বাঘার গরু স্থানীয় চাহিদা পুরনের পাশাপাশি সরবারহ হচ্ছে ঢাকায়

নুরুজ্জামান,বাঘা : আর মাত্র চারদিন পর অনুষ্ঠিত হবে কোরবানীর ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে বাঘা উপজেলায় অবস্থিত দু’টি পশু হাট। এই হাটে যে সমস্ত এলাকা থেকে গরু আমদানী করা হচ্ছে তার মধ্যে গুরুত্ব বহন করে চলেছে উপজেলার সীমান্তবর্তী বির্স্তীর্ণ পদ্মার চরাঞ্চল। সেখানে প্রত্যেক বাড়িতে রয়েছে প্রায় ২-৩ টি করে গরু। বর্তমানে এ সকল গরু-সহ সমতল এলাকায় পালিত হাজার-হাজার গরু স্থানীয় চাহিদা পুরনের পাশা-পাশি সরবরাহ  করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন শহরে। তবে গত বারের চেয়ে এবার বড় গরুর দাম অনেকটা কম বলে মন্তব্য করেছেন ক্রেতা ও সাধারণ জনগন।

স্থানীয় লোকজন জানান, ঈদের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ব্যস্ততা বাড়ছে ব্যবসায়ীদের। তারা বলছেন, প্রতিবছর ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে রাজশাহীর বাঘা সীমান্ত দিয়ে কম-বেশি ভারতীয় গরু প্রবেশ করতো। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত সেটি লক্ষ করা যায়নি। কারণ স্থানীয় খামারু এবং কতিপয় কৃষক যে পরিমান গরু লালন পালন করেছে, সেগুলো স্থানীয় চাহিদা পুরনের পাশা-পাশি দেশের অন্যান্য শহরে চালান দেয়া হচ্ছে ।

বাঘা উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, এ উপজেলায় কোরবানী উপযোগী প্রায় ১৫ হাজার গরু রয়েছে। এ দিক থেকে আমরা চাহিদা ধরেছি প্রায় ১২ হাজার । বাঁকি উদ্বৃত্ত তিন হাজার গরু এলাকার বাইরে ঢাকা-সহ বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছে। এর বাইরেও ছাগলের পর্যাপ্ত আমদানি রয়েছে এ উপজেলায় ।

বাঘার সুশীল সমাজের লোকজন জানান, এ অঞ্চলে মধ্যে রাজশাহী সিটি হাট এবং নাটোর ও পাবনার একটি অংস নিয়ে অরনকোলা হাট এবং গোপালপুরে সপ্তায় দু’দিন করে গরু-ছাগলের হাট বসে। এর মধ্যে- রাজশাহীর সিটি হাট-সহ পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরের হাট বসে প্রতি শনিবার, বাঘার রুস্তমপুরে বুধবার এবং চন্ডিপুরে হাট বসে শুক্রবার। অপর দিকে নাটোর জেলার তেবাড়িতে হাট বসে প্রতি রবিবার ও গোপাল পুরে সোমবার । এ ছাড়াও পাবনার অরণ কোলায় হাট বসে প্রতি শুক্র ও মঙ্গলবার।

সরেজমিন গত শুক্রবার বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর গরু হাট ঘুরে দেখা গেছে, বেচা-বিক্রি বেশ জমে উঠেছে। সকাল থেকে এ হাটে গরু আসতে শুরু করছে। এরপর একটানা সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে অসংখ্য গরু কেনা-বেচা। ক্রেতারা বলছেন , এ হাটে 1 লক্ষ ২০-৩০ হাজার টাকার মধ্যে গরু কয় করলে ক্রেতারা লাভবান হচ্ছেন। প্রক্ষান্তরে বর্তমানে মাংসের বাজার মূল্য হিসাব কেরে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে গরু ক্রয় করলে তার দাম অনেক বেশি পড়ে যাচ্ছে।

তবে গরু ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ উপজেলায় দুইটি পশু হাট এবং এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এসে গরু কিনে সেগুলো বিভিন্ন শহরে আমদানি করছেন।এর ফলে এ অঞ্চলে যারা কোরবানী কেনার জন্য হাটে আসছেন তাদেরকে আনুপাতিক হারে একটু বেশি দামে গরু-ছাগল ক্রয় করতে হচ্ছে।

ঢাকার গরু ব্যবসায়ী করিম মিঞা জানান, গরুর ব্যবসা অনেকটা ভাগ্যের উপরেও নির্ভর করে। তিনি বলেন, গত বছর ঈদউল আযহার পূর্বে তিনি ৩০ টি গরু কিনে ব্যবসায় লচ করে ছিলেন। কারন সেইবার মহামারি করোনার মধ্যেও গরুর আমদানি অনেক বেশি ছিল। এ দিক থেকে তিনি গত দুই বছর পূর্বে ২০ টা গরুতে খরচ বাদে প্রায় একলক্ষ টাকা লাভ করে ছিলেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।


প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২২ | সময়: ১:৫৩ অপরাহ্ণ | সানশাইন