প্রার্থীদের টাকা ফেরত দিতে বললেন দুর্গাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার : জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটাররা টাকা নিয়েছেন। একজনের কাছ থেকে নয়, বরং প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকেই তারা টাকা নিয়েছেন। এমন অভিযোগ তুলে ওই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ভোটারদের বলেছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম।
শনিবার সকালে দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের হলরুমে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান, সদস্য ও সচিবদের এক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলেছেন। জেলা পরিষদ নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ভোটার ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান রীতিমতো ভোটারদের অপমান করেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মনসুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম।
তিনি ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের একটু লজ্জা হচ্ছে না? একটু শরম হচ্ছে না? কার কাছ থেকে আপনারা টাকা নেননি? আমি দেখেছি, তিন নম্বর ইউনিয়নের তিনটা লোক, আর ৭ নম্বরের একটা লোক টাকা নেয়নি যে, আমরা টাকা নিব না।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা এই নির্বাচনের প্রচারকে, নির্বাচনকে এমনই নোংরাতে পরিণত করেছেন যেটা ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না। আমি এই কারণে সাবধান করছি যে যারা প্রার্থী ছিল, তারা কিন্তু সব বাইরে অপেক্ষা করছিল। আপনাকে একটা একটা করে ধরেছে। আপনি কাকে ভোট দিয়েছেন বলেন? তিনটা ভোট তিনজনাকে দিয়েছেন। বাদ বাকি টাকাগুলো ফেরত দেন। এখানে কারণ বলার কিছু নাই। কারণ, তারা তো টাকা দিয়েছে।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নজরুল আরও বলেন, একটা ছেলে লোন করে ভোটে দাঁড়ায়ছে। জেদের ওপরে তার মোটরসাইকেলটাও বিক্রি করে দিয়েছে। চলার পথ নাই, তার টাকাও আপনারা খান? আপনারা এই জনগণের সেবা করতে আসছিলেন? এই সেবা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের মান রক্ষা করবেন আপনারা? আপনাদের একটু লজ্জা হয় না? যাহোক, আপনারা সাবধান হোন। আর টাকাগুলান তাড়াতাড়ি ফেরত দিবেন।’
তার এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা পরিষদ নির্বাচনে একটা সদস্য পদের জন্যই ছয়-সাতজন দাঁড়িয়েছিল। যাকে ভোট দেবে, তার কাছ থেকে খরচপাতি নিতে পারে। কিন্তু সবার কাছ থেকে একই ব্যক্তি টাকা নিয়েছে। এটা কেমন কথা ভাই?’
তিনি বলেন, ‘সব প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিলেও তো ভোট একজনকে দিয়েছে। তাই বাকি প্রার্থীদের টাকা যেন গোপনে ফেরত দেন। ভোটে টাকা তো লেনদেন হয়েছে। একটা ছেলে ভোটে দাঁড়িয়ে নিঃশ্ব হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যেটা সত্য কথা সেটা অস্বীকার করার কিছু নেই।’


প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২২ | সময়: ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ