সর্বশেষ সংবাদ :

বাঘায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ !

স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে । প্রতিষ্ঠান প্রধান, স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের যোগসাজশে এসব নিয়োগ সম্পূর্ণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী এবং সুশীল সমাজের লোকজন।

অভিযোগে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বাঘা উপজেলার প্রায় ১০ টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাম সর্বস্ব পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন পদে বিপুল অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে-কালিদাস খালি উচ্চ বিদ্যালয়, জোতরাঘব, গড়গড়ির খানপুর জে.পি, মীরগঞ্জ , চন্ডিপুর, কাদিরপুর ও তেঁথুলিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় । অপর দিকে যে সকল পদে নিযোগ সম্পূর্ণ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে-প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী, আয়া, গন্থাগার, ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেন, যারা বিভিন্ন পদে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের একেক জনকে প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের নামে গুনতে হয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা। এদের মধ্যে অনেকেই জমি বিক্রী আবার অনেকেই ব্যাংক লোন করে প্রতিষ্ঠান প্রধাণ অথবা স্কুল সভাপতির হাতে টাকা দিয়েছেন। এ দিক থেকে বেশকিছু পদে যোগ্য প্রার্থী থাকার পরেও রাজনৈতিক তদবির এবং বিপুল অর্থ লেনদেনের কারণে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেয়া হয়েছে।

বাঘার চাঁনপুর গ্রামের জিয়াব্বর আলী এ প্রতিবেদককে অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি তাঁর এলাকা খানপুর জে.পি উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনটি পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তার এক সন্তানকে তিনি সেখানে আবেদন করানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু নামসর্বস্ব পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তড়িঘড়ি নিয়োগ দেয়ায় তিনি তার সন্তানকে অবেদন করাতে পারেননি। পরে তিনি খোঁজ নিয়ে লোক মুখে জানতে পেরেছেন, যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান অনেক আগেই টাকা নিয়ে রেখে ছিলেন।

এ বিষয়ে গড়গড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, ঐ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি প্রধান শিক্ষকের আপন ভাই । নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে আমি নিজেও অবগত ছিলাম না । নিযোগ সম্পন্য হওয়ার পরে লোকমুখে বিষয়টি শুনেছি।

তবে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান কোন প্রার্থীর কাছ থেকে অগ্রীম টাকা নেয়া হয়নি দাবি করে বলেন, প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে কিছু অর্থ খরচ হয় এটা সকলের জানা । আমার স্কুলে তিনিটি পদে ১০ জন প্রার্থী পরীক্ষা দিয়েছে। এর মধ্যে একজনের বিষয়ে রাজনৈতিক তদবির ছিলো। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার উপস্থিত থেকে এ নিয়োগ সম্পূর্ণ করেছেন।

সার্বিক বিষয়ে বাঘা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কাশেম ওবায়েদ বলেন, কোন প্রতিষ্ঠান প্রধান কারো কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকলে সে জন্য আমি দায়ী নয়। আমি সরকারি বিধি মোতাবেক নিযোগ পক্রিয়া সম্পূর্ণ করে থাকি । আমার বিরুদ্ধে অর্থ নেয়ার যে সকল অভিযোগ শুনেছেন তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী এবং সুশীল সমাজের লোকজন বলেন, শুধু জে.পি স্কুল নয় । বাঘায় চলতি বছরে যে সকল মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ সম্পন্য করা হয়েছে তার মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই প্রার্থীদের কাছ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের নামে বিপুল পরিমান অর্থ নেয়া হয়েছে। এ দিক থেকে যারা চাহিদা মতো অর্থ যোগান দিতে পারেনি তারা নিযোগ পরীক্ষায় ভাল ফলাফল অর্জন করেও চাকরি পাননি ।আবার এমনও কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেও বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন অনেকে।যা সরেজমিন তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।


প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২২ | সময়: ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ | সানশাইন