কোভিড: তিন সপ্তাহ পর শনাক্তের হার ২০ শতাংশের নিচে

সানশাইন ডেস্ক: করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক ধরন ওমিক্রনের দাপটে চূড়ায় ওঠা সংক্রমণের হার আবার ২০ শতাংশের নিচে নেমেছে তিন সপ্তাহ পর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৪২ হাজার নমুনা পরীক্ষা করে আট হাজার ১৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
তাতে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে দৈনিক শনাক্ত রোগীর হার দাঁড়াচ্ছে ১৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা গত ১৭ জানুয়ারির পর সর্বনিম্ন। ওমিক্রনের বিস্তারের মধ্যে গত ১৭ জানুয়ারি নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী শনাক্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়ায়। সেদিন শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এরপর বাড়তে বাড়তে ২৮ জানুয়ারি তা ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ হয়, যা এ যাবতকালের সর্বোচ্চ।
এদিকে টানা ছয় দিন দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজারের নিচেই রয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছিল, এক পর্যায়ে ২৬ জানুয়ারি তা ১৬ হাজার ৩৩ জনে পৌঁছায়। এরপর ৪ ফেব্রুয়ারি শনাক্ত রোগী ১০ হাজারের নিচে নেমে আসে। গত চার দিন ধরে তা ৮ থেকে ৯ হাজারের মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৮৭ হাজার ২৭১ জনে। একদিনে আরও ৩৩ জনের মৃত্যু হওয়ায় দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮ হাজার ৭০৩ জন। সরকারি হিসাবে গত এক দিনে দেশে সেরে উঠেছেন ১০ হাজার ৭২৫ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত ১৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮২ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।
এই হিসাবে দেশে এখন সক্রিয় কোভিড রোগীর সংখ্যা দুই লাখ ২৪ হাজার ৯৮৬ জন। অর্থাৎ এই সংখ্যক রোগী নিশ্চিতভাবে সংক্রমিত অবস্থায় রয়েছে। তবে উপসর্গবিহীন রোগীরা আক্রান্তরা এই হিসাবেই আসেনি। মহামারীর মধ্যে সার্বিক শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আর মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫২ শতাংশ।
গত এক দিনে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে পাঁচ হাজার ৩৬৩ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা, যা মোট আক্রান্তের ৬৬ শতাংশের বেশি। যে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ, নয় জন নারী। তাদের মধ্যে ১৫ জন ছিলেন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের ছয় জন, রাজশাহী বিভাগের চারজন, খুলনা বিভাগের দুইজন, বরিশাল বিভাগের একজন, সিলেট বিভাগের দুইজন, রংপুর বিভাগের একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন দুইজন।
তাদের ২০ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি, ছয়জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর,চারজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, দুইজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর এবং একজনের বয়স ছিল ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এ বছর ১ ফেব্রুয়ারি তা ১৮ লাখ পেরিয়ে যায়। তার আগে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে গত বছরের ২৮ জুলাই দেশে রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়।
প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত বছর ৫ ডিসেম্বর কোভিডে মোট মৃত্যু ২৮ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তার আগে ৫ অগাস্ট ও ১০ অগাস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যুর খবর আসে, যা মহামারীর মধ্যে এক দিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা। বিশ্বে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৫৭ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি মানুষ। বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৪০ কোটি ১২ লাখ।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২ | সময়: ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ