দুর্গাপুরে খাসজমিতে দুই বিএনপি নেতার পুকুর খনন

স্টাফ রিপোর্টার, দুর্গাপুর: রাজশাহীর দুর্গাপুরে সরকারি খাস জমি দখল করে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি দলীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইস্রাফিল হোসেন ও তাঁর সহযোগী গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে। পুকুর খনন করেই থেমে থাকেননি ইস্রাফিল আলম ও গোলাম মোস্তফা। খনন করা পুকুর থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাটি বিক্রি করেছেন তারা। এলাকার ভুক্তভোগী লোকজন এ ব্যাপারে ভূমি অফিস সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিলেও সরকারি সম্পদ রক্ষায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া মৌজার (জেএল ১৫, দাগ নং ১৩১৫, পরিমাণ এক দশমিক ৬৩ একর) তফসীলের এক নং খাস খতিয়ানের ওই জমিটি দখল করে সেখানে পুকুর খনন করেন বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা ও জয়নগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা ইস্রাফিল হোসেন। তফসীলে বর্ণিত জমি ছাড়াও আশপাশের আরো কয়েক বিঘা খাস জমি দখলে নেন তারা। দখলে নেয়া জমিতে টানা দেড় মাস পুকুর খনন কাজ করেছেন। আর পুকুর থেকে খনন করা মাটি বিক্রি করেছেন এলাকার লোকজনের কাছে। এভাবে দেড় মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাটি বিক্রি করেছেন তারা।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী লোকজন গত ৪ এপ্রিল উপজেলা নিবার্হী অফিসারের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে লক্ষণখলসি ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। উপজেলা নিবার্হী অফিসারের আদেশ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করলেও সেই তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফার কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে বিষয়টি চেপে যান ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অহিদুল ইসলাম। ফলে খাস জমিতে পুকুর খনন করে জমিটি নিজের বলে জায়েজ করে নেন বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা।
জানতে চাইলে লক্ষণখলসি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অহিদুল ইসলাম এ ধরনের অভিযোগ পাননি বলে দাবি করেছেন।
সরকারি খাস জমি দখল, ভুয়া দলিল তৈরি, এলাকার সাধারণ নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও নারী কেলেঙ্কারি সহ প্রায় এক ডজন অভিযোগ রয়েছে বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে। গোলাম মোস্তফার ব্যবসায়িক সহযোগী জয়নগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা ইস্রাফিল হোসেনের বিরুদ্ধেও রয়েছে মাদক সেবনের অভিযোগ। এই দুই বিএনপি নেতা উভয় যোগসাজশ করে এলাকায় নানা রকমের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেন না। কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো তাকেই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন তারা।
এ ব্যাপারে কথা বলা হলে বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তবে খাস জমি দখল করে পুকুর খননের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করলেও কৌশলে এ প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান তিনি। অপরদিকে, বিএনপি নেতা ইসরাফিল হোসেনের সাথে কথা বলতে তার এলাকায় গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।


প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২২ | সময়: ৬:১১ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ