতো বললেন, ‘কোন দিকে কোথায় যাব, কিছুই তো বুঝতে পারছি না।”
ভিনদেশি একটি মাঠে এমন সমস্যায় পড়া স্বাভাবিকই। তবে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) জীবনে প্রথমবার এলেন সাকিব! বাংলাদেশ দল কখনোই এসসিজিতে খেলেনি, অন্য ক্রিকেটারদের তাই এখানে খেলার কথাই নয়। তবে সাকিবের প্রেক্ষাপট আলাদা। বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে বিগ ব্যাশে খেলেছেন তিনি। বিগ ব্যাশের ম্যাচ যদিও এখানে খেলেননি। তবে অনুশীলন বা প্রমোশনাল কিছু কিংবা কত কাজেই তো এই মাঠে এসে থাকতে পারতেন তিনি। ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলে বেড়ান। ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। কত কারণে কত জায়গায়ই তো যাওয়া হয়।
নিশ্চিত হতে আরেক দফায় জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, “আসলেই আগে কখনও আসিনি। আসা হয়নি আর কী। আজকেই প্রথম এলাম।” বিগ ব্যাশে দুই মৌসুম মিলিয়ে ৬টি ম্যাচ খেলেছেন সাকিব। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দুটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, মেলবোর্নেরই ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আরও দুটি। একটি করে খেলেছেন অ্যাডিলেইড ওভাল ও হোবার্টের বেলেরিভ ওভালে।
অবশেষে এসসিজিতে তার ও দলের অন্যদের পা পড়ল বুধবার। এখানেই বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ। আবেগ-রোমাঞ্চের প্রকাশে সাকিব বরাবরই নির্লিপ্ত। ১৭৪ বছর পুরনো এই স্টেডিয়ামে এসেও বিশেষ কিছু মনে হয়নি বলেই জানালেন। “একসময় এসব নিয়ে অনেক এক্সাইটমেন্ট কাজ করতৃ যখন খেলা দেখতাম বা খেলা শুরু করার পরও নতুন ছিলাম। এখন আর এসব নিয়ে কিছু মনে হয় না। দেখে ভালো লাগে, ওই পর্যন্ত। জিততে পারলে হয়তো আরও ভালো লাগবেৃ।”
বাংলাদেশ এই মাঠে আগে কোনো ধরনের ম্যাচ খেলেনি জেনে অবাক এ দিন সংবাদ সম্মেলনে থাকা ভিনদেশি সংবাদকর্মীরা। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে অফিসিয়াল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ সিডনিতেই খেলেছিল বাংলাদেশ। তবে সেটা ছিল শহর ধেকে বেশ দূরে ব্ল্যাকটাউনের একটি মাঠে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৬ বছর আর টেস্ট ক্রিকেটের আঙিনায় ২২ বছর কাটিয়ে দেওয়ার পরও এসসিজিতে খেলার সুযোগটি আসেনি আগে। এমন নয় যে অস্ট্রেলিয়ার বা ক্রিকেট বিশ্বের অন্য সব মাঠে বাংলাদেশ খেলে ফেলেছে। তবে আইকনিক এক মাঠ, যেটি ক্রিকেটে বিশ্বে দারুণভাবে পরিচিত এবং যেখানে প্রচুর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়, সেখানে বাংলাদেশের খেলতে না পারাটা কৌতূহল জাগানিয়া বটে।
সাকিব অবশ্য সংবাদ সম্মেলনেও এই মাঠে খেলা নিয়ে প্রশ্নে বেশ এক চোট মজা করে নিলেন। “মাঠ সম্পর্কে তো সোজা একপাশে ৭৫ মিটার, আরেক পাশে ৭৮ মিটার। এর বাইরে বেশি কিছু বলা আর সম্ভব নয়।”
তবে ক্রিকেট বিশ্বে এসজিসির অবস্থান কোথায়, এই আঙিনা কতটা বিশেষ কিছু, এখানে খেলতে পারার ওজন বা না পারার আক্ষেপ কেমন বা কতটা, এসব অবশ্য সাকিব ভালো করেই জানেন। মজাটুকু শেষে তাই বললেন, এসসিজিতে প্রথম ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখতে চান তিনি ও তার দল।
“খুবই ভালো মাঠ। স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রেস্টিজিয়াস একটা জায়গা। যেখানে আমিসহ পুরো দলই প্রথমবার খেলব। আমাদের জন্য অবশ্যই একটু রোমাঞ্চটা কাজ করবে যে এরকম একটা ভেন্যুতে আমরা শেষ পর্যন্ত খেলতে পারছি। যদিও আগেই আরও ম্যাচ খেলা উচিত ছিল। তবে সেটা হয়নি। এখন যেহেতু হচ্ছে, সবার জন্যই একটা সুযোগ এরকম একটা জায়গায় এরকম একটা উপলক্ষে দেশের জন্য ভালো কিছু করার।”


প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২২ | সময়: ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ