অ্যান্ডারসন-ব্রডদের আগুনে পুড়ল দ.আফ্রিকান ব্যাটিং

স্পোর্টস ডেস্ক: মেঘলা আকাশ। উইকেট থেকে মিলল সুইং ও বাড়তি বাউন্স। পেস সহায়ক কন্ডিশনে নিজেদের মেলে ধরলেন জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রডরা। তাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অল্পতে থেমে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে চাপে পড়ে ইংল্যান্ডও। তবে দৃঢ়তায় দলকে পথে রাখলেন জ্যাক ক্রলি ও জনি বেয়ারস্টো।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৫১ রানে গুটিয়ে দেয় ইংল্যান্ড। ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ উইকেটে ১১১ রান করে বৃহস্পতিবার দিন শেষ করে স্বাগতিকরা। ৪৩ রানে ৩ উইকেট হারানো ইংলিশদের হয়ে চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় ৭৭ বলে ১৭ রানে খেলছেন ক্রলি। ৬ চারে ৩৮ রানে অপরাজিত আছেন বেয়ারস্টো। প্রথম ইনিংসে এখনও ৪০ রানে পিছিয়ে আছে ইংল্যান্ড।
অ্যান্ডারসন, ব্রডদের ছোবল সামলে সফরকারীদের কেউ করতে পারেননি ৪০ রানও। তাদের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৬ রান আসে বোলার কাগিসো রাবাদার ব্যাট থেকে। ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ঘরের মাঠে শততম টেস্ট খেলার কীর্তি গড়া অ্যান্ডারসন ৩২ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। তার দীর্ঘ দিনের নতুন বলের সঙ্গী ব্রডের শিকারও তিনটি, ৩৭ রান দিয়ে।
এদিন অবশ্য নতুন বলে অ্যান্ডারসনের সঙ্গী ছিলেন দলে ফেরা অলিভার রবিনসন। ২০০৯-১০ মৌসুমে কেপ টাউন টেস্টের পর এই প্রথম ব্রড-অ্যান্ডারসন দলে থাকার পরও তারা জুটি বেঁধে শুরু করেননি দলের বোলিং। চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনে ম্যানচেস্টারে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের পঞ্চম ওভারেই খায় তারা ধাক্কা। অভিজ্ঞ অ্যান্ডারসনের ইনসুইংয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন অস্বস্তিতে থাকা সারেল এরউইয়া।
ডিন এলগারকে ফেরাতে পারতেন রবিনসন। তার বলে শর্ট লেগে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন অলি পোপ। কিন্তু ওভার-স্টেপ করায় বলটি হয় ‘নো’, বেঁচে যান ১০ রানে থাকা প্রোটিয়া অধিনায়ক। সৌভাগ্যবশত বেঁচে গিয়েও টিকতে পারেননি এলগার। নিজের পরপর দুই ওভারে তাকে ও কিগান পিটারসেনকে ফিরিয়ে দেন ব্রড। দুইজনেই ক্যাচ দেন স্লিপে।
আক্রমণে এসেই এইডেন মারক্রামের শিকার ধরেন বেন স্টোকস। ইংলিশ অধিনায়কের শর্ট বল পুল করে আকাশে তুলে দিয়ে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন ব্যাটসম্যান। পরের ওভারে রাসি ফন ডার ডাসেনকে এলবিডব্লিউ করে দেন স্টোকস। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ব্যাটসম্যান। ৫ উইকেটে ৭৭ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
দ্বিতীয় সেশনের ষষ্ঠ ওভারে পরপর দুই বলে সাইমন হার্মার ও কেশভ মহারাজকে এলবিডব্লিউ করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান অ্যান্ডারসন। শেষ পর্যন্ত যদিও পারেননি তিনি। নবম উইকেটে আনরিক নরকিয়াকে নিয়ে রাবাদার ৩৫ রানের জুটিতে দেড়শ রানের পুঁজি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। রাবাদাকে ফিরিয়ে তাদের ইনিংস গুটিয়ে দেন জ্যাক লিচ।
প্রতিপক্ষের ব্যাটিং অল্পতে গুঁড়িয়ে দেওয়ার স্বস্তি দ্রুতই উবে যায় ইংল্যান্ডের। দ্বিতীয় ওভারেই লুঙ্গি এনগিডির বলে কট বিহাইন্ড হয়ে যান অ্যালেক্স লিস। দ্রুত কিছু রান তুলে বিদায় নেন পোপও। নরকিয়ার এক ওভারে ৩ চার মারা ব্যাটসম্যানের স্টাম্প এলোমেলো হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার এই পেসারের বলেই।
রাবাদার বলে অভিজ্ঞ জো রুটের ক্যাচ চারবারের চেষ্টায় নিয়ে স্বাগতিকদের আরও চাপে ফেলে দেন এরউইয়া। চাপ বাড়াতে দরকার ছিল আরও দুয়েকটি উইকেট, সেটা করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। শক্ত হাতে দলকে এগিয়ে নেন ক্রলি ও বেয়ারস্টো। তাদের ৬৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে স্বস্তিতে দিন শেষ করে ইংলিশরা।


প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২২ | সময়: ৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ