রাজশাহীতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

‘পর্যটনে নতুন ভাবনা’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার নানা কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে রাজশাহীতে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্ এনডিসি। আলোচনা সভার শুরুতে রাজশাহী জেলার পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সানিয়া বিনতে আফজল।

 

রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২২ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ, এনডিসি এসব কথা বলেন।

 

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, থাইল্যাণ্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া পর্যটনে অনেক আগেই উন্নতি করেছে। আমাদের দেশ পাশের শ্রীলংকা, মালদ্বীপ; ভুটানও সম্প্রতি অনেক এগিয়ে গেছে। এখন অনেক দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অর্ধেকই আসে পর্যটন খাত থেকে।

 

জি এস এম জাফরউল্লাহ্ বলেন, আমাদের দেশে আগে কেউ বেড়াতে গেলেই কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও সিলেট যেত কিন্তু ওইসব স্থানে আর কত? এভারেস্ট যেমন বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, তেমনি আমাদের কক্সবাজারও পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত। কিন্তু দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত থাকলে কী হবে, আমরা তো সেখানে চিপসের প্যাকেট, বাদামের খোসা, ডাবের খোলা ফেলে রাখিÑ এটা করা যাবে না। কুয়াকাটা সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায় কী, বিষ্ময়কর জায়গা। আগে সেখানে রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা ছিল, তবে এখন রাস্তা অনেকটা ভালো হয়েছে।

 

রাজশাহীর পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধান অতিথি বলেন, পদ্মাপাড়ে সুন্দর একটি ইকোপার্ক তৈরির জন্য মেয়র চেষ্টা করছেন। পদ্মাপাড়কে তিনি একটি চমৎকার স্পটে পরিণত করবেন। এখানে থাকার জায়গাসহ থাকবে সুন্দর রেস্টুরেন্ট ব্যবস্থা। আর কয়েক বছরের মধ্যে উত্তরবঙ্গের রাস্তাঘাট ভালো হয়ে যাবে।

 

তিনি রাজশাহীকে পরিবেশ বান্ধব, যানজটমুক্ত এবং নিরাপদ নগরী হিসেবে উল্লেখ করে সকলকে নিজেদের পরিচিতজনদের রাজশাহী ভ্রমণের জন্য আহ্বান জানাতে অনুরোধ করেন।

 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরী’র সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, ট্যুরিস্ট পুলিশ রাজশাহী রিজিয়ন পুলিশ সুপার মতিউর রহমান, রাজশাহী চেম্বার অফ কমার্সের পরিচালক সাদরুল ইসলাম, পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক মোতাহার হোসেন, রাটার সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম।

 

এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমি, রাজশাহী জেলা শিশু একাডেমি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ অন্যান্য সরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও পর্যটন কর্পোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

 

 

সানশাইন/তৈয়ব

 


প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ | সময়: ৯:২৭ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine

আরও খবর