স্বপ্ন দেখাচ্ছে রঙিন মাছ

উপল আরাফাত: করোনার সময়ে বেশিরভাগ ব্যবসায় ভাটা পড়েছিল। কারণ, মানুষকে ঘরে বসে থাকতে হয়েছিল। তবে এ ব্যবসাটি ব্যতিক্রম। অনেকটা অলস সময় পার করার সময় অনেকটা চুপিসারে শহরে মানুষ রঙিন মাছের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। ধীরে ধীরে ব্যবসাটা করোনার দুই বছরে বেশ প্রসার লাভ করেছে। সৌখিনতায় ভরপুর এ রঙিন মাছে এখন অনেকেই স্বপ্ন দেখছেন নিজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। আমাদের দেশে ৬০০ কোটি টাকার বেশি রঙিন মাছের বাজার আছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অর্নামেন্টাল ফিস ফারমার্স সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আসাদুজ্জামান বিল্পব।
রাজশাহী মহানগরীর কয়েকদাঁড়া এলাকায় ‘জলপরী’ রঙিন মাছের প্রকল্প। রেজওয়ানুল হক হেলাল নামে এক ব্যক্তি গড়ে তুলেছেন রঙিন মাছের এ বিশাল প্রকল্প। সেখানে গেলে দেখা যাবে পানিতে ভাসছে, ডুব দিচ্ছে নানা রঙের মাছ। লাল, নীল, কমলা, কালো, বাদামি, হলুদ রঙের মাছের ছড়াছড়ি। গোল্ড ফিশ, কমেট, কই কার্ভ, ওরেন্টা গোল্ড, সিল্কি কই, মলি, গাপটি, অ্যাঞ্জেল প্রভৃতি বর্ণিল মাছ দেখলে চোখ জুড়ায়, মন ভরে যায়। এমন বড় প্রকল্প করার পরেও রঙিন মাছের সঙ্গে যারা জড়িত আছে তাদের মধ্যে নেই কোন সমন্বয়। সম্ভাবনাময় এ খাতটির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের এক ছাউনির নিচে আনতে রাজশাহী বিভাগীয় রঙিন মৎস্য খামারী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জলপরী প্রকল্পের স্বত্ত্বধিকারী রেজওয়ানুল হক বলেন, একটা সময় ছিল মাছকে আমরা শুধু প্রাণিজ আমিষের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ক্ষেত্র ভেবেছি, কিন্তু এ রঙিন মাছ এখন সৌন্দর্য ও রুচির বাহক হিসেবে কাজ করছে। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের কাছেই রঙিন মাছের আবেদন রয়েছে। রকমারি বাহারি মাছের বিচরণ চিত্তের সুখের জন্য রাখতে পারে বড় অবদান। মাছের এ চাঞ্চল্যের প্রভাব ঘটে মানুষের মধ্যেও। তাই তো একশ্রেণির সৌখিন মানুষের কাছে এ মাছ বেশ প্রিয়।
তিনি আরো বলেন, আজকের দিনে, ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইনের ক্ষেত্রে স্থপতিদের কাছে রঙিন মাছ এক অপরিহার্য উপাদান। এভাবেই বহু ব্যবহারে রঙিন মাছের বাজার যেমন বাড়ছে, একই ভাবে অল্প দিনে এর একটি রপ্তানি বাজারও গড়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস।
বাংলাদেশ অর্নামেন্টাল ফিস ফারমার্স সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আসাদুজ্জামান বিল্পব বলেন, করোনার সময় রঙিন মাছের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। স্কুল-কলেজ ছিল বন্ধ, ছেলেমেয়েদের ঘরে রেখেই প্রকৃতির কাছাকাছি রাখতে বাবা-মায়েরা ঘরে অ্যাকোরিয়ামের ব্যবস্থা করেন। আর তাতেই রঙিন মাছের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। একটা সময় শহরের অভিজাত শ্রেণিদের মধ্যে সামান্য কয়েকটি বাড়িতে অ্যাকুরিয়ামে রঙিন মাছ দেখতে পাওয়া যেত। কিন্তু এখন এর প্রসার ঘটেছে। একটি কাঁচের গ্লাসেও এখন মাছ রাখা যায়।
ইন্টারন্যাশনাল অর্নামেন্টাল ফিস কাউন্সিলের বরাত দিয়ে শেখ আসাদুজ্জামান বিল্পব আরো জানান, এক যুগ আগেই বাংলাদেশে রঙিন মাছের বাজার ছিল ৬০০ কোটি টাকা। এখন তা বেড়েছে নিশ্চিত। উদ্যোক্তরা বর্তমানে দেশের মধ্যে যে রঙিন মাছের চাহিদা আছে তার ৯০ ভাগ পুরণ করছেন। ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে রঙিন মাছকে দেশের বাহিরে রপ্তানীমুখি করা হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২২ | সময়: ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর