জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যা কারিদের বিচার না করে পুরুস্কৃত করেছিলো : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নুরুজ্জামান,বাঘা : রাজশাহীর চারঘাট-বাঘা থেকে তিন তিনবার নির্বাচিত সাংসদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, জিয়াউর রহমান ও মির্জাফর মোস্তাক বঙ্গবন্ধু হত্যাকারিদের বিচার না করে “ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ”জারির মাধ্যমে তাদেরকে পুরুস্কৃত করে ছিলেন।

শনিবার দুপুরে বাঘার ঝিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আড়ানী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সহ ৭৫ এর পনেরো আগস্ট নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার সকল শহীদদের স্মরণে শোক সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আড়ানী ইউপি চেয়ারম্যার প্রভাষক রফিকুল ইসলাম রফিক এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় মন্ত্রী বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারবর্গ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনি ব্যবস্থা থেকে শাস্তি এড়াবার ব্যবস্থা প্রদানের জন্য বাংলাদেশে “ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ” আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। আর এ কাজটি করেছিলেন জিয়াউর রহমান সরকার। সে সময় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। জিয়াউর রহমান। কারণ এই হত্যার সাথে পাকিস্থানীদের ষড়যন্ত্র ছিল। প্রায় ছয়মাস ইন্দ্রিরাগান্ধি তাদের দুই বোনকে আশ্রয়ে রেখে তারপর বাংলণাদেশে প্রবেশ করান। তবে ধান মন্ডির 32 নং বাড়িতে তাদের ঢুকতে দেয়া হয়নি।

শাহরিয়ার আলম বলেন, যারা জাতির পিতা-সহ পুরো পরিবারকে হত্যা করেছে তারা আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এ পর্যন্ত ২২ বার হত্যার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এতেও কোন লাভ হয়নি। কারণ আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমাদের বড় লজ্জা হয় প্রতি বছর পনেরো আগষ্ঠ এলে, তাদের তিনবার করে জন্মদিন পালন করা লাগে। আল্লাহপাক বলছেন, যে কাজটি করলে মানুষ কষ্ট পায় এমন কাজ করতে নেই। অথচ তারা আগষ্ট মাসে জন্মদিন পালন করে আমাদের উত্তেজিত করে । তিনি বলেন , শুনেছি, জিয়াউর রহমানের ছেলে আরাফাত রহমান কোকো নাকি অতিরিক্ত মাদক সেবন করার কারণে মারা গেছেন। পারলে তার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করবেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের দোসররা শেখ হাসিনার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে চাই। অথচ তাদের সময় সারের জন্য কৃষকরা আন্দোলন করতে গেলে দিনাজপুরে ২১ জন কৃষককে হত্যা করা হয়। হত্যা করা হয়, চাপাই এর কানসাটে বিদ্যুতের জন্য আন্দালনকারী প্রায় অর্ধশত মানুষকে। আজকে তাদের অবস্থা প্রায় দেওলিয়া। এখন তাদের সাথে আর কোন ভাল মানুষ নেই। জিয়া খাল খনন করে পানির পরিবর্তে কিছু মানুষ রুপি সাপ এনেছেন। সামনের নির্বাচনে তাদের প্রতীক হবে গমের শিষ অথবা হারিকেন।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলফুর রহমান, রাজশাহী জেলা মহিলা আ’লীগের সহ সভাপতি চপলা খাতুন, বাঘা উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, আড়ানী পৌর আ’লীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতি, আড়ানী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি নান্টু, মহিলা আ’লীগের সভানেত্রী আদরি বেগম ,যুবলীগ নেতা হায়ডস, প্রমুখ।এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্নজীবনীর উপর পাঠচক্র ও কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহনকারি বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরুস্কার তুলে দেন।

উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক বাঘা উপজেলা আলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নছিম উদ্দিন ও সিরাজুল ইসলাম মন্টু, আ’লীগ নেতা মাসুদ রানা তিলু, বাঘা পৌর সভার প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান পিনটু, উপজেলা মহিলা আ’লীগের সভানেত্রী ফাতেমা মাসুদ লতা , জেলা পরিষদের সদস্য জয়জয়ন্তি সরকার মালতি ও আড়ানী পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক রিবন আহাম্মেদ বাপ্পি-সহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ ও সুধীজন। সব শেষে পনেরো আগস্ট নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার সকল শহীদদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।


প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২২ | সময়: ৪:০৯ অপরাহ্ণ | সানশাইন