রাজশাহীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় শহিদ সানিকে স্মরণ

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর রাজশাহী পলিটেকনিক শাখার তৎকালীন সহ-সভাপতি শহিদ রেজওয়ানুল ইসলাম চৌধুরী সানির ১২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছে রাজশাহী জেলা ও মহানগর ছাত্রমৈত্রী। শুক্রবার বেলা ১২টায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শহিদ সানির প্রতিকী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। পরে সেখানে সানির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
এরপর ছাত্রমৈত্রীর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপির পক্ষে সানির স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান পার্টির জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ওহিদুর রহমান। বক্তব্য দেন- রাজশাহী মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু ও শহিদ সানির বাবা মো: নান্নু।
এসময় বক্তারা বলেন, ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি সাম্প্রদায়িক অপশক্তি জামায়াত-শিবির থেকে আসা ‘ছাত্রলীগ’ নামধারী নিজাম ও তুষারসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে খুন হয়- রেজওয়ানুল ইসলাম চৌধুরী সানি। সর্বশেষ ২০১২ সালের শেষের দিকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নিজাম-তুষারকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।
আদালত কর্তৃক দেয়া মৃত্যুদণ্ড রায়ের এতো বছর পার হলেও তা কার্যকরের প্রক্রিয়া অদৃশ্যমান। আমরা বিভিন্ন সূত্রে খবর পাচ্ছি- সানির খুনিদের বাঁচাতে প্রভাবশালী একটি কুচক্রি মহল তাদের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তারা খুনিদের বাঁচিয়ে প্রকাশ্যে প্রমাণ করতে চায়- তারা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির গডফাদার। আমরা এই সভা থেকে তাদের হুঁশিয়ার করতে চাই, সানি হত্যাকারীদের রক্ষা করার জন্য যারাই অপচেষ্টায় লিপ্ত; তাদের শক্তহাতে প্রতিহত করা হবে।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন- ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন, মনির উদ্দীন পান্না, নাজমুল করিম অপু, মহানগর সদস্য অসিত পাল, সীতানাথ বণিক, মহানগর ছাত্রমৈত্রীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক তামিম শিরাজী, সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল করিম রেজা, চঞ্চল, পলিটেকনিক শাখার নেতা রেজাউনুল রাফি, ইখতিয়ার প্রামানিক, মহানগর ছাত্রমৈত্রীর সহ-সভাপতি সাকিব আল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় সরকার, বোয়ালিয়া থানার সভাপতি অমিত সরকার, রাজপাড়া থানার সাধারণ সম্পাদক ইফতিক হাসান, দুর্জয় দত্ত, কিশান, বিশু শেখ প্রমুখ। সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ওহিদুর রহমান।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি জামায়াত-শিবির থেকে অনুপ্রবেশকারী তৎকালীন রাজশাহী পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন তুষারের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী প্রকাশ্য দিবালোকে প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণে ধারালো অস্ত্রশস্ত্রসহ ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ছাত্রমৈত্রীর পলিটেকনিক শাখার সভাপতি কাজী আব্দুল মোতালেব জুয়েল, সহ-সভাপতি রেজওয়ানুল ইসলাম চৌধুরী সানি ও শেরাফত আলী খান বুলবুল মারাত্মক আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিনই সানির মৃত্যু হয়।
আহত জুয়েল ও বুলবুল দীর্ঘ চিকিৎসায়ও পুরোপুরি সুস্থতা ফিরে পাননি। জুয়েলের ডান হাতের চারটি আঙ্গুল কেটে বাদ দিতে হয়েছে। তার মাথা ও ঘাড়ে অজস্র আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আর বুলবুল হারিয়েছেন স্বাভাবিক স্মৃতিশক্তি। সানি হত্যার মামলায় ২০১২ সালের ১৬ মে আদালত ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন।


প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২২ | সময়: ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ