সর্বশেষ সংবাদ :

গ্রাহকদের আস্থা বিশ্বাসের নাম আল-আকসা 

শাহ্জাদা মিলন

শিক্ষা নগরী রাজশাহী এখন বহুতল ভবনে ঢাকছে। বিভাগীয় শহর ও নিরিবিলি হওয়ায় সকলের পছন্দের জায়গায় পরিণত হয়েছে রাজশাহী। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কোলাহলমুক্ত হওয়ায় ভবিষ্যত জীবনে নিজের একটি বাড়ির স্বপ্নে এ শহরে যে কয়েকজন আবাসন ব্যবসায়ীরা বহুতল বাড়ি নির্মাণ করছেন তার মধ্যে আল-আকসা ডেভেলপারস প্রা: লি: অন্যতম। মহানগরীর প্রায় প্রত্যেকটি জনবহুল স্থানগুলোতে চোখে পড়ছে এই প্রতিষ্ঠানটির চোখ জুড়ানো ভবনগুলো। আলাদা ডিজাইন,আধুনিক নকশা,ত্রুটিমুক্ত জমি, নির্ধারিত সময়ের আগেই মালিকদের হস্তান্তর করানোর ফলে এই প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছরের মধ্যেই প্রথমসারিতে রয়েছে ক্রেতা ও জমির মালিকদের কাছে।

 

 

নির্মাণাধীন আদরি টাওয়ার – ফাইল ছবি

 

২০১০ সালের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত রাজশাহীতে বহুতল ভবন ছিল হাতে গোনা। চাহিদা থাকলেও দেশের বড় বড় আবাসন ব্যবসায়ীরা রাজশাহীতে বিনিয়গ করতে আস্থা সংকটে ভোগার সময় স্থানীয় অধিবাসী মিজানুর রহমান কাজী মনোযোগি হন এ ব্যবসায়। নিষ্ঠা ও সঠিক সময়ে বাড়ি হস্তান্তর, বাড়ির তৈরির মানসম্পন্ন সামগ্রী ব্যবহার করায় ফ্লাটগুলোতে নতুন করে মালিকদের খরচ করার দরকার না পড়ায় প্রতিনিয়ত আল-আকসায় জমির মালিক ও ফ্লাট কিনতে ক্রেতাদের চাহিদা সৃষ্টিতে সহায়তা করছে।

 

আল-আকসা ডক্টরস টাওয়ারের জমির মালিক গোলাম মওলা ডলার বলেন, আমাদের সাথে যে চুক্তি ছিলো তার তিন মাস আগেই আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে এই প্রতিষ্ঠান। কাজের মান ভালো লেগেছে আমার। সবচেয়ে বড়কথা আন্তরিকতার সাথে কোন ঝামেলা ছাড়াই গুণগতমান রেখে আমরা বুঝে পেয়েছি।

 

 

নির্মাণাধীন রিভেরি টাওয়ার – ফাইল ছবি

আল-আকসার নিমার্ণাধীন রাজশাহীর পুরাতন পাসপোর্ট অফিসের সামনে অবস্থিত অর্কিড ভবনের জমির মালিক তাহমিনা রহমান বলেন, আল-আকসার কাজের মান খুবই গুণগত সম্পন্ন মনে হয়েছে। তাদের ডিজাইনগুলো আকর্ষনীয়। যেসময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা সেই সময়ে আশা করছি সম্পন্ন করে দিবে।

 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান কাজী – ফাইল ছবি

আল-আকসা প্রা: লি: প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান কাজী আবাসন প্রতিষ্ঠান রিডা’র সাধারন সম্পাদক। তিনি জানান, ২০১৫ সালে ডিসেম্বর মাসে তাদের প্রথম প্রজেক্ট শুরু হয় আল-আকসা কাঞ্চন টাওয়ার রাজশাহী লক্ষীপুর সিন্ডবি মোড়ে। সেসময় যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেন সেটি হলো ডেভেলপারদের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। সেসময়ে আবাসন ব্যবসা সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিলনা নগরবাসীর। অনেকের মধ্যে ধারণা ছিলো ডেভেলপাররা সঠিক সময়ে বাড়ি সম্পন্ন করতে পারেনা। এদিক থেকে ঢাকার কিছু ভূয়া আবাসন ব্যবসায়ীদের বিষয়টি রাজশাহীর জমির মালিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। কারন তখনো এ ব্যবসা পরিচিত হয়ে উঠেনি। ফলে আমি প্রথমেই চিন্তা করেছি যদি সঠিক সময়ে ভবন নির্মাণ করে হস্তান্তর করতে পারি তবে এখানের জমির মালিকদের ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে। মানুষ এটার প্রতি আস্থা পাবে এবং এ ব্যবসা ধীরে ধীরে বিকশিত হবে।

 

কাজী বলেন,তাদের প্রথম প্রজেক্টটা জমির মালককে নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই হস্তান্তর করার ফলে অনেকেই ইতিবাচকভাবে নেন। এই জমিটি ছিলো একজন অতিরিক্ত সচিবের। যখন এই প্রজেক্টটি সফলভাবে শেষ করি তখনি মানুষের মাঝে সাড়া পড়ল আল-আকসা সময়ের আগেই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন ও ডেলিভারি দিতে সক্ষম। সেইসাথে গুণগতমান ধরে রাখার বিষয়টি আমরা সর্ব্বোচ্চ দেয়ার চেষ্টা করেছি। নিজের খুব সামান্য লাভ রেখে রাজশাহীতে এই ব্যবসা বিকশিত হোক এই লক্ষ্য প্রথম থেকে করেছি।

 

মিজানুর রহমান বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত মোট ১৫ টি প্রজেক্ট কাজ হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সম্পন্ন করা হয়েছে। আরো কয়েকটি নির্মাণাধীন রয়েছে। আরো বেশি প্রজেক্ট নিতে পারতাম তবে সেটি না করে গুণগতমান ও কোয়ালিটি কাজের দিকে গুরত্ব দিয়েছি আমরা। আমি চাই যেগুলো আমাদের প্রতিষ্ঠানের নির্মিত বিল্ডিং হবে সেগুলো যেনো মানুষের মন জয় করতে পারে এবং রাজশাহীর আবাসন খাতে ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান সিটি মেয়র রাজশাহীকে যেভাবে সাজাচ্ছেন আমিও তাকে অনুকরণ করে আমার জায়গা থেকে পর্যটন নগরীর মতো বহুতল ভবনগুলোকে সাজিয়ে তুলছি। এতে ব্যাবসায়িক কিছুটা লোকসান হলেও ভবনগুলো দৃষ্টিনন্দনরুপে তৈরি হচ্ছে।

 

আমাদের বৈশিষ্ট্য প্রতিবছর তিন থেকে চারটি ভবন নির্মানের লক্ষ্যমাত্রা থাকে। শুধু মুনাফা নয় একই সাথে সুনামও বয়ে আনুক আল-আকসা সেই দৃষ্টিকোণ মাথায় রেখে কাজ করছি। এতে করে আমার গ্রাহকরা কোয়ালিটি সম্পন্ন কাজ বুঝে পাচ্ছেন এবং প্রতিটি প্রজেক্টে নজরদারী অনেক বেশি থাকছে। অনেক প্রজেক্টের কাজ হাতে নিয়ে ডেলিভারী সময় মত না দেয়ার চেয়ে একটি সফল প্রজেক্ট নির্দিষ্ট সময়ের আগে বুঝিয়ে দেয়া আমাদের বেশি তৃপ্তিদায়ক বলে মনে করি। আমরা এমন ভাবে কাজ করি যেনো রাজশাহীর অবকাঠামোগত উন্নয়নে অংশীদার হয়ে থাকতে পারি। আমরা হয়তো বেশি দিন বাঁচবো না কিন্তু এই প্রজেক্টগুলো থাকবে ভবিষ্যত প্রজন্ম যাতে বলতে পারে উন্নত দেশের সেরা বহুতল ভবনগুলো এই রাজশাহী শহরে গড়েছে আল-আকসা। সড়কের পাশে সুন্দর ভবন গড়ে উঠলে রাজশাহী পর্যটন নগরীতে পরিণত হবে এটা আমাদের বিশ্বাস ও স্বপ্ন।

 

আবাসন ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান রিডার সাধারন সম্পাদক বলেন, বর্তমানে লক্ষীপুরে বিজয় টাওয়ার, সিএন্ডবি মোড়ে স্বাধীনতা টাওয়ার,সিএন্ডবি ও লক্ষীপুরের মাঝখানে একুশে টাওয়ার কাজ চলমান। এই নাম গুলোর বিষয়ে জানান, বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্ম যেনো বাংলাদেশের স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বারবার স্মরণ করে এই ভবনগুলোকে দেখে সেজন্য এমন নামকরণ করা হয়েছে। সরকারী মহিলা কলেজের সামনে আছে সুপ্রিম টাওয়ার,সাহেব বাজারে সম্পূর্ন ব্যবসায়িক বহুতল ভবন গোল্ডেন টাওয়ার, সাগর পাড়ায় রয়েছে সাগর বিলাস, পুরাতন পাসপোর্ট অফিসের সামনে রয়েছে অর্কিড,উপশহর আমবাগানে রয়েছে আদরী এই প্রজেক্টগুলো চলমান। এখন পর্যন্ত চারটি প্রজেক্ট হস্তান্তর করেছি সেগুলো হচ্ছে কাঞ্চন টাওয়ার, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ গেটের সামনে আল-আকসা ডক্টরস টাওয়ার,উপশহর উত্তরা ক্লিনিকের মোড়ে আল-আকসা সাউথ ব্রিজ,পদ্মা আবাসিকে আছে আল-আকসা দক্ষিনা নিলয়। এই চারটি প্রজেক্ট ২০১৬ সাল থেকে সিরিয়াল অনুযায়ি হস্তান্তর করতে সক্ষম হয়েছি। নতুন প্রজেক্টের মধ্যে রয়েছে লক্ষীপুর ঝাউতলা মোড়ের সামনে আল-আকসা ডেফোডিল, তেরোখাদিয়া মহিলা ক্রিড়া কমপ্লেক্সের সামনে আল-আকসা ভিস্তা,দোসর মন্ডলের মোড়ে আল-আকসা রয়েল প্যালেস,জেলখানা গেটের সামনে আল-আকসা রিভেরি টাওয়ার।

 

তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্য আল-আকসার ব্যাবস্থাপনা পরিচালক জানান, রাজশাহী দিনদিন উন্নত হচ্ছে। এই উন্নতির কারনে মানুষের আশা ও উদ্দীপনা বাড়ছে। আমাদের মাননীয় মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সাহেব মেধা ও সৃজনশীল চিন্তার মাধ্যমে রাজশাহী শহরের আমূল পরিবর্তন করছেন। ঠিক একই ভাবে ভালো চিন্তাধারা নিয়ে তরুণদের আবাসন খাত সম্পর্কে ও বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী সম্পর্কে ভালো ধারণা নিয়ে এ খাতে আসার আহ্বান জানান তিনি। অনেকে সাধারন ধারণা নিয়ে টাকা বিনিয়গ করেছেন ফলে ব্যবসায়ের পরিবেশ নষ্ট হওয়া ও তাদের ক্ষতিগ্রস্থ  হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকবে। জমি কেনা থেকে শুরু করে ভবন পুরো সম্পন্ন করার জ্ঞান থাকলে এ ব্যবসায় টিকে থাকা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

রাজশাহীর আবাসন ব্যবসায়ীরা বড়বড় ভবন নির্মাণে ভূমিকা পালন করছেন। এখানে একটি সংগঠন রয়েছে রিডা। এর মাধ্যমে ভবন নির্মান কেনা বেচা সংক্রান্ত সকল বিষয়ে সঠিক ধারণা ও নির্ভয়ে বাড়ির মালিকরা বহুতল ভবন গড়ার ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে পারেন। এর বাইরে অখ্যাত নামসর্বস্ব ডেভেলপার কোম্পানীর মাধ্যমে ভবন নির্মাণের সহায়তা নিতে গিয়ে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকতে পারে। বহুতল ভবন নির্মানের ফলে রাজশাহীর অন্তত চারশো বিঘা জমি বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।

প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন,কিছু সমস্যা থাকবেই সব জায়গায়। এগুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে রিডা কাজ করছে। রাজশাহী শহরকে ঘিরে যে স্বপ্ন দেখছে মানুষরা সেই স্বপ্ন পূরণের কারিগর হচ্ছেন মাননীয় মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন । উনি রাজশাহী শহরকে যেমন বিশ্বের দরবারে পরিচিত করিয়েছেন তেমনি বাংলাদেশের মধ্যে স্বপ্নের শহর রুপে সাজাচ্ছেন এই সিটিকে। আমি বিভিন্ন স্থানে গিয়েছি অনেক ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, রাসিক মেয়রের মতো একজন নেতা যদি আমাদের থাকতো তাহলে তাদের শহরও অনেক এগিয়ে যেতো। আধুনিক রাজশাহী গড়তে লিটন ভাইয়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন নগরীর পাশাপাশি মেয়র সাহেবের স্বপ্ন পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা। তাঁর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা আবাসন ব্যবসায়ীরা আমাদের জায়গা থেকে রাজশাহীর উন্নয়নে অংশীদার হয়ে পাশে থাকতে চাই।

সানশাইন / শামি

 


প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২২ | সময়: ১:৫২ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine