সর্বশেষ সংবাদ :

মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দোকান ঘর বিক্রির অভিযোগ, লীজ হস্তান্তরের পায়তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার আদমদীঘির শেষ সীমানায়

রাণীনগরে লীজকৃত সরকারি খাস জায়গায় নির্মাণ করা দোকান ঘর লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে। এই সম্পত্তিগুলো বিক্রি কিংবা হস্তান্তরের বিধান না থাকলেও অনেক সময় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কিছু কিছু দোকান ঘর ২-৩বার পর্যন্ত টাকার বিনিময়ে হাত বদল হয়েছে বলে জানা যায়। দোকান ঘর বিক্রি হলেও জোরালো পদক্ষেপের অভাবে দিন দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই প্রক্রিয়া মহোৎসবে পরিণত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কুজাইল বাজারে আতাউর রহমান নামে এক ব্যক্তি সরকারের কাছ থেকে লিজ গ্রহণ করা ২শতক জায়গার উপর নির্মিত একটিমাত্র দোকান ঘর প্রায় ২৫লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিকার চেয়ে জায়গার প্রকৃত দখলদার আমির হোসেন মিনার ছেলে আপন নওগাঁ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুজাইল বাজারে আতাউর রহমান মাখন নামে এক ব্যক্তি ২শতক ভিপি সম্পত্তির উপর একটি ঔষধের দোকান দিয়ে ব্যাবসা করে আসছিলেন। হঠাৎ করে গত মাসে আতাউর রহমান ওই সম্পত্তিসহ দোকান ঘরটি কুজাইল উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত মাদার মহন্তের ছেলে হরিদাস মহন্তের কাছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা দিয়ে বিক্রয় করার অভিযোগ উঠেছে (যার ভিপি কেস নাম্বার ১২/৮৭)। এবং হরিদাস মহন্ত ওই সম্পত্তিসহ দোকান ঘরটি নিজের নামে লীজ নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সরকারি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় আইনগত ভাবে অপরাধ বলে মৌখিক ভাবে তাদেরকে জানান। তার পরও দুইপক্ষ টাকা লেনদেন করে ওই সম্পত্তিটি হস্তান্তর হচ্ছে এমন খবর পেয়ে আতাউর রহমানের চাচা মৃত আমির হোসেন মিনার ছেলে আপন মিনা ওই সম্পত্তিটি তার বাবার নামে ছিল দাবি করে হস্তান্তর কিম্বা বিক্রয় না করে আপন গংদের নামে লীজ দিতে গত ২ফেব্রæয়ারী নওগাঁ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন।

অভিযোগকারী আপন জানান, আমরা তখন ছোট ছিলাম। আমার বাবা আমির হোসেন মিনা ও সফি উদ্দিন মিনা দুই ভাই। জায়গাটি বাবার নামে ছিল। প্রায় ১৯৮৪ সালে বাবা ওই সম্পত্তিতে বেড়াদিয়ে একটি ঘর নির্মাণ করে মুদিখানার দোকান চালু করেন পরে বড় আব্বা সফি উদ্দিন মিনার ছেলে আতাউর রহমান মাখন ৯০দশকে ওই জায়গাতে ওষুধের দোকান শুরু করে। এক পর্যায়ে কৌশলে গোপনে সে ওই জায়গাটি তার নামে লীজ নেয়। সেই জন্য পারিবারিক দ্বন্দ এখনও চলমান আছে। এর মধ্যে সে ওই সম্পত্তিসহ দোকান ঘরটি ২৫লাখ টাকা দিয়ে বিক্রি করছে বলে জানতে পেরে আমি অভিযোগ প্রদান করেছি।

এই বিষয়ে মুঠোফোনে আতাউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিয়ে গনমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কোন কথা বলবেন না বলে মোবাইলের সংযোগ কেটে দেন।

ক্রেতা হরিদাস অর্থের লেনদেনেরর মাধ্যমে দোকান ঘরটি হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অনেকেই অর্থের বিনিময়ে খাস জায়গা হাতবদল করছেন। তাই আমিও সুযোগ পেয়েছি বলেই কারো অনুমতি ছাড়াই টাকার মাধ্যমে ওই জায়গাটি নিয়েছি। তবে কতো লাখ টাকার বিনিময়ে দোকান ঘরটি কিনেছেন বারবার জানতে চাইলেও বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো জানান, এই বিষয়টি জানার পর আমি সরেজমিনে গিয়ে ওই বাজারের দোকানদারদের নিষেধ করে এসেছি। এরপরও যদি কেউ জায়গাসহ দোকান ঘর হাতবদল করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২২ | সময়: ৮:০৮ অপরাহ্ণ | সুমন শেখ