বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতীতে দেশ-ন্যাশনাল পরিবহন শ্রমিকরা

স্টাফ রিপোর্টার: নিয়োগপত্র ও মজুরি বৃদ্ধি না করায় রাজশাহী থেকে ঢাকা চলাচলকারী দেশ ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের চালকরা কর্মবিরতি পালন করছে। ফলে এই দুটি কোম্পানির বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার দুপুর থেকে ওই দুই কোম্পানির শ্রমিকরা গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে অন্যসব ঢাকাগামী বাস চালু আছে। তবে রাতের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকদের একটি সূত্র।
শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী একতা পরিবহনের একজন চালক প্রতি টিপে পেয়ে থাকেন এক হাজার ৬০০ টাকা। সুপারভাইজার ৬০০ টাকা ও হেলপার পায় ৫৫০ টাকা। শুধু তাই না, এপরিবহনের শ্রমিকরা পেয়ে থাকে বোনাসও। একতা পরিবহনে ৩১ সিট পূর্ণ হলে শ্রমিকরা একটি যাত্রীর ভাড়া বোনাস পেয়ে থাকেন। ৪০ সিট পূর্ণ হলে পেয়ে থাকেন ২টি যাত্রীর ভাড়া। এছাড়াও যাত্রাপথে শ্রমিকদের খাবারের সুব্যবস্থাও করা হয় কোম্পানির পক্ষ থেকে।
একই জায়গা থেকে ন্যাশনাল ও দেশ ট্রাভেলস্রে চালকরা পেয়ে থাকেন এক হাজার ২০০ টাকা, সুপারভাইজার ৫০০ টাকা ও হেলপার পেয়ে থাকেন ৪৭৫ টাকা। একদিকে বেতন কম, অন্যদিকে কোন সুযোগ-সুবিধাও দেয়া হয় না শ্রমিকদের কোম্পানির পক্ষ থেকে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেয়া দেয়।
মোটর শ্রমিক নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ করে ঢাকাগামী শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির কথা বলে আসছে। শুধু তাই না, কোম্পানির সঙ্গে শ্রমিকরা সবচেয়ে যে বেশি সমস্যায় পড়েছেন তা হচ্ছে নিয়োগপত্র নিয়ে। নিয়োগপত্র না থাকার কারণে শ্রমিকরা সরকারি অনুদান পাচ্ছেন না।
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে শ্রমিকদের আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন সময়ে ৭০০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। অন্য ক্ষেত্রের শ্রমিকরা এ সহযোগিতা নিতে পারলেও মোটর শ্রমিকরা নিতে পারে না। কারণ নিয়োগপত্র। কোম্পানির পক্ষ থেকে শ্রমিকরা নিয়োগপত্র পেলে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় বড় অঙ্কের আর্থিক অনুদান পেয়ে থাকে। আমরা ঢাকা বাসের মালিকপক্ষকে দীর্ঘদিন নিয়োগপত্র দেয়া, বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছি।
অন্যসব কোম্পানি শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও বেতনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলেও দেশ ও ন্যাশনাল ট্রাভেলস কর্তৃপক্ষ কোনভাবেই তাদের বেতন বৃদ্ধি করবেন না। এই নিয়ে ওই দুই কোম্পানির শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
শ্রমিক নেতা মাহাতাব হোসেন চৌধুরী আরো বলেন, আমরা চাই না যে গাড়ী বন্ধ থাক। আমরা কাউকে গাড়ী বন্ধ করার কথা বলছিও না। আমরা চাই গাড়ি চলুক। অন্য কোম্পানি শ্রমিকদের বেশি বেতন দিচ্ছে তা দেখেই ওই দুই কোম্পানির শ্রমিকরা নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষে গাড়ি বন্ধ রেখেছেন। অন্যসব গাড়ি ঠিকই চলছে।
অভিযোগ করে শ্রমিক নেতা মাহাতাব হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, রাজশাহী থেকে যেসব গাড়ি ঢাকা যাচ্ছে ওইসব গাড়িগুলো গাবতলী আটকে দিচ্ছে দেশ ও ন্যাশনালের মালিক বজলুর রহমান রতন। জাহাঙ্গীর, তামান্না, এসপি সাফারী, গ্রামীন, রোড রয়েলসসহ কয়েকটি গাড়িকে রাজশাহীতে ফিরতে দেয়া হচ্ছে না বলেও তিনি জানান। বজলুর রহমান রতন ঢাকায় রাজশাহী গাড়িগুলো আটকিয়ে শ্রমিকদের উপরে দোষ চাপানোর অপকৌশল করছেন।
এ দেশ ও ন্যাশনালের মালিক বজলুর রহমান রতন উল্টো অভিযোগ করেন, কে বা কারা গাড়ি থেকে শ্রমিকদের নামিয়ে দিচ্ছে। শ্রমিক না থাকলে গাড়ি চলবে কি করে। তার বিরুদ্ধে গাড়ি আটকানোর বিষয়টি ভিত্তিহীন বলেন তিনি জানান।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২২ | সময়: ৬:০২ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর