হংকংকে উড়িয়ে সুপার ফোরে ভারত

স্পোর্টস ডেস্ক: শক্তি-সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতায় দুই দলের পার্থক্য বিশাল। মাঠের লড়াইয়েও পড়ল এর প্রভাব। বাজে সময়কে পেছনে ফেলার অভিযানে বিরাট কোহলি উপহার দিলেন পঞ্চাশ ছাড়ানো ইনিংস। ঝড় তুললেন সূর্যকুমার যাদব। দুইশর কাছাকাছি পুঁজি নিয়ে হংকংকে অনায়াসে হারিয়ে দিল ভারত।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে ৪০ রানে জিতেছে ভারত। পাকিস্তানকে হারানোর পর এই জয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে টুর্নামেন্টের সুপার ফোরে। কোহলি ও সূর্যকুমারের ফিফটিতে ২ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান করে ভারত। দলটির বিপক্ষে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা হংকং করতে পারে ৫ উইকেটে ১৫২।
লম্বা একটা সময় ধরে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারছিলেন না কোহলি। এতে বাড়ছিল চাপ। ৩ ছক্কা ও ১ চারে ৪৪ বলে অপরাজিত ৫৯ রানের স্বস্তির ইনিংস খেলে ফর্মে ফেরার আভাস দিলেন এই তারকা ব্যাটসম্যান। ব্যাট হাতে ছন্দে থাকা সূর্যকুমার নিজেকে মেলে ধরেন আবারও। প্রতিপক্ষের বোলারদের গুঁড়িয়ে করেন ৬৮ রান। যার মধ্যে ৬০ রানই আসে বাউন্ডারি থেকে। ২৬ বলের অপরাজিত ইনিংসে মারেন ৬টি করে ছক্কা ও চার।
লোকেশ রাহুল ও রোহিত শর্মার ব্যাটে শুরুটা ভালোই করে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ভারত। পঞ্চম ওভারে আয়ুশ শুক্লার স্লোয়ারে ভাঙে তাদের ৩৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। মিড-অনে আইজাজ খানের দারুণ ক্যাচে বিদায় নেন রোহিত। এরপর রাহুল ও কোহলি গড়েন পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি। তাদের ব্যাটে ১০ ওভার শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৭০/১।
এই দুইজনের ৫৬ রানের প্রতিরোধ ভাঙেন লেগ স্পিনার মোহাম্মদ গজনফার। ২ ছক্কায় ৩৯ বলে ৩৬ রান করা রাহুল হন কট বিহাইন্ড। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলে চার মেরে রানের খাতা খোলেন সূর্যকুমার। পরের বলে মারেন আরেকটি। ছুটতে থাকেন দুর্দান্ত সব শট খেলে। আর শুরুতে দেখেশুনে ইনিংস গড়া কোহলি সময়ের সঙ্গে দম দেন রানের চাকায়। ৪০ বলে তিনি স্পর্শ করেন ফিফটি। এই সংস্করণে যা তার ৩১তম পঞ্চাশ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ ইনিংস পর পঞ্চাশের স্বাদ পান কোহলি। এক সময় যার ব্যাটে বইত রানের স্রোত, তার জন্য এটা বড় কিছু নয় অবশ্যই। তবে ফর্মহীনতায় সমালোচনার মুখে পড়া কোহলির জন্য ইনিংসটি স্বস্তি হয়েই আসার কথা।
খুনে ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই যেন এদিন মাঠে নামেন সূর্যকুমার। আয়ুশ শুক্লাকে ওভারে দুই চারের সঙ্গে মারেন এক ছক্কা। শেষ ওভারে হারুন আরশাদের ওপর বইয়ে দেন ঝড়। এই পেসারের প্রথম পাঁচ বলে মারেন চারটি ছক্কা। ওভার থেকে আসে মোট ২৬ রান। বিধ্বংসী এই ইনিংসের পথে ২২ বলে ফিফটি করেন সূর্যকুমার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে যা তার ষষ্ঠ পঞ্চাশ।
তৃতীয় উইকেটে কোহলি ও সূর্যকুমারের বিস্ফোরক অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে ৪২ বলে ৯৮ রান। জবাব দিতে নেমে হংকং দ্বিতীয় ওভারেই হারায় উইকেট। আর্শদিপ সিংয়ের বাউন্সার পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে ধরা পড়েন ইয়াসিম মুর্তজা।
বাবর হায়াত দ্রুত রান তোলায় মনোযোগ দেন। ভুবনেশ্বর কুমারের পর ছক্কায় ওড়ান তিনি আভেশ খানকে। আর্শদিপকে মারেন দুই চার। ওই ওভারে ফ্রি হিট বলে রবীন্দ্র জাদেজার সরাসরি থ্রোয়ে রানআউট হয়ে যান হংকং অধিনায়ক নিজাকাত খান। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেটে হারিয়ে ৫১ রান তোলে হংকং। এরপর কমে যায় তাদের রানের গতি। ১০ ওভার শেষে তাদের স্কোর ৬৫/২। দলটির রান একশ স্পর্শ করে পঞ্চদশ ওভারে।
২ ছক্কা ও ৩ চারে ৪১ রান করা বাবরকে ফিরিয়ে দেন জাদেজা। ভুবনেশ্বরের শিকার ১ ছক্কা ও ২ চারে ৩০ রানের ইনিংস খেলা কিঞ্চিৎ শাহ। এরপর কেবল হারের ব্যবধান কমায় হংকং। শেষ দিকে ১৭ বলে অপরাজিত ২৬ রান করেন জিশান আলি। ৮ বলে ১৬ রান করেন স্কট ম্যাকেখনি। দুইজনেই মারেন একটি করে ছক্কা ও দুটি চার। আজ শুক্রবার পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে হংকং। এই দুই দলের মধ্যে বিজয়ী দল সুপার ফোরে আগামী রোববার মুখোমুখি হবে ভারতের।


প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২২ | সময়: ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ