কেশরহাটে ছাগল কেনা বেচা খাজনা ৫০০ টাকা

মোহনপুর সংবাদদাতা: রাজশাহীর কেশরহাটে ছাগল কিনলে ৪৫০ টাকা ও বেচলে ৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে ইজারাদার সাইদুর দিগরের বিরুদ্ধে। সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে অনেকটা জোর করে আদায় করা হচ্ছে হাসিল বা খাজনা।
কেনা বেচা রসিদ লেখকের মাধ্যমে হাটের ইজারাদাররা প্রশাসনসহ বিভিন্ন অজুহাতে দেখিয়ে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করছেন এমন অভিযোগ ক্রেতাদের। ফলে পশু কিনতে গিয়ে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তবে উপজেলা প্রশাসন ও কেশরহাট পৌর কর্তৃপক্ষ সব কিছু জেনেও না জানার ভান করছেন। সেকারনে ইজারাদারদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন এ হাটে আসা ক্রেতা বিক্রেতারা।
জানা গেছে, সরকারি হাট বাজারগুলোর ব্যবস্থাপনা ও ইজারা প্রদানের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ছাগল ও ভেড়া ১৬০ টাকা করে হাসিল আদায় করা যাবে। গবাদিপশুর ক্ষেত্রে কেবল ক্রেতারা হাসিল দেন। কিন্তু এ হাটে দু’পক্ষের থেকেই নেয়া হচ্ছে হাসিল।
হাটে দৃশ্যমান স্থানে হাসিল আদায়ের তালিকা টাঙানো বাধ্যতামূলক। হাসিল সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদারকি করবেন উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু এ হাটে এখন পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিলক্ষিত হয়নি। বুধবার কেশরহাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটের কোথাও খাজনা আদায়ের তালিকা টাঙানো নেই।
কেশরহাটে ছাগল কিনতে আসা উপজেলার তাতিপাড়া এলাকার হাবিবুর (৫২) একটি খাসি ৫ হাজার ৮’শ টাকা দিয়ে কিনেছেন। তার থেকে হাসিল বাবদ ইজারাদারের লোকজন ৪৫০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ৫০ টাকা আদায় করেছেন। তার থেকে হাসিলের টাকা বেশি আদায় করা শুনে তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ বড়লোকরা সব সময় আমাদের শোষণ করে আসছে। যাদের বিচার করার দায়িত্ব তারা মিলেই বেশী টাকা নিচ্ছে অভিযোগ করে লাভ কি?
মিরপুর এলাকার মুনসুর বলেন, একটি খাসি কিনেছি ৫০০ টাকা হাসিল দিয়েছি। এ হাটে সরকার নির্ধারিত খাজনার থেকে তিন গুণ খাজনা আদায় করা হচ্ছে। এতো বেশি টাকা খাজনা আদায় করা হলেও কেউ ইজারাদারদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারছেন না। বেশি হাসিল নিচ্ছেন কেন জানতে চাইলে ইজারাদার পক্ষের ধমক দেন।
ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী ছাগলের হাসিল ১৬০ টাকা জায়গায় ৫০০ টাকা হাসিল আদায় করা হচ্ছে।
এবিষয়ে পবা উপজেলার দাদপুর গ্রামের পাইকারী ছাগল ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি এ হাটে নিয়মিত ১৫-২০টি ছাগল কিনে থাকি আমার থেকে ছাগল প্রতি ২০০ টাকা খাজনা আদায় করা হয়।
হাটে ছাগল, ভেড়া ক্রয়-বিক্রয় খাজনা রশিদে ক্রেতা ও বিক্রেতার নাম, বিক্রয় মূল্য লেখা থাকলেও খাজনা আদায়ের ঘর ফাঁকা রাখছেন রসিদ লেখকেরা। কেশরহাট ইজারাদার সাইদুর রহমানকে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, হাট নিয়ে লোকসান হচ্ছে তাই বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে।
এবিষয়ে কেশরহাট পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ বলেন, কোটি টাকা দিয়ে তারা হাট ডাক নিয়েছে একটু বেশি টাকা নিলে কি এমন ক্ষতি হবে। আমার কাছে কেউ অভিযোগ করে তাকে স্পেশালি ছাড় দেয়া হয়।
অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানওয়ার হোসেন বলেন, কেশরহাট পৌর মেয়র হাট ইজারা দিয়েছেন। পশুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করলে তিনি তদারকি করবেন।


প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২২ | সময়: ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর