দুর্গাপুরে জাল সনদে চাকুরী করছেন ৪ শিক্ষক, বেতন ফেরত নিতে ডিআইএ’র সুপারিশ

স্টাফ রিপোর্টার, দুর্গাপুর: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাল সনদে চাকুরী করছেন ৪ জন শিক্ষক। জাল সনদে চাকুরী করার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ইতিমধ্যে এক শিক্ষককে উত্তোলনকৃত বেতন-ভাতার সমুদয় অর্থ ফেরত প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি জাল সনদে চাকুরীরত শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা বিভাগ (ডিআইএ)। ডিআইএ ২০১৩ সাল থেকে ২৫ মে পর্যন্ত সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে মোট ১ হাজার ১৫৬ জন শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ভুয়া বলে তথ্য পেয়েছে। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) অনুসন্ধানে এসব জাল সনদধারীর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বেতনের টাকা ফেরত নিতে এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে ডিআইএ।

দুর্গাপুরের অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন, হাট কানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইস্রাফিল হোসেন, বখতিয়ারপুর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক (হিসাব বিজ্ঞান) কামরুল ইসলাম, দাওকান্দি ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক (সমাজবিজ্ঞান) সানজিদা খাতুন ও প্রভাষক (হিসাব বিজ্ঞান) মিজানুর রহমান। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও দুর্গাপুরের ঝালুকা মহাবিদ্যালয়, বক্তিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়, হাট কানপাড়া জোবেদা ডিগ্রী কলেজ, নান্দিগ্রাম দারুস সালাম আলিম মাদ্রাসা ও দুর্গাপুর ডিগ্রী কলেজেও জাল সনদে চাকুরী নেয়ার বিষয়টি এসেত। এসব প্রতিষ্ঠান সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি কোনো শিক্ষক জাল সনদ নিয়ে চাকুরী নিয়ে থাকেন এবং বেতন-ভাতা উত্তোলন করে থাকেন তাদের তালিকাও পর্যায়ক্রমে প্রকাশ হবে বলে জানিয়েছেন ডিআইএ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা ডিআইএ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং আর্থিক স্বচ্ছতা আনতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করে থাকেন। এক সময় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে পরিচালনা কমিটির একচ্ছত্র ক্ষমতা ছিল। এখন এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। এনটিআরসিএ’র বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ছাড়া শিক্ষক হওয়ার সুযোগ নেই।

ডিআইএর প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, যে এক হাজার ১৫৬ জন শিক্ষকের সনদ জাল বলে পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ৭৯৩ জন এনটিআরসিএ’র শিক্ষক নিবন্ধনের ভুয়া সনদ দেখিয়েছেন। অন্যদের মধ্যে ২৯৬ জনের কম্পিউটার শিক্ষার সনদ এবং ৬৭ জনের বিএড, গ্রন্থাগার, সাচিবিক বিদ্যা ও অন্যান্য বিষয়ের সনদ জাল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

ডিআইএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্গাপুর উপজেলার ৪ জন শিক্ষক জাল সনদের এই তালিকায় রয়েছেন। এদের মধ্যে হাট কানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ইস্রাফিল হোসেনকে উত্তোলনকৃত বেতন-ভাতার সরকারি অংশের ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫০ টাকা ফেরত নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাট কানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইস্রাফিল হোসেনকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করে পরিচয় পেয়ে কোনো কথা না বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বখতিয়ারপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মকলেছুর রহমান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ উঠার কারনে কামরুল ইসলামকে অনেক আগেই বাদ দেয়া হয়েছে।

দাওকান্দি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের কাগজপত্র ঠিক আছে দাবি করে বলেন, ভুল করে তাঁর কলেজের দুই শিক্ষকের নাম এসেছে। কিছু সমস্যা ছিলো সেটা সংশোধন করা হয়েছে। তবে কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি এক ধরনের দম্ভোক্তি দেখিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুল হক বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে ডিআইএ থেকে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তিতে অধিদপ্তরে নির্দেশনা দেয়া হবে। এরপর অধিদপ্তর থেকে যে ধরনের ব্যবস্থা নিতে বলবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, জাল সনদে চাকুরী নেয়ার ঘটনাটি ফৌজদারি অপরাধ বলে বিবেচিত হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশনা দেয়া হতে পারে।


প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ | সময়: ৮:১৮ অপরাহ্ণ | সানশাইন