সর্বশেষ সংবাদ :

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে পর্যটন শীর্ষক সেমিনার

স্টাফ রিপোর্টার : মুজিব’স বাংলাদেশ, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে পর্যটন শীর্ষক রাজশাহী বিভাগীয় সেমিনার সোমবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মুজিব’স বাংলাদেশ পর্যটন ব্র্যান্ডনেম প্রচারের লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ্ এনডিসি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সেমিনারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মোকাম্মেল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো: মোকাম্মেল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমেই বিদেশীরা বাংলাদেশকে চিনেছে, এজন্য ‘মুজিব’স বাংলাদেশ পর্যটন ব্র্যান্ডনেমটি অত্যন্ত যৌক্তিক হয়েছে। বাংলাদেশের পর্যটন জাতির পিতার হাত ধরে শুরু হয়েছিল। ১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন গড়ে তুলেছিলেন। দেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তিনি যান নাই। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের পর্যটনের সম্ভাবনা অনুধাবন করেছিলেন। পর্যটনের প্রতি তার যেমন টান ছিল, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও তাঁর দেখানো পথে পর্যটনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ, রয়েছে ধর্মীয় সম্প্রীতি, অতিথিপরায়ণ মানসিকতা এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন- এগুলোর সবই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে; পর্যটনের এমন কোনো উপাদান নেই, যা বাংলাদেশে নেই। পর্যটন জাতির বৃহৎ ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।
পৃথিবীর অনেক দেশ পর্যটনের উপর টিকে আছে উল্লেখ করে বলেন, পৃথিবীর গড় জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ১০ শতাংশ। বাংলাদেশে জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৩-৪ শতাংশ। এটা ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। বাংলাদেশকে উন্নয়ন করতে হলে আমাদের একটি সহজ উপায় আছে তা হলো পর্যটনের উন্নয়ন করা।
তিনি বলেন, কাউকে পিছনে ফেলে উন্নয়ন করা যাবে, কিন্তু উন্নয়ন টেকসই হবে না। সরকারের দায়িত্ব সুবিধা করে দেয়া। উন্নয়ন আসলে স্থানীয় মানুষকেই করতে হয়। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করেই পর্যটনকে বিকশিত করতে হবে। কাজেই সবাইকে নিয়েই উন্নয়নের পথে যেতে হবে। তবে দেশের উন্নয়ন হবে, মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং দারিদ্র্য কমবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের। তিনি সেমিনারে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে মুজিব’স বাংলাদেশ লোগোর প্রেক্ষাপট ও ট্যুরিজম উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে অবহিত করেন।
সেমিনারে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার নানা শ্রেণি-পেশার ৯৬ জন ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে বক্তাগণ বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন সুবিধা, নিরাপত্তা জোরদারকরণ, প্রচারণা বৃদ্ধিকরণ, পর্যটনস্থানগুলোতে অবৈধ দখলমুক্তকরণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ করেন।


প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২২ | সময়: ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ