বোলিং নয়, বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচের ‘ভাগ্য গড়ে দেবে’ ব্যাটিং

স্পোর্টস ডেস্ক: “আফগানিস্তান কত দূর যেতে পারে? ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব?”, প্রশ্নটা শুনে একটু ভাবলেন সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। ভারতের সাবেক এই ব্যাটসম্যান বললেন, এটা নির্ভর করছে ব্যাটিং গভীরতার উপর। আফগানিস্তানের টপ অর্ডারের ব্যাটিং নিয়ে কোনো সংশয় নেই তার। তবে তিনি সন্দিহান আফগানদের মিডল অর্ডার নিয়ে।
ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচের ধারাভাষ্য দিতে রোববার দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আসেন মাঞ্জরেকার। সেখানেই ছোট্ট আলাপে তিনি শোনালেন বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচ নিয়ে তার অভিমত। “টি-টোয়েন্টির ভাগ্য আসলে নির্ভর করে ব্যাটিং গভীরতার উপর। সেটা আছে বাংলাদেশের। সাকিব আল হাসান নেতৃত্ব ফিরেছে, বাংলাদেশ দল ভালো করবে। আফগানিস্তানের হয়তো ব্যাটিং গভীরতা ততটা বেশি না। এই জায়গাটায় পিছিয়ে থাকবে ওরা।”
শক্তি, সামর্থ্য, বৈচিত্র্যর দিক থেকে বোলিংয়ে এগিয়েই থাকবে আফগানিস্তানই। রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, মোহাম্মদ নবির মতো স্পিনার আছে দলে। সঙ্গে আছে দুই তরুণ পেসার ফজলহক ফারুকি ও নাভিন-উল-হক। যে কোনো উইকেটে প্রতিপক্ষকে নাড়িয়ে দেওয়ার সামর্থ্য তাদের আছে। তবে এই বোলারদের নিয়ে গড়া দলকে তো আগে হারানোর অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের। রোববার আইসিসি ক্রিকেট একাডেমি মাঠে সংবদ সম্মেলনে মেহেদী হাসান মিরাজ আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠেই বললেন, আফগান বোলিং আক্রমণ সামাল দেওয়ার সামর্থ্য ভালোভাবেই আছে তাদের।
“একটা জিনিস দেখেন, ওদের বোলিং আক্রমণ খুবই ভালো। আমাদের ব্যাটসম্যানরাও অনেক ভালো। শেষ কয়েক দিন আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি ওদের বোলারদের নিয়ে। ওদের যে কয়জন বোলার আছে, তাদের কীভাবে খেলতে হবে, এটা নিয়ে সবাই পরিষ্কার। সে অনুযায়ী আমরা অনুশীলন করেছি। দেশেও করেছি, এখানেও করেছি। এখন স্রেফ বাস্তবায়ন করতে হবে মাঠে। মাঠে খেলতে হবে, প্রয়োগ করতে হবে।”
“আমরা এর আগেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলেছি। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি, জিতেছি। সব মিলিয়ে এমন না যে, আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। হ্যাঁ, ওদের বোলিং বোলিং লাইনআপ অনেক শক্তিশালী। তবে আমাদের ব্যাটসম্যানরাও অনেক অভিজ্ঞ ও ভালো কাজ করছে। সবাই এখন ভালো টাচে আছে।”
তবে ভালো প্রস্তুতিই সব সময় যথেষ্ট হয় না। সাফল্েযর জন্য নির্ভর করে অনেক কিছু। মিরাজের মতে এর একটি খোলা মন নিয়ে খেলা। “যে শট যে ভালো খেলে, সেটার উপর আত্মবিশ্বাস থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ওইটাই অনুসরণ করছি যে, ওদের বোলারদের আমরা খোলা মন নিয়ে কীভাবে সামলাব। দ্বিধায় থাকলে কখনও সফল হওয়া যায় না। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আপনার মন স্বচ্ছ রাখতেই হবে। অবশ্যই যে জিনিসটা করবেন, সেটার ভেতরে আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। ওই ভাবে আমরা পরিকল্পনা করছি, ওইভাবেই আমরা চেষ্টা করছি।”
এই চেষ্টার মধ্েয আছে স্পিনিং উইকেটে রশিদ, নবি ও মুজিবদের সামলানোও। যারা এই ধরনের উইকেটে হয়ে উঠতে পারেন অপ্রতিরোধ্য। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাটিং উইকেটের ধারণা নিয়ে শারজাহতে খেলতে গিয়ে বাংলাদেশ দেখেছিল, সেখানে সহায়তা আছে স্পিনারদের জন্য। এবার তাই পরিকল্পনায় আছে স্পিনিং উইকেটও। তবে মিরাজ মনে করেন, উইকেট শেষ পর্যন্ত স্পিনারদের হয়ে কথা বললেও ব্যবধান গড়ে দেবেন ব্যাটসম্যানরাই।
“স্পিনিং উইকেট হলে আমরাও সুবিধা পাব, ওরাও সুবিধা পাবে। কারণ, ওদের স্পিন আক্রমণ ভালো। আমাদেরও স্পিন আক্রমণ ভালো। দেখতে হবে যে, কারা ভালো ব্যাটিং করছে ওই উইকেটে।” “যারা ভালো ব্যাটিং করবে অবশ্যই তাদের ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। কারণ, শারজাহতে যদি আমরা ভালো ব্যাটিং করি, তাহলে অবশ্যই ফল আমাদের পক্ষে আসবে। যদি ওরা ভালো ব্যাটিং করে, তাহলে ফল ওদের পক্ষে যাবে। এখানে ব্যাটিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটিং যারা ভালো করবে, তাদেরই বেশি সুবিধা পাবে।”


প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২২ | সময়: ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ