মান্দায় চারকন্যাসহ বিধবা নারী নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ

স্টাফ রির্পোটার: নওগাঁ জেলার মান্দার উপজেলার এক বিধাবা নারীর পরিবারের ৫ সদস্যের উপর হামলা চালিয়েছে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। হামলার শিকার হয়ে বিধবা নারী তার মেয়েদের নিয়ে মামলা দায়েরের জন্যে একাধিকবার থানায় গেলেও মামলা নিতে পুলিশ নারাজ ও উল্টো হুমকি প্রদর্শন করায় নিরাপত্তাহীতায় ভুগছেন বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা।
বিধবার পরিবার ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কয়াপাড়া গ্রামে ২৮ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে নুর ইসলাম (২৮) এর ছেলে জাহিদ হাসান (১০) খেলাধুলার সময় কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে বিধবা কাজল রেখা (৪২) এর মেয়ে হাসিমুনি (৯) কে চর থাপ্পর মারে। বিধবা বাড়ি ফিরে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাওয়া মাত্রই সিরাজ আকন্দের ছেলে নুর ইসলাম, মৃত ওয়াজ আকন্দের ছেলে আলাল আকন্দ (৩৮) ও তার ছোট ভাই কাশেম আকন্দ (২৭)সহ তাদের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৭), মরিয়ম বেগম(২৬), পারভিন বেগম (২৫) অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। কাজল রেখা নিষেধ করলে তারা লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ী ভাবে মারপিট করতে থাকে। এসময় মাটিতে লুটিয়ে কাজল রেখা চিৎকার করায় তার মেয়ে সাদিয়া খাতুন (১২), জুই আক্তার (১৬), জেসমিন সুলতানা (২৩) আসা মাত্রই তাদেরকেও মারপিট করে জখম করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।
বিধবা কাজল রেখা বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমার ছেলে সন্তান না থাকায় চার মেয়ে সন্তানকে মানুষ করার জন্যে মানুষের বাসায় কাজ করে মানবতার জীবন যাপন করে আসছি। এমতঅবস্থায় আমাদেরকে বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করার জন্য রাতে আধারে বাড়িতে ইট পাটকেল ফেলে ও বাড়ি-ঘর ছেড়ে যাওয়ার জন্য ভয় ভীতি দেখাতে থাকেন তারা। গত ২৮ জানুয়ারি আমার পরিবারকে তারা মারতে মারতে বলে, তোদের মারার বহুদিনের ইচ্ছাপূর্ণ হলো, তার নির্মম আঘাতে আমার মেয়ের হাতের হাড্ডি সরে গেছে, আমি এখন ডান চোঁখ দিয়ে ভালোভাবে দেখতে পারছিনা। ঘটনার পর আমি থানায় যতবার গিয়েছি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমার মামলা না নিয়ে অভিযোগ শুনে এস.আই আতিউর রহমানকে বিষয়টি দেখতে বলেন। এস.আই আতিউর রহমান প্রভাবশালীদের কথায় আমাকে উল্টো মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছেন। এমন অবস্থায় আমি আমার মেয়েদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি জানান।
মামলা ও আসামীদের গ্রেপ্তার করার কথা মান্দা থানার এস.আই আতিউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা উভয় আত্নীয় হওয়ায় মিংমাসার চেষ্টা করা হয়েছিলো। তবে বিধাবা নারী পরে থানায় না আসায় তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানেও সাধারণ ডায়রি করার জন্যে বিধবা নারীকে থানায় ডাকলে তিনি আর যোগযোগ করছেন না। এবিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী নারীকে থানায় পাঠিয়ে দেন আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২২ | সময়: ৬:৩৫ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর