বাগমারায় পানি প্রবাহ বন্ধ করে পুকুর খনন, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা স্

টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারায় ফ্রি স্টাইলে চলছে যত্রতত্র অবৈধ পুকুর খনন। কোন ভাবেই টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছে না পুকুর খননকারীদের লাগাম। বর্ষায় জলাবদ্ধতাসহ কৃষি জমি অকেজো হয়ে যাওয়ার আশংঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বাগমারায় বিভিন্ন বিলে জোরশোরে চলছে পুকুর খননের অসম প্রতিযোগীতা।
উপজেলা শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বিনোদপুর মৌজায় মৃত তাছির উদ্দীনের পুত্র তেঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজিম উদ্দীন প্রায় পাঁচ একর জমিতে পুকুর খনন করেছেন (খনন কার্য শেষ পর্যায়ে)। তিনি প্রায় একশত ফুট সরকারি ব্রিজের মুখ বন্ধ করে পুকুরের মোহনা তৈরী করেছেন।
অপর দিকে একই মৌজায় সাবের আলী প্রামানিকের পুত্র জালাল উদ্দীন একই ব্রিজের অপর প্রান্তের পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে পুকুর খননের মাধ্যমে মাছ চাষ করছেন। ওই পুকুরে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার টানিয়ে পুকুর পাহারা দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
এছাড়াও শুভ ডাঙ্গা ইউনিয়নের রামপুর মরা বিলে শাহরিয়া আলী নামক এক শিক্ষক ৪/৫টি ভেকু মেমিনে প্রায় ১০/১১ একর জমিতে দিনে রাতে পুকুর খনন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই পুকুর খনন বন্ধে এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়। পুলিশ ২/১ বার ভেকুর চাবি কেড়ে নিলেও অজ্ঞাত কারণে পুকুর খনন চলমান।
গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের তেলিপুকুর নামক স্থানে প্রায় ৮ একর জমিতে পুকুর খনন, কাচারীকোয়ালী পাড়া ইউনিয়নের সামনে ৭ একর জমিতে পুকুর খনন, ভবানীগঞ্জ পৌর সভার ভবানীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের পাশে প্রায় ১০ একর ফসলী জোতজমা নষ্ট করে পুকুর খনন করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝিকড়া ইউনিয়নের ঝিকড়া মৌজা বাগমারা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী মোশারফ হোসেন সরকারি ৩৩ শতক জমি দখল সহ প্রায় ৩ একর ফসলী জমি নষ্ট করে পুকুর খনন শুরু করেছেন।
অন্য দিকে ঝাড়গ্রাম মৌজায় আশরাফুল ইসলাম নামক অবসর প্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্য পুকুর খননের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। সূত্র জানায়, যেকোন সময় আশরাফুল ইসলাম পুকুর খনন শুরু করবেন। ৪৩৫৩/২০১৭ এর গত ০৩/০৪/২০১৭ ইং এর রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ থেকে রাজশাহীর বাগমারায় ফসলী জমিতে পুকুর খননে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পক্ষে বাইগাছা গ্রামের মৃত তাহের উদ্দীন সোনারের পুত্র রিয়াজ উদ্দীন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক, বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক সুফিয়ান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শুক্রবার বিকেলে পুকুর খননকারী মাস্টার কাজিম উদ্দীনের কাছে সরাসরি জানতে চাইলে, তিনি বলেন, মাটির নিচে পাইপ দেয়া আছে পানি প্রভাহে কোন সমস্যা সৃষ্টি হবে না।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক সুফিয়ান মুঠোফোনে বলেন, আমি বাহিরে আছি, অবস্থান জেনে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২২ | সময়: ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ