পবায় প্রাথমিকের এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার এসএম শিশাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, এসএম শিশাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কবির হোসেন ও সহকারি শিক্ষক মো. মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
২০২১-২২ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের স্লিপ কার্যক্রমের জন্য ৫০ হাজার টাকা, মেরামত বাবদ ৪০ হাজার টাকা, শিশু শ্রেণির জন্য ১০ হাজার টাকা ও খেলাধুলা বাবদ দুই হাজার টাকা মোট এক লাখ দুই হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। নামকাওয়াস্তে কাজ করে এবং না করে ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। শিক্ষা অফিসে বেঞ্চ রং করার জন্য নয় হাজার ৯০০টাকা ভাউচার দাখিল করা হয়। কিন্তু মিস্ত্রি মোমিন আলী জানান, রং করতে মাত্র দুই হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ছাদের প্যানেস্ট্যান ঢালাই ও একটি বেসিন ক্রয় বাবদ ৩৭ হাজার টাকা ভাউচার দেখালেও বাস্তবের সাথে মিল নাই। আবার শিশুদের খেলাধুলার পুরস্কার না দিয়েই ভুয়া ভাউচারে টাকা আত্মসাৎ করেছেন তারা।
এছাড়াও পুকুরের ইজারা বাবদ তিন বছরে ৭৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এখানে অভিযুক্তরা উৎকোচের মাধ্যমে কমিটিকে না জানিয়ে মাত্র ৩০ হাজার টাকা ইজারা গ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের পানের নিরাপদ পানি ও টয়লেটে পানি সংকট থাকলেও টিউবওয়েল মেরামত না করেই ভুয়া ভাউচারে টাকা উত্তোলন করা হয়। এদিকে বিদ্যালয়ের সংরক্ষিত কাঠ প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় সহকারি শিক্ষক মাইনুল ইসলাম তার বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক থানায় গ্রামবাসির ওপরই জিডি করেন।
উল্লেখ, ২০১২ সালে প্রধান শিক্ষক কবির হোসেনকে পবার হাড়ুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তালাইকুন্দলিয়া গোদাগাড়ীতে বদলী করা হয়। সেখানেও দপ্তরি নিয়োগে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। ২০১৮ সালে পবা উপজেলা শিক্ষা অফিস ১৬ হাজার টাকা আর্থিক অনিয়ম, ভুয়া ভাউচার ও সভাপতির স্বাক্ষর জালের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ হয়।
বর্তমানে তিনি পবা উপজেলার এসএম শিশাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসেও একই কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা তার কাছে হিসাব চাইলে তিনি হিসাব দিতে বাধ্য নয় বলে জানান। এছাড়াও অভিভাবকবৃন্দের সাথে খারাপ আচরণ করায় এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী পাঠাতে অনেকে অনীহা প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রিপন আলী বলেন, কিছু কাজ করেছে। তবে ভাউচারের সাথে কাজের মিল নাই বলে তিনি জানান।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন বলেন, অভিযোগটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত। ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সাথে নিয়েই কাজ করা হয়েছে। কোন ধরণের অনিয়ম হয় নাই।
এ বিষয়ে পবা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০২২ | সময়: ৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর