তানোরে বীর মুক্তিযোদ্ধার ঘর নির্মাণে যুবলীগ নেতার বাঁধা

তানোর প্রতিনিধি

 

রাজশাহীর তানোর উপজেলার সরনজাই ইউনিয়নের (ইউপি) সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ মন্ডলের দখলীয় সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণে বাধা দিয়েছেন যুবলীগ নেতা কাওসার আলী বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান করে প্রকাশ্যে গালাগাল ও মারপিটের হুমকি দিচ্ছেন তিনি। এঘটনায় এলাকাবাসির মাঝে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ মন্ডলের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সরঞ্জাই ইউনিয়নের (ইউপি) সরঞ্জাই মৌজায়, ১৮৭০ নম্বর দাগে ১৫ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ মন্ডল। যাহার দলিল নম্বর ২৭০২৯/৮০ এবং পিএস কেস নম্বর ৩৬/১১/৮০-৮। এই সম্পত্তি তিনি দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগদখল করে আসছেন। এমতাবস্থায় গত ৩ আগষ্ট বুধবার সেখানে ঘর নির্মাণ শুরু করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ মন্ডল। এসময় যুবলীগ নেতা কাউসার আলী ও সাবেক মহিলা মেম্বার শওকত আরার নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি ঘর নির্মাণে বাধাঁ দিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।

 

এঘটনায় নিজের অপরাধ ঢাকতে সাবেক মহিলা মেম্বার শওকত আরা বাদি তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ মন্ডলের বিরুদ্ধে সরকারি খাস-জায়গা দখলের অভিযোগ করেন।

এনিয়ে জানতে চাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুুল মজিদ মন্ডল বলেন, তার ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে ঘর করতে গিয়ে কাওসার আলী ও শওকত আরা বাঁধা দিয়ে যে ভাষায় গালাগালি করেছেন সেটা বলার ভাষা নয়। তিনি আরও বলেন, এর বিচার তিনি রাষ্ট্রের কাছে দিলেন, এটা দেশের পুরো মুক্তিযুদ্ধের অসম্মান করার সামিল বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়রা বলছেন, শুধুমাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই সম্পত্তি বীর মুক্তিযোদ্ধার দখলীয় সম্পত্তি। আর যদি খাস হয় তাহলেও সেই সম্পত্তির ভোগদখলের অধিকার সেই পরিবারের। মুক্তিযোদ্ধাকে হেউ করতে কাওসার ও শওকত আরা এমন মিথ্যে অভিযোগ করেছেন।

 

তানোর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা (তহসিলদার) লুৎফর রহমান বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের নির্মাণ কাজ স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যদি সম্পত্তি খাস হয় তাহলেও সবার আগে সেই সম্পত্তিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অধিকার রয়েছে।

 

এবিষয়ে জানতে চাইলে কাওসার আলী বলেন, গ্রামবাসী বাঁধা দিয়েছে। তিনি সহযোগিতা করেছেন মাত্র।

 

এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পংকজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ইউএনও।

সানশাইন / শাহ্জাদা মিলন

 


প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২২ | সময়: ১০:০১ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine

আরও খবর