সর্বশেষ সংবাদ :

বাগমারায় পুলিশ স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে ২০২০ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। সংসারে তাদের ১৬ মাস বয়সের একটি ফুটফুটে কন্যা শিশু সন্তান রয়েছে। আলট্রাসনোগ্রামে গর্ভে কন্যা শিশুর লক্ষণ স্পষ্টের পর নাখোশ পিতা রিদুয়ানুল হক (২৪)। রিদুয়ানুল হক (পুলিশ কনস্টেবল /৯৩৩৪, বিপি-০১২০২৩৬৬০৫, ৯ এপিবিএন, ষোলশহর চট্রগ্রামে কর্মরত)।
রিদুয়ানুলের পিতার নাম আব্দুস সালাম গ্রাম মৌলভী পাড়া (বাংলা বাজার) থানা কক্সবাজার সদর, জেলা কক্সবাজার। স্ত্রী সামিউন নেসাকে (২২) গর্ভের সন্তান নষ্টের জন্য চাপ দিতে থাকেন পুলিশ সদস্য স্বামী রিদুয়ানুল হক। সামিউন নেসার বাবার বাড়ী রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার খামারগ্রামে।
সন্তান নষ্টের আপত্তি জানালে সামিউনের উপর শুরু হয় শারীরিক, মানষিক নির্যাতন শুরু করা হয়। দাবী করা হয় কখনও পাঁচ লক্ষ, কখনবা দশ লক্ষ টাকার যৌতুক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রীকে চরিত্রহীন বানাতেও সাজানো হয় পরিকল্পিত নাটক। এমন কী শাশুড়ি, নানি শাশুড়ি, শালিকাকে শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ রয়েছে। সে কারণে কর্তপক্ষ তাকে দুর্গম এলাকায় শাস্তিমূলক বদলিও করেছিলেন।
মাঝে মধ্যে কথায় কথায় সামিউনের উপর শারীরিক নির্যাতন করা হত। একাধিকবার পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে।
গত ১ রমজান মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। মাথায় দিতে হয় দুটি সেলাই। বাম চোখে আঘাত করলে ফুলে ফেঁপে মারাত্মক ক্ষতের সুষ্টি হয়। চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে গিয়েও নানা ভাবে হুমকি ধামকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। কেবলমাত্র পুলিশে চাকরির সুবাদে রিদুয়ানুল হক বার বার স্ত্রীকে নির্যাতন করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এমন অভিযোগ করেন খামার গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দীন মন্ডল এবং শাশুড়ি আফরোজা বেগম।
তারা জানান, এর আগে রিদুয়ানুল হক তার স্ত্রীকে আর নির্যাতন করবে না মর্মে তিনশত টাকার ট্যাম্পে অঙ্গীকারনাম করলেও পরবর্তীতে আবারও নির্যাতন শুরু করেছে। পরবর্তীতে তার উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে স্বামীর ঘরছাড়া করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত এপিবিএন সদস্য রিদুয়ানুল হকের মোবাইল ফোনে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। সেজন্য তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ভিকটিম তার কন্যা শিশু সন্তান নিয়ে পিত্রালয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সামিউন নেসার অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ব্ধোতন পুলিশ কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এসবের প্রতিকার চেয়ে সামিউন নেসা অতিরিক্ত আইজিপি এপিবিএন হেডকোয়াটার্স বাংলাদেশ পুলিশে লিখিত অভিযোগ এবং রাজশাহীর কোর্টে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।


প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২২ | সময়: ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ